
সম্পর্ক ভেঙে যাওয়া বা ডিভোর্সের অভিজ্ঞতা নারী-পুরুষ উভয়ের জন্যই মানসিকভাবে কঠিন। প্রিয় মানুষকে হারানো, দীর্ঘদিনের অভ্যাসে পরিবর্তন আসা এবং পুরোনো স্মৃতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া অনেকের জন্যই গভীর মানসিক চাপ তৈরি করে। তবে বিচ্ছেদের পর নারী ও পুরুষের কষ্টের মাত্রা এবং তা প্রকাশের ধরনে কিছু পার্থক্য দেখা যায়।
লাইফস্টাইল ও মনস্তত্ত্বভিত্তিক একটি প্রতিবেদনে বিশেষজ্ঞদের পর্যালোচনা ও গবেষণার তথ্যের ভিত্তিতে বিচ্ছেদের পর নারী-পুরুষের মানসিক ও শারীরিক প্রতিক্রিয়ার পার্থক্য তুলে ধরা হয়েছে।
মানসিক ও শারীরিক কষ্টের মাত্রা
বিচ্ছেদের পর মানসিক যন্ত্রণা ও শারীরিক অস্বস্তি পরিমাপের ক্ষেত্রে গবেষণায় নারী-পুরুষের গড় স্কোরে কিছু পার্থক্য পাওয়া গেছে।
আবেগীয় যন্ত্রণার ক্ষেত্রে নারীদের গড় স্কোর ছিল ৬ দশমিক ৮৪। পুরুষদের ক্ষেত্রে এই গড় স্কোর ছিল ৬ দশমিক ৫৮। অর্থাৎ বিচ্ছেদের পর প্রাথমিক মানসিক চাপ ও আবেগীয় যন্ত্রণার গড় মাত্রা নারীদের মধ্যে কিছুটা বেশি ছিল।
শারীরিক কষ্টের ক্ষেত্রেও একই ধরনের প্রবণতা দেখা গেছে। নারীরা গড়ে ৪ দশমিক ২১ পয়েন্ট শারীরিক অস্বস্তির কথা জানিয়েছেন, যেখানে পুরুষদের গড় ছিল ৩ দশমিক ৭৫।
তবে এসব গড় পরিসংখ্যান দিয়ে প্রত্যেক নারী বা পুরুষের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা নির্ধারণ করা যায় না। বিচ্ছেদের প্রভাব সম্পর্কের ধরন, ব্যক্তিত্ব, সামাজিক সহায়তা, আর্থিক পরিস্থিতি এবং বিচ্ছেদের কারণসহ বিভিন্ন বিষয়ের ওপর নির্ভর করতে পারে।
আবেগ প্রকাশে নারী-পুরুষের পার্থক্য
বিচ্ছেদের পর কষ্ট সামলানোর ক্ষেত্রেও নারী ও পুরুষের আচরণে পার্থক্য দেখা যেতে পারে। অনেক নারী কাছের বন্ধু, পরিবারের সদস্য বা অন্য বিশ্বস্ত মানুষের সঙ্গে নিজেদের অনুভূতি ভাগ করে নেন এবং মানসিক সহায়তা চান। আবেগ প্রকাশের এই প্রক্রিয়া তাদের বিচ্ছেদের অভিজ্ঞতা নিয়ে কথা বলতে এবং ধীরে ধীরে পরিস্থিতি মেনে নিতে সহায়তা করতে পারে।
অন্যদিকে, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রত্যাশার কারণে অনেক পুরুষ নিজেদের দুর্বলতা বা কষ্ট প্রকাশ করতে অনীহা দেখান। ফলে বাইরে থেকে তাদের তুলনামূলকভাবে স্বাভাবিক বা কম আক্রান্ত মনে হলেও, ভেতরে তারা মানসিক চাপ অনুভব করতে পারেন।
এ কারণে বিচ্ছেদের কষ্টকে শুধু বাইরে প্রকাশ পাওয়া আবেগ দিয়ে বিচার করা ঠিক নয়। কেউ কষ্ট প্রকাশ করছেন কি না, তার ওপর ভিত্তি করে তার মানসিক যন্ত্রণার গভীরতা নির্ধারণ করা যায় না।
তাহলে কে বেশি কষ্ট পান?
গবেষণায় পাওয়া গড় তথ্য অনুযায়ী, বিচ্ছেদের প্রাথমিক পর্যায়ে নারীদের আবেগীয় ও শারীরিক কষ্টের মাত্রা কিছুটা বেশি রিপোর্ট হয়েছে। তবে এর অর্থ এই নয় যে সব ক্ষেত্রে নারীরাই বেশি কষ্ট পান বা পুরুষদের কষ্ট কম।
বরং নারী ও পুরুষের মধ্যে পার্থক্যটি অনেক ক্ষেত্রে কষ্ট প্রকাশ ও সামলে ওঠার ধরনে বেশি স্পষ্ট। কেউ কথা বলে, কাঁদে বা সামাজিক সহায়তা নেয়; আবার কেউ নিজের অনুভূতি চেপে রাখে। তাই বিচ্ছেদের অভিজ্ঞতা ব্যক্তিভেদে ভিন্ন এবং এর কোনো একক উত্তর নেই।
স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি