প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৪ জুলাই, ২০২৫, ৭:৩৮ পিএম

ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের ট্রেজারি বিভাগের প্রধান মোহাম্মদ মাসুদ পারভেজের নামে ঋণ জালিয়াতিতে সহযোগীতার প্রমাণ পাওয়া গেছে। ব্যাংকটির বড় ঋণখেলাপি দেশবন্ধু সুগার মিলস্ লিমিটেডকে বিভিন্ন সময় অবৈধ ঋণ সুবিধা দিতেন তিনি। দুর্নীতির দায়ে চাকরি হারানো ব্যাংকটির সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সহযোগীতায় দেশবন্ধু গ্রুপের হাতে শত শত কোটি টাকার নিয়মবহির্ভূত ঋণ তুলে দিয়েছেন মাসুদ পারভেজ।
সম্প্রতি ব্যাংকটির ইন্টারনাল কন্ট্রোল এন্ড কমপ্লায়েন্স বিভাগ মাসুদ পারভেজকে ট্রেজারি বিভাগের প্রধান হিসেবে ব্যাংকের গুলশান শাখার গ্রাহক মেসার্স দেশবন্ধু সুগার মিলস্ লি. এর অনুকূলে ২০২৩ সালের ১ নভেম্বর ৫২ কোটি ৮৪ লাখ টাকা এবং ২০২৪ সালের ১৩ মার্চ ৮৮ কোটি ১৮ লাখ টাকা বিনিয়োগে উদঘাটিত অনিয়মের সাথে সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পায়। এ বিষয়ে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করা হয়।
মাসুদ পারভেজ ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান সাইফুল আলম মাসুদের লুটপাটের অন্যতম সহযোগী ছিলেন। শাখা ব্যবস্থাপকদের চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে উচ্চহারে আমানত সংগ্রহ করাতে বাধ্য করতেন মাসুদ পারভেজ। শাখাসমূহে আমানত হিসেবে জমাকৃত টাকার বিষয়ে লুটেরা এস আলমের ব্যক্তিগত সহকারি আকিজ উদ্দীনকে জানাতেন তিনি। আকিজ উদ্দীনের সহযোগীতায় সিএসআর, যাকাত এবং ভুয়া বিনিয়োগের নামে ব্যাংক থেকে টাকা লুট করে বিদেশে পাচার করে দিতো এস আলম।
সম্প্রতি এক তদন্ত প্রতিবেদনের তথ্যমতে ব্যাংকটির সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওয়াসেক আলী ও সাবেক অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোস্তফা খায়েরের সহযোগীতায় বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে পাওয়া সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকা তারল্য সহায়তার সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা ১৫৮টি হিসাবের মাধ্যমে এস আলম ঘনিষ্ঠদের হাতে তুলে দেন ব্যাংকটির ট্রেজারি বিভাগের প্রধান মাসুদ পারভেজ। এ ছাড়া ৫ আগস্ট ২০২৪ পরবর্তী সময়ে এ ব্যাংক থেকে বিপুল পরিমান আমানত সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
এ বিষয়ে মোহাম্মদ মাসুদ পারভেজের সাথে যোগাযোগের জন্য তার মুঠোফোনে বার বার কল করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ব্যাংকটির এক উর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, “মোহাম্মদ মাসুদ পারভেজ লুটেরা এস আলমের অন্যতম সহযোগী হলেও এখনো তিনি বহাল তবিয়তে রয়েছেন। ৫ আগস্টের আগে তার অনিয়মের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে পারতো না। শাখা ব্যবস্থাপকদের উচ্চহারে আমানত সংগ্রহে বাধ্য করে নানাভাবে সেই টাকা এস আলমের হাতে তুলে দেয়াই ছিলো তার প্রধান কাজ।”
স্বদেশ প্রতিদিন/এনআর