
মুখগহ্বরের অভ্যন্তরের ত্বকে একটি ধরনের ঘা হতে পারে, যাকে অ্যাপথাস আলসার বলা হয়। এই ঘা সাধারণত মুখের গাল, ঠোঁট, মাড়ি ও জিভের ভেতরে হয় এবং অনেক সময় প্রচণ্ড ব্যথা দেয়। এমনকি যন্ত্রণার কারণে অনেকেই ঠিকমত খেতেও পারেন না।
লক্ষণ:
অ্যাপথাস আলসারের আকার, রং ও ব্যথার মাত্রা বিভিন্ন হতে পারে। ছোট আকারের আলসারকে মাইনর আলসার বলা হয়, যা হালকা হলুদ রঙের হয় এবং চারপাশ লাল ও ফোলা থাকে। এতে ব্যথা কম হয় এবং দ্রুত সেরে যায়। আলসার সাধারণত গোলাকৃতির হয় এবং খাওয়ার সময় জ্বালাপোড়ার অনুভূতি হয়। তবে এটি সংক্রমণযোগ্য বা ছোঁয়াচে নয়।
কারণসমূহ:
দাঁতের সঠিক পরিচর্যা না করা এবং নিয়মিত স্কেলিং না করায় মুখে পাথর জমে ঘা হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে।
দাঁতের ফাঁকে খাবার আটকে থাকা এবং অনিয়মিত ব্রাশ করাও কারণ হতে পারে।
কম ঘুম বা অতিরিক্ত মানসিক চাপ থাকলেও এ সমস্যা হতে পারে।
নারীদের হরমোন পরিবর্তনের ফলে মুখে ঘা দেখা দিতে পারে।
মুখের আঘাত, যেমন কামড়ে যাওয়া বা দাঁত ভেঙে ধারালো হওয়া ত্বকে ক্ষত তৈরি করে ঘা হতে পারে।
শরীরে ভিটামিন বি১২, ফলিক এসিড ও আয়রনের অভাব।
সিগারেট, পান-জর্দা ও সাদা পাতা খাওয়ার কারণে মুখে ঘা হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়।
করণীয়:পর্যাপ্ত ঘুম ও বিশ্রাম নিতে হবে।
ঝাল, অতিরিক্ত লবণ ও কঠিন খাবার এড়াতে হবে।
গরম পানিতে লবণ মিশিয়ে মুখ কুলি করলে উপকার পাওয়া যায়।
ভিটামিন বি১২ ও আয়রনের ট্যাবলেট খেতে পারেন।
সিগারেট ও জর্দা পুরোপুরি বাদ দিতে হবে।
দন্ত বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়ে চিকিৎসা নিতে হবে।
প্রতিরোধ:ছয় মাস অন্তর স্কেলিং করানো উচিত।
দিনে দুই বার ব্রাশ ও রাতে ফ্লসিং করতে হবে।
দাঁতের কোণা ভেঙে ধারালো হলে দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে।
খুব গরম খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।
মুখের ঘা বিভিন্ন ধরনের হয়, তাই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ খাওয়া উচিত নয়।
লেখক: মাড়ির রোগ বিশেষজ্ঞ, অধ্যক্ষ, খুলনা ডেন্টাল কলেজ।
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম