প্রকাশ: শনিবার, ২৬ জুলাই, ২০২৫, ৯:৩৪ পিএম আপডেট: ২৬.০৭.২০২৫ ৯:৫১ PM

মাইলস্টোন ট্রাজেডির পর আমার কাছে সফলতার সংজ্ঞা ভিন্ন। মেধাবী বা ব্রিলিয়ান্ট হওয়ার চেয়ে বেঁচে থাকাটাই বেশি সফলতা। বাবা-মায়ের কাছে এখন বিশ্বের সবচেয়ে মেধাবী বাচ্চার চেয়ে দুর্ঘটনায় বেঁচে থাকা নিজের সন্তানটা এখন সবচেয়ে মূল্যবান।
আমার স্বীকারোক্তি, মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সকল পেশা ও শ্রেণির মানুষ, নারী ও শিশু যারা জীবন বাজি রেখে অংশ নিয়েছিলো। জুলাই শহীদ পরিবারের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পেশা ও বয়স বিশ্লেষণে শ্রমজীবীদের পরে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে শিক্ষার্থীদের, বিভিন্ন গণমাধ্যমে যা প্রকাশিত হয়েছে।
মেধাবী আর সাধারণ-পরস্পর ব্যস্তানুপাতিক (উল্টা) মেধাবীরা হয় আত্মকেন্দ্রিক আর সাধারণ জনতা হয় দেশকেন্দ্রিক। মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের রক্তক্ষয় এর দৃশ্য তাই বলে। জুলাইয়ে মৃত্যুর শীর্ষে শ্রমজীবীরা। দিনমজুর, রিকশাচালক,সিএনজি-অটোরিকশা চালক, ভ্যানচালক, বাস-ট্রাকের হেল্পার,রেস্তোরাঁর কর্মচারী, দোকানের কর্মী, পোশাক কর্মী গণঅভ্যুত্থানে সবচেয়ে বেশি জীবন দিয়েছেন। শ্রমজীবীদের পরে বেশি জীবন দিয়েছে শিক্ষার্থীরা। তবে এরাষ্ট্রে যাদের সর্বোচ্চ মেধাবী ধরা করা হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়,বুয়েট,ঢাকা মেডিকেল এর শহীদের তালিকা শূন্য। সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে প্রাইভেট কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় এর শিক্ষার্থী। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেকে এদের 'বি' গ্রেডের শিক্ষার্থী মনে করে। বাস্তবে কিন্তু তাদের মৃত্যু বেশি। মুক্তিযুদ্ধেও ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার বা পরিবারের সবচেয়ে মেধাবী ছেলের চেয়ে পিতা-মাতার ডানপিটে ছেলেরা বেশি জীবন দিয়েছে, যা ইতিহাসে প্রমাণিত।
যেকোন দেশগঠন বা ধ্বংসে মেধাবীদের ভূমিকা বেশি। মেধাবীরা ক্রিমিনাল হলে তা খুবই ভয়ঙ্কর হয়। যত ধরনের দূর্নীতি আর ঘুষের ঘটনা দেখেবেন, মেধাবীরা অগ্রণী ভূমিকা পালন করে। শুনলাম বিমান দূর্নীতির ঘটনায় মাইলস্টোন ট্রাজেডির গ্রাউন্ড তৈরি হয়েছে। ছোট বেলায় ভাব সম্প্রসারণ পড়েছিলাম দুর্জন বিদ্বান হলেও পরিত্যাজ্য সত্যিই তা প্রমাণিত।
আল্লাহর সবকিছুর মধ্যেই কিন্তু একটা ব্যালেন্স করে। সৌদির মাটির নিচে কত তেল অথচ উপরে কিচ্ছু নাই। আবার বাংলাদেশে মাটির নিচে তেল নেই কিন্তু উপরে শস্য(খাদ্যে) ভরপুর। দরিদ্ররা কঠোর শারীরিক পরিশ্রম করে শাকসবজি খায়,অসুস্থতা নেই। ধনীরা কম শ্রমে মাছ, গোশত খায়, অসুস্থতা তাদের পিছু ছাড়ে না। যারা আজ ঘুষ আর দূর্নীতি করে টাকা আয় করে সন্তানকে খাওয়াচ্ছেন তাদের সন্তানরাই এক সময় তাদেরকে লাথি-উষ্ঠা দিবে, বেইজ্জতি করবে, বৃদ্ধাশ্রমে অনাহারে রাখবে অথবা বাসার টয়লেটে পরে মরে পঁচে থাকবে। খোঁজ মিলবে সপ্তাহ/দশ দিন পর। কারণ তাদের ঐ (অভিশপ্ত) সন্তানের কাছে বাবা-মায়ের প্রতি খেয়ালের চেয়ে, ইউরোপ-মেরিকায় নিজেদের মউজ-মাস্তি বেশি জরুরি। আল্লাহর পক্ষ থেকে এটাই প্রাকৃতিক ব্যলেন্স।
লেখকঃ শিক্ষক ও কলামিস্ট