
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে বিশ্বজুড়ে মার্কিন নাগরিকদের নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর। পররাষ্ট্র দপ্তরের জারি করা এক বিবৃতিতে জানানো হয়, সংঘাতের ফলে আঞ্চলিকভাবে আকাশসীমা বন্ধসহ বিভিন্ন ভ্রমণসংক্রান্ত প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছে, যা আমেরিকান নাগরিকদের ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, সংঘাতকে কেন্দ্র করে বিশ্বের নানা প্রান্তে যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী বিক্ষোভ বা সহিংসতার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য, দক্ষিণ এশিয়া ও ইউরোপের কিছু অংশে সম্ভাব্য বিক্ষোভ ও হামলার বিষয়টি মাথায় রেখে সবাইকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
এ অবস্থায় মার্কিন নাগরিকদের ভ্রমণের আগে সংশ্লিষ্ট দেশের তথ্য ও সাম্প্রতিক নিরাপত্তা সতর্কতাগুলো মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে দেখে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে পররাষ্ট্র দপ্তর। একইসঙ্গে বিশ্বব্যাপী মার্কিন নাগরিকদের আরও সতর্কতা অবলম্বন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ জানিয়েছে, ইরানে মার্কিন হামলার পর থেকে ‘নিম্ন মাত্রার সাইবার হামলা’ এবং একক হামলাকারীর (লোন উলফ) আক্রমণের আশঙ্কা রয়েছে। এ অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রেও ‘উচ্চমাত্রার হুমকি পরিস্থিতি’ সম্পর্কে সতর্কতা জারি করেছে।
উল্লেখ্য, কোনোপ্রকার উস্কানি ছাড়াই গত ১৩ জুন দিনগত রাত হঠাৎ ইরানে হামলা শুরু করে ইসরায়েল। ‘অপারেশন রাইজিং লায়ন’ নামের এই অভিযানে রাজধানী তেহরানসহ ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা, পরমাণু গবেষণা কেন্দ্র ও আবাসিক স্থাপনায় হামলা চালায় ইহুদিবাদী সেনারা।
হামলায় ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান মোহাম্মদ বাঘেরি, দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) প্রধান কমান্ডার হোসেইন সালামি, খাতাম আল-আনবিয়া সদরদপ্তরের কমান্ডার ও বিপ্লবী রক্ষীবাহিনীর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মেজর জেনারেল গোলাম আলি রশিদ ও দশজন পরমাণু বিজ্ঞানীসহ ৪০০ এর বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে।
ইসরায়েলের হামলার পর পাল্টা প্রতিশোধ হিসেবে শুক্রবার রাতে ‘অপারেশন ট্রু প্রমিস-৩ নামে’ অভিযান শুরু করে ইরান। তেহরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ইসরায়েলের উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থাকে ভেদ করে গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানছে। এতে হতাহত কম হলেও ইসরায়েলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে।
চলমান এই সংঘাতের মধ্যে ২১ জুন দিনগত রাতে ইরানের ফোরদো, নাতাঞ্জ ও ইস্পাহান- তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। এতে এই যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম