
রাজবাড়ীর পাংশা পৌরসভার মৈশালা (পালপাড়া) গ্রামে চাঞ্চল্যকর এক ঘটনা ঘটেছে। দুই সন্তানের জননী দীপা রানী পাল (২২) আত্মহত্যা করেছেন। তবে তার মৃত্যুকে ঘিরে উঠছে একাধিক প্রশ্ন।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ১১ জুন (বুধবার) রাত সাড়ে ৯ টার দিকে কাউকে কিছু না বলে দীপা বাড়ি থেকে বের হয়ে যান। পরদিন ভোরে (১২ জুন) তিন যুবক তাকে অসুস্থ অবস্থায় বাড়িতে রেখে যায়। এর কিছু ঘণ্টা পর ঘরের সিলিংয়ের হুকের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন তিনি।
দীপার স্বামী মিঠুন পাল একজন সিঙ্গাপুরপ্রবাসী। তাদের সংসার ছিল সুখের এবং তাদের ঘরে যমজ দুই পুত্র সন্তান রয়েছে। শাশুড়ি সাধনা রানীর সাথেও দীপার সম্পর্ক ছিল খুবই ভালো।
তবে সম্প্রতি দীপার ফেসবুকে পরিচয় হয় একই এলাকার গাড়িচালক মো. সাগর খানের সঙ্গে। পরিবারের দাবি, প্রেমের ফাঁদে ফেলে সাগর তাকে বাড়ি থেকে ডেকে নেয়। ওই রাতেই দীপা নিখোঁজ হন। দুই ঘণ্টা পর তিনজন যুবক মো. সালাম, মো. মাসুদ ও মো. শাহাদাত দীপাকে তাদের কাছে রেখে যাওয়ার কথা বলে বাড়িতে আসে এবং মিঠুন পালকে খুঁজতে থাকে।
পরবর্তীতে দীপার স্বামী একটি অজ্ঞাত নম্বর থেকে ফোন পেয়ে মুক্তিপণের মতো টাকা দাবি শোনেন। সূত্র বলছে, দীপা ও সাগরকে কৌশলে ওই তিন যুবক তাদের সঙ্গে নিয়ে যায় এবং রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার এক জায়গায় নিয়ে সঙ্গবদ্ধভাবে ধর্ষণ করে। তাদের সঙ্গে আরও দুই অজ্ঞাত ব্যক্তি ছিল বলে অভিযোগ করা হয়।
ঘটনার পর দীপাকে অসুস্থ অবস্থায় বাড়িতে রেখে পালিয়ে যায় অভিযুক্তরা। ধারণা করা হচ্ছে, সম্ভ্রমহানির কারণে চরম মানসিক ভেঙে পড়ায় দীপা আত্মহত্যার পথ বেছে নেন।
এই ঘটনার পর অভিযুক্ত তিন যুবক পলাতক রয়েছে। স্থানীয়দের জিজ্ঞাসাবাদেও তাদের অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য মেলেনি।
অন্যদিকে প্রেমিক সাগর খানের পরিবারের দাবি, সাগর নিজেও ওই তিন যুবকের দ্বারা নিগৃহীত হয়েছে এবং তার কাছ থেকে জোর করে টাকা ও মেয়েটিকে কেড়ে নেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় নিহত দীপার পিতা পাংশা মডেল থানায় মো. সাগর খান, মো. সালাম, মো. মাসুদ ও মো. শাহাদাতসহ আরও ২-৩ জন অজ্ঞাত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করেছেন।
পাংশা মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বলেন, ‘মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চলছে। আশা করি, দ্রুতই প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন সম্ভব হবে।’
এখন দেখার বিষয়, তদন্তে কী বেরিয়ে আসে। দীপার মৃত্যু কি নিছক আত্মহত্যা, নাকি এর পেছনে আরও গভীর কোনো ষড়যন্ত্র লুকিয়ে আছে?
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম