প্রকাশ: শনিবার, ২৮ জুন, ২০২৫, ১২:০২ AM

আমার ধারণা ইরান-ইজরাইল যুদ্ধে পৃথিবীর অনেক হিসাব পাল্টে গেছে। ১২ দিন যুদ্ধে সেনা ও নৌবাহিনীর চেহারা দেখানো ছাড়াই...মিসাইলেই নির্ধারিত হলো দুই দেশের জয়-পরাজয়ের হিসাব। ধারণা করছি ভবিষ্যতে দেশগুলো এত বড়বড় সশস্ত্র বাহিনী না রেখে বিজ্ঞানী, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং যুদ্ধ সরঞ্জাম গবেষণায় পূর্ণ মনোযোগী হবে...
কিছুক্ষণ আগে ইরানকে নিষেধাজ্ঞা শিথিলসহ ৩০ বিলিয়ন ডলার সহযোগিতার প্রস্তাব দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। অর্থাৎ রাষ্ট্রের হে'ডম থাকলে যুদ্ধবিরতি, ক্ষমা চাওয়া, উপহার সবই পাবেন...আর দুর্বল হলে সারি সারি লাশ পাবেন, যেমন ৬৩১ দিনে ৫৭,০০০ লাশ পেয়েছে গাজা।
সাইজ আর জনশক্তি এখন কোনো বিষয় না...ইউক্রেন রাশিয়া থেকে ২৯ গুন ছোট এবং জনসংখ্যা ৪ ভাগের এক ভাগ...১২১৮ দিন ধরে ল'ড়ছে তারা। ইজরাইল থেকে গাজা ১৯০ গুণ ছোট এবং জনসংখ্যা ২০ ভাগের এক ভাগ তারাও ল'ড়ছে ৬৩২ দিন যাবত। ই'রান আর হিজরাইলের তুলনামূলক অবস্থা উপরের ছবি থেকেই বুঝতে পারবেন।
পৃথিবী..কার কাছে..কতটুকু..আমার মতে যতটুকু আমি বিচরণ করেছি বা যতটুকু নিয়ে ভাবতে পারি। উকুনের পৃথিবীটা হলো মানুষের মাথা... গুলশান লেকে যে মাছ আছে..তাদের পৃথিবীটা শুধু গুলশানের ঐ লেকটুকুই। ইরানের পৃথিবীটা মধ্যপ্রাচ্য কেন্দ্রিক কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের পৃথিবীটা বিশ্বব্যাপী.... তাই ইরানের বর্তমান অবস্থা এইরকম স্থিতিশীল কতদিন থাকে..তাই দেখার বিষয়..!
বিশ্বকে একটি সোসাইটি চিন্তা করলে ডাক্তারের দেশ জার্মান, ফ্রান্স, সিঙ্গাপুর ও ভারত। ইঞ্জিনিয়ারের দেশ চীন, জাপান ও কোরিয়া। গবেষক ও বিজ্ঞানীদের দেশ ইজরাইল, আমেরিকা, সুইডেন ও স্পেন। শিক্ষা বা শিক্ষকের দেশ ফিনল্যান্ড, বেলজিয়াম ও সুইজারল্যান্ড। দেশ হিসেবে রাশিয়া হলো বিশ্বের জমিদার (সবচেয়ে বেশি জমি), আর আমেরিকা হলো বিশ্বের মহাজন (ডলার ও অস্ত্র বাজার নিয়ন্ত্রক) তার একটা পোষা মাস্তান হলো ইজরাইল...যখন যাকে আঘাত করার দরকার ওর মাধ্যমে করে। বাংলাদেশ এই সোসাইটির দর্জি... বিশ্ববাসীর (গার্মেন্টস) পোশাক তৈরির দায়িত্বে।
মার্কিন অর্থনীতির মূল নিয়ন্ত্রক হচ্ছে অস্ত্র ব্যবসা..বিশ্ব বা মধ্যপ্রাচ্য স্থিতিশীল থাকলে অস্ত্রব্যবসা ধ্বসে যাবে তাই..ইজরাইলের মাধ্যমে শান্ত মধ্যপ্রাচ্যকে আবারো অস্থিতিশীল...করা হবে..অস্ত্র ব্যবসাকে চাঙ্গা করতে।
লেখক: কলামিস্ট
স্বদেশ প্রতিদিন/এনআর