প্রকাশ: রবিবার, ৩ আগস্ট, ২০২৫, ৬:৪০ পিএম

বাউশিয়া ইউনিয়ন পরিষদ
মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার বাউশিয়া ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান না থাকায় টানা তিন সপ্তাহ ধরে বন্ধ রয়েছে জরুরি নাগরিক সেবা। ফলে ভোগান্তিতে পড়েছেন ইউনিয়নের সাধারণ মানুষ।
আজ রবিবার (৩ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে পরিষদে যান রড-সিমেন্ট ব্যবসায়ী ও 'মেসার্স প্রধান ট্রেডার্স' এর মালিক শাহ আলম প্রধান। ট্রেড লাইসেন্স নবায়নের জন্য গিয়েও চেয়ারম্যান না থাকায় খালি হাতে ফিরে যেতে হয় তাকে।
এছাড়া পুরান বাউশিয়ার সাব্বির হোসেন নাগরিক সনদ, চরবাউশিয়া বড়কান্দীর জসীম উদ্দিন ওয়ারিশ সনদ এবং সরকারি চাকরিজীবী আব্দুল মতিন জন্মনিবন্ধন সনদের জন্য ইউনিয়ন পরিষদে গেলেও কেউই প্রয়োজনীয় সেবা পাননি।
ইউনিয়ন পরিষদ সূত্র জানায়, গত ১৬ জুলাই থেকে চেয়ারম্যানের চেয়ারে কেউ না থাকায় পরিষদের অনলাইনভিত্তিক সব নাগরিক সেবাও বন্ধ রয়েছে।
জানা গেছে, পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মিজানুর রহমানের দীর্ঘদিন অনুপস্থিতি ও শারীরিক অসুস্থতার কারণে জেলা প্রশাসকের নির্দেশে গত বছরের ২৭ আগস্ট ১ নম্বর প্যানেল চেয়ারম্যান মো. এবাদুল হককে প্রশাসনিক ও আর্থিক ক্ষমতা প্রদান করা হয়। তবে এতে অসন্তুষ্ট হয়ে মিজানুর রহমান চলতি বছরের ১৫ এপ্রিল হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন (নং ৬৩২০/২০২৫) দাখিল করেন।
আদালত প্রাথমিকভাবে ৩ মাস এবং পরবর্তীতে ১৭ জুলাই ২০২৫ থেকে আরও এক বছরের জন্য প্যানেল চেয়ারম্যানের প্রশাসনিক ও আর্থিক ক্ষমতা স্থগিত করেন। একইসঙ্গে উচ্চ আদালত মিজানুর রহমানকে দায়িত্ব পালনে কোনও বাধা নেই মর্মে মত দেন এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা প্রদান করেন।
তবে ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. সুমন মিয়া জানান, “আইনগত জটিলতার কারণে ১৬ জুলাই থেকে চেয়ারম্যানের পদ খালি রয়েছে। আমরা শুনেছি, উচ্চ আদালত প্যানেল চেয়ারম্যানের ক্ষমতা স্থগিত করেছেন। তবে এখনও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনও লিখিত নির্দেশনা পাইনি। লিখিত আদেশ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
চেয়ারম্যানের অনুপস্থিতিতে পরিষদের কাজকর্ম স্থবির হয়ে পড়ায় সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। স্থানীয়রা দ্রুত পরিষদে স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরুর দাবি জানিয়েছেন।