প্রকাশ: সোমবার, ৪ আগস্ট, ২০২৫, ৮:৫১ পিএম

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী তীর্থ দাস শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে এগিয়ে চলেছেন নিজের স্বপ্নপথে।
তীর্থ জন্ম থেকেই ‘ডুচেন মিসকুলার ডিসট্রফি’ (DMD) নামক দুরারোগ্য জেনেটিক রোগে আক্রান্ত হলেও থেমে থাকেনি তার পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ ও অধ্যবসায়। প্রতিযোগিতামূলক বিভাগে কোটা ছাড়া নিজ যোগ্যতায় ভর্তি হয়ে নজির স্থাপন করেন এই মেধাবী শিক্ষার্থী।
তীর্থের চলাচল আরও সহজ করতে সোমবার (৪ আগস্ট) রূপালী ব্যাংকের অর্থায়নে তাকে একটি ইলেকট্রিক হুইলচেয়ার প্রদান করা হয়। হুইলচেয়ারটি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম তার কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে তীর্থের হাতে তুলে দেন।
উপাচার্য বলেন, “এই হুইলচেয়ার ব্যবহারের মাধ্যমে তীর্থ এখন নিজেই চলাফেরা করতে পারবে। এতে তার দৈনন্দিন জীবন যেমন সহজ হবে, তেমনি তার মায়ের ওপর নির্ভরশীলতাও কমে আসবে।” পাশাপাশি তিনি রূপালী ব্যাংককে ধন্যবাদ জানান এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য প্রতিশ্রুত অ্যাম্বুলেন্স দ্রুত সরবরাহের অনুরোধও জানান।
এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন ট্রেজারার প্রফেসর ড. জয়নুল আবেদীন সিদ্দিকী, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার প্রফেসর ড. মো. মিজানুর রহমান, ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক ড. মো. আশরাফুল আলম, সহযোগী অধ্যাপক ড. মাসুদ রানা, রূপালী ব্যাংকের ময়মনসিংহ জোনাল অফিসের ডিজিএম নাসরিন সুলতানা, ত্রিশাল শাখার এজিএম মো. মাসুম, প্রিন্সিপাল অফিসার মো. ইমরান হোসাইন এবং তীর্থর মা তাপসী রাণী দাস।
চিকিৎসকদের মতে, ডুচেন মিসকুলার ডিসট্রফি (DMD) এমন এক জেনেটিক রোগ যা ধীরে ধীরে পেশিশক্তি হ্রাস করে দেয়, বিশেষ করে পায়ের পেশিতে। এ রোগের স্থায়ী চিকিৎসা না থাকায় আক্রান্ত ব্যক্তি সময়ের সঙ্গে সঙ্গে চলাফেরায় একেবারেই অক্ষম হয়ে পড়েন। এমন বাস্তবতায় ইলেকট্রিক হুইলচেয়ারটি তীর্থর জন্য হয়ে উঠবে স্বপ্নপূরণের সহায়ক।
স্বদেশ প্রতিদিন/ আরএফ