প্রকাশ: রবিবার, ২৯ জুন, ২০২৫, ১১:৫৫ পিএম

সন্তান জন্ম দেওয়ার দুই দিন পরই হাসপাতালে শুয়ে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিলেন ঈশা আলম (১৯)। শরীয়তপুরের এক বেসরকারি হাসপাতালে বিশেষ ব্যবস্থায় রোববার বাংলা দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষা দেন এই সাহসী শিক্ষার্থী।
শরীয়তপুর পৌরসভার পশ্চিম কাশাভোগ এলাকার মাহবুবুর রহমান তুষারের স্ত্রী ঈশা আলম শরীয়তপুর সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী। সন্তানসম্ভবা অবস্থাতেই চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন তিনি। পরীক্ষা কেন্দ্র ছিল সরকারি গোলাম হায়দার খান মহিলা কলেজে।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) বাংলা প্রথম পত্রের পরীক্ষা দেওয়ার পরের দিন রাত ১১টার দিকে প্রসববেদনা ওঠে ঈশার। এরপর দ্রুত তাঁকে শহরের নিপুন ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড ক্লিনিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে একটি কন্যাসন্তানের জন্ম দেন তিনি।
রোববার ছিল বাংলা দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষা। এই অবস্থায় পরীক্ষা দেওয়া সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন ঈশা ও তাঁর পরিবার। পরে বিষয়টি লিখিতভাবে কলেজ কর্তৃপক্ষকে জানানো হলে বিশেষ বিবেচনায় ক্লিনিকেই পরীক্ষার আয়োজন করা হয়। পরীক্ষাকেন্দ্রের নিয়ম মেনেই ক্লিনিকের একটি কক্ষে শয্যায় বসে পরীক্ষা দেন ঈশা। পরীক্ষাকালে তাঁর নবজাতক কন্যাকে কোলে নিয়ে ছিলেন দাদি।
পরীক্ষা শেষে ঈশা বলেন, “গর্ভাবস্থায়ও পড়ালেখা চালিয়ে গেছি। সন্তান জন্মের পর মনে হচ্ছিল হয়তো পরীক্ষা দেওয়া সম্ভব হবে না। কিন্তু পরিবারের সাহস আর উৎসাহে সেটা সম্ভব হয়েছে। আমি মনে করি, মেয়েরা চাইলেই সবকিছু জয় করতে পারে।”
ঈশার স্বামী মাহবুবুর রহমান তুষার জানান, বিয়ের পরও ঈশা পড়ালেখা চালিয়ে যেতে চেয়েছিলেন, আর পরিবার সবসময় তাতে পাশে ছিল। “আমরা চাই, ঈশা তার স্বপ্নপূরণ করুক,” বলেন তিনি।
ঈশার অধ্যক্ষ ওয়াজেদ কামাল জানান, “আবেদন পাওয়ার পর মানবিক দিক বিবেচনা করে আমরা বিষয়টি শিক্ষা বোর্ডের নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নিই। চিকিৎসকের অনুমতি নিয়েই পরীক্ষার ব্যবস্থা করি। পরীক্ষার সময় একজন শিক্ষক ও একজন নারী পুলিশকেও সেখানে রাখা হয়। এমন মনোবল সত্যিই প্রশংসনীয়।”
স্বদেশ প্রতিদিন/এনআর