
বাংলাদেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চলমান সহিংসতা, নির্যাতন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রেক্ষাপটে, 'সোচ্চার- টর্চার ওয়াচডগ বাংলাদেশ'র উদ্যোগে আয়োজিত দিনব্যাপী জাতীয় কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (২৮ জুলাই) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কলা অনুষদের শহীদ মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরী সভাকক্ষে এই কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
কর্মশালায় সারাদেশের বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৪৫ জন শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।
এসময় মানবাধিকার রক্ষায় ক্যাম্পাসভিত্তিক অ্যাডভোকেসি, সহিংসতা প্রতিরোধ, আইনি সহায়তা, ট্রমা ম্যানেজমেন্ট এবং গবেষণার ভূমিকা নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা হয়। এতে দেশের খ্যাতনামা মানবাধিকারকর্মী, গবেষক, আইনজ্ঞ ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
কর্মশালায় বাংলাদেশে নিযুক্ত জাতিসংঘের মানবাধিকার উপদেষ্টা হিউমা খান বলেন, তরুণ শিক্ষার্থীরা শুধু ভবিষ্যতের নেতা নয় তারা ইতোমধ্যেই পরিবর্তনের অগ্রদূত। আজকের এই কর্মশালা প্রমাণ করে তাদের সাহস ও অঙ্গীকার। জাতিসংঘ দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে, মানবাধিকার শিক্ষাক্ষেত্রে শুরু হয় শ্রেণিকক্ষে, বিশ্ববিদ্যালয়ের করিডরে আর প্রতিটি কণ্ঠে যা অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপসহীন। মানবাধিকার কর্মীদের ক্ষমতায়ন ও সহায়তা আমাদের নিশ্চিত করতে হবে।”
কর্মশালায় কানাডার রেজিনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আসাদুল্লাহ বলেন, “শিক্ষার্থীদের মধ্যেই আছে সমাজ পরিবর্তনের শক্তি। আজকের কর্মশালায় যে গভীর সচেতনতা ও বিশ্লেষণী দৃষ্টিভঙ্গি দেখা গেছে, তা প্রমাণ করে বিশ্ববিদ্যালয় মানেই কেবল জ্ঞানচর্চা নয়, বরং মানবিক মূল্যবোধের চর্চারও কেন্দ্রবিন্দু।”
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শায়েখ মাহদী বলেন, সমাজে নির্যাতনের যে বিষয়টা এটা দুটা মাধ্যমে সমাপ্ত হতে পারে। একটা উপায় হচ্ছে ওই সমাজের সকল লোককে ফেরেশতার মত ভালো মানুষে পরিণত হতে হবে। অথবা ওই সমাজের একটা পর্যায়ের মানুষকে নির্যাতকদেরকে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে।
নির্যাতক হয়ে উঠার পেছনে একটা ইকোসিস্টেম কাজ করে উল্লেখ করে তিনি বলেন, পুরো একটা ইকোসিস্টেম তাকে এইরকম নির্যাতক হয়ে উঠতে এবং নির্যাতক হিসেবে তার ভূমিকা অব্যাহত রাখতে সাহায্য করে। শিক্ষক এমনকি হলের যে আপনার মেসের কর্মচারীটা পর্যন্ত তাকে সালাম দিচ্ছে। তাকে প্লেটে এগিয়ে দিচ্ছে, তার জন্য খাবার বেশি নিয়ে আসতেছে। সবাই তাকে একদম একটা নির্যাতক হিসেবে তার অবস্থানটা তৈরি করতে সাহায্য করে।
সিভিক ইয়ুথ বাংলাদেশের ন্যাশনাল কো-অর্ডিনেটর রাকিবুল ইসলাম খান বলেন, “যেখানে শিক্ষার্থীরা কথা বলতে পারে না, সেখানে গণতন্ত্র দুর্বল হয়ে পড়ে। আজকের কর্মশালাটি ক্যাম্পাসভিত্তিক অধিকার রক্ষায় সাহসী কণ্ঠ তৈরি করেছে যা আগামী দিনে বৃহত্তর সামাজিক পরিবর্তনের সোপান হতে পারে।”
কর্মশালায় সোচ্চার টর্চার ওয়াচডগ বাংলাদেশের সহকারী পরিচালক সুমাইয়া তাসনিম বলেন, “অধিকাংশ সহিংসতার পেছনে অব্যক্ত মানসিক ক্ষত থাকে। ট্রমা ম্যানেজমেন্টের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করে আজ আমরা দেখেছি, কেবল শারীরিক নয়, মানসিক সহায়তাও মানবাধিকার রক্ষার অপরিহার্য অংশ।”
স্বদেশ প্রতিদিন/কেআইকে