নির্বাচন কমিশনের খসড়া অনুযায়ী কুমিল্লার মেঘনা উপজেলাকে কুমিল্লা-১ (দাউদকান্দি-মেঘনা) আসনে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব ঘিরে স্থানীয় রাজনীতিতে দেখা দিয়েছে তীব্র বিভাজন।
বিএনপির সাবেক নেতা রমিজ উদ্দিন লন্ডনী ও তাঁর অনুসারীরা এই খসড়াকে স্বাগত জানিয়ে শুক্রবার মতবিনিময় সভা করেছেন। একসময় এই আসন থেকেই ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন এমপি ও মন্ত্রী হয়েছিলেন।তাদের দাবি, ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ সরকার রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে আসন পরিবর্তন করেছিল, যা এখন কিছুটা সংশোধন হয়েছে।
অন্যদিকে শনিবার মানিকারচর বাজারে সংবাদ সম্মেলন করে উপজেলা বিএনপির নেতারা খসড়া বাতিলের দাবি জানিয়েছেন। বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া বলেন, হোমনা-মেঘনার মধ্যে রয়েছে আত্মিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক। ভোটার সংখ্যা নয়, জনমত ও বাস্তবতা বিবেচনা করতে হবে।
সাধারণ মানুষও চায় হোমনা-মেঘনা একত্রে থাকুক। স্থানীয়রা বলেন, হোমনায় যাতায়াত সহজ হলেও দাউদকান্দির সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ নেই।
ইতিহাস ঘেঁটে জানা যায়, ১৯৫৪ সাল থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত মেঘনা হোমনার অংশ হিসেবে কুমিল্লা-২ আসনের অন্তর্ভুক্ত ছিল। ১৯৯৮ সালে প্রশাসনিকভাবে মেঘনা আলাদা হলেও ভৌগোলিক, সাংস্কৃতিক এবং রাজনৈতিক বাস্তবতায় হোমনা-মেঘনা একসঙ্গেই ছিল। ২০০৮ সালে নির্বাচনের আগে একটি মহলের চাপে মেঘনাকে কৃত্রিমভাবে দাউদকান্দির সঙ্গে যুক্ত করা হয়। অথচ সেখানে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ পর্যন্ত নেই। ২০২৩ সালের নির্বাচনে আবার হোমনা-মেঘনা একত্রে কুমিল্লা-২ আসন গঠন করে ভোটগ্রহণ করা হয়। তাই এখন হঠাৎ করে খসড়া পরিবর্তনে মানুষের মনে তৈরি হয়েছে শঙ্কা, ক্ষোভ ও অনিশ্চয়তা।
১০ আগস্ট নির্বাচন কমিশনের গেজেট প্রকাশের পরই চূড়ান্ত হবে মেঘনার অবস্থান। তবে সেই অবস্থান কেবল মানচিত্রে নয়, বসে যাবে মানুষদের মনে। তাই এখানকার অনেকের প্রার্থনা এখন একটাই-ভোটের হিসাব নয়, জনগণের ইতিহাস যেন কেউ না ভুলে যায়।
স্বদেশ প্রতিদিন/ আরএফ