
চাঁদপুরে আধুনিক ইলিশ অবতরণ কেন্দ্র স্থাপনে কার্যক্রম শুরু
চাঁদপুরে একটি আধুনিক ইলিশ অবতরণ কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএফডিসি)। চলতি বছরের জেলা প্রশাসক সম্মেলনে দেওয়া প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে এ কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
গতকাল সোমবার (৪ আগস্ট) সন্ধ্যায় চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোহসীন উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, ২২ জুলাই বিএফডিসি চেয়ারম্যান ফারাহ শাম্মী (এনডিসি) স্বাক্ষরিত এক পত্রে এ কার্যক্রম শুরুর আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।
এর আগে ২০১৭ সালের জেলা প্রশাসক সম্মেলনেও চাঁদপুর বড় স্টেশন মাছঘাটে মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র ও হিমাগার স্থাপনের প্রস্তাব গৃহীত হয়েছিল। তবে জমির মালিকানা বাংলাদেশ রেলওয়ের হওয়ায় সেটি বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি।
নতুন উদ্যোগে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোহসীন উদ্দিন .৪০ একর জমিতে একটি তিনতলা বিশিষ্ট আধুনিক ইলিশ অবতরণ কেন্দ্র নির্মাণের প্রস্তাবনা তৈরি করে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে ৫ মে পাঠান।
আধুনিক ইলিশ মাছ অবতরণ কেন্দ্র নির্মাণের প্রস্তাবিত প্রকল্পের রূপরেখা হচ্ছে আধুনিক বরফকল, নিলামশেড, আড়তঘর, মিনি ডকইয়ার্ড, পানি বিশুদ্ধকরণ ফিল্টার, পন্টুনের পাশাপাশি মাছ হিমায়িতকরণ ও প্যাকেজিং এর আধুনিক সুযোগ সুবিধা, মৎস্য জাদুঘর, মৎস্য ভিত্তিক কর্পোরেট অফিস স্পেস, ব্যাংক এবং রেস্তোঁরার সুবিধা থাকবে।
এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে চাঁদপুরসহ দক্ষিণাঞ্চলের ছয়টি জেলার প্রায় এক কোটি মানুষ, বিশেষ করে মৎস্যজীবীরা সরাসরি উপকৃত হবেন। পাশাপাশি চাঁদপুরকে ঘিরে ইলিশভিত্তিক পর্যটন উন্নয়নেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
চাঁদপুরের প্রবীণ মৎস্য ব্যবসায়ী সিরাজুল ইসলাম বলেন, “ইলিশ ব্যবসায় দীর্ঘদিন কাজ করছি। আধুনিক অবতরণ কেন্দ্র হলে মৎস্যজীবীদের জন্য অনেক সুযোগ-সুবিধা তৈরি হবে।”
নাট্য অভিনেতা ও নির্দেশক শরীফ চৌধুরী বলেন, “এই উদ্যোগ সংস্কৃতির বিকাশ এবং দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আকৃষ্ট করতেও সহায়ক হবে।”
ব্যবসায়ী সালাম আজাদ ও সমাজকর্মী সেলিম পাটওয়ারী বলেন, “চাঁদপুরে এতদিনেও ইলিশ সংরক্ষণের কোনো আধুনিক অবকাঠামো ছিল না। বর্তমান ডিসির এই পদক্ষেপ অত্যন্ত সময়োপযোগী।”
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোহসীন উদ্দিন বলেন, “আমি চাই চাঁদপুরে কেউ যেন ইলিশ নিয়ে প্রতারিত না হয়। পর্যটকরা যেন ভালোভাবে ইলিশের স্বাদ নিতে পারেন এবং জেলার সুনাম বজায় থাকে।”
তিনি আরও জানান, প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে স্থানীয় মৎস্যজীবী নেতা ও জেলে সম্প্রদায়ের সঙ্গে একাধিক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে একটি থ্রিডি ভিডিও ডকুমেন্টারিও প্রস্তুত করা হয়েছে, যাতে পরিকল্পনাটি সবার সামনে সুস্পষ্টভাবে উপস্থাপন করা যায়।