
এক গ্লাস পানি। এক সরলা মেয়ের লাজুক মুখ। আর এক যুবকের মৃদু আবেগঘন শব্দ-‘আপনার মতো সুন্দরী মেয়ে আমি জীবনেও দেখিনি।’ এই সরল সংলাপ দিয়েই শুরু হয় ‘মিথ্যে প্রেমের গল্প’- তবে এই ‘মিথ্যে’র আড়ালে যে সত্যিকারের ভালোবাসা লুকিয়ে আছে, তা যেন হার মানায় বহু প্রচলিত প্রেম কাহিনিকেও।
সদ্য ইউটিউবে মুক্তি পাওয়া এই ঈদের বিশেষ নাটকটি দেখা যাচ্ছে ‘ক্যাপিটাল ড্রামা’ চ্যানেলে। বসুন্ধরা টিস্যু নিবেদিত এবং মাহমুদুর রহমান হিমি পরিচালিত এই নাটকের প্রধান দুটি চরিত্র সাইফ ও আয়াত- যেখানে অভিনয় করেছেন ফারহান আহমেদ জোভান ও নাজনীন নাহার নিহা।
নাটকের শুরুটা হয় এক মন খারাপ করা মুহূর্তে। রান্নাঘরের একপাশে বসে থাকা আয়াতের পাশে চুপচাপ এসে বসে সাইফ। সংলাপে সংলাপে এগিয়ে যায় গল্প। গ্লাসে পানি দিয়ে চলা এক ব্যতিক্রমী খেলা- যেখানে ছেলেটি ততক্ষণ পানি পান করে না, যতক্ষণ মেয়েটি হাসিমুখে তাকে পানি না দেয়।
এই ছোট্ট পর্ব থেকেই ধীরে ধীরে স্পষ্ট হতে থাকে গল্পের মূর্ত রূপ। সাইফ বলে ওঠে, ‘আমি কখনো আপনার মন খারাপ করতে দেব না।’
আয়াত চোখ নামিয়ে ফেলে: ‘সবাই এমনই বলে… পরে ভুইলা যায়।’ সাইফের উত্তর স্পষ্ট: ‘সবাইরে আমার লগে মিলায়েন না। আমি ওয়াদা রাখা লোক।’
নাটকে সাইফ চরিত্রটি একজন সৎ, নীতিবান এবং আত্মত্যাগী মানুষ। আয়াতকে ভয়াবহ এক পরিস্থিতি থেকে বাঁচাতে গিয়ে সে এমন একটি অপরাধ নিজের কাঁধে নেয়, যা সে আদৌ করেনি। আয়াতের ওপর স্থানীয় এক দুর্নীতিবাজ চেয়ারম্যানের হামলার পরিণতিই নাটকের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।
দয়াল সাহার চিত্রনাট্যে ফুটে উঠেছে আত্মত্যাগ, বিশ্বাস, নীরব ভালোবাসা এবং নিঃশব্দ বেদনার নিখুঁত চিত্র। ‘মিথ্যে প্রেমের গল্প’ কেবল প্রেমের নয়, এটি এক মানবিক বোধ, দায়িত্ববোধ আর ত্যাগের গল্প- যা অনেক সত্য প্রেমকেও হার মানায়।
এই নাটকটি সেইসব মানুষের গল্প বলে, যারা ভালোবাসার জন্য নিজেদের নিঃস্ব করে দেয়, অথচ সমাজ তাদের গল্প ভুলে যায়।
জোভান ও নিহার অভিনয় ছিল অনবদ্য। বিশেষ করে নিহার লাজুক অভিব্যক্তি এবং জোভানের সংবেদনশীল চেহারার অভিব্যক্তি নাটকটির আবেগকে দ্বিগুণ করে তুলেছে। দর্শক হিসেবে আপনি অনুভব করবেন, কিছু ভালোবাসা কখনোই মিথ্যে হয় না- শুধু কখনো কখনো গল্পটি অসম্পূর্ণ থেকে যায়।
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম