
ঐ স্থানটিকে ঘিরে তরুণ-তরুণীদের মধ্যে অন্যরকম আগ্রহ লক্ষ্য করা যায়
কুড়িগ্রামের রাজারহাট এবং উলিপুর উপজেলার সীমান্তে একটি বটগাছ ভাইরাল হওয়ার খবর পাওয়া যায়। বেশ কিছুদিন ধরে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কল্যাণে বটগাছের ঐ স্থানটিকে ঘিরে তরুণ-তরুণীদের মধ্যে অন্যরকম আগ্রহ লক্ষ্য করা যায়।
গতকাল সোমবার (৯ জুন) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিকেল হওয়ার সাথে সাথেই শত শত সৌন্দর্য পিপাসু নবদম্পতি, তরুণ-তরুণীদের উপস্থিতিতে এলাকাটি পরিপূর্ণ। চারিদিকে লোকে লোকারণ্য। কয়েকটি ফুসকা, ঝাঁল চানাচুর দোকান ক্রেতা সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে।
ঈদ-উল আযহা এবং ছুটিকে কাজে লাগিয়ে সৌন্দর্য এবং ভ্রমণ পিপাসুদের পদচারনায় মুখরিত গোটা এলাকা। প্রতিদিন বিকেল থেকে সন্ধ্যার মধ্যবর্তী সময়টুকু উপভোগ করার জন্য দূর-দুরান্ত থেকে নবদম্পতি, তরুণ, তরুণীসহ বিভিন্ন বয়সের লোকজন ছুটে আসেন এই বটগাছ এলাকায়। খোশগল্প, কিংবা ছবি তুলে সময় উপভোগ করেন তারা। আশেপাশে তেমন কোন বসতবাড়ী না থাকা, চারিদিকে ফসলী জমি, প্রকৃতির নির্মল বাতাস আপনাকে অন্যমনস্ক করে তুলবে নিঃসন্দেহে।
এটি রাজারহাট উপজেলার নাজিমখান সদর বাজার থেকে পূর্বদিকে পাকা রাস্তায় প্রায় চার কিলোমিটার এবং উমর মজিদ ইউনিয়নের ফরকেরহাট বাজার থেকে দক্ষিণে প্রায় তিন কিলোমিটার এবং উলিপুর উপজেলার পান্ডুল ইউনিয়নের সীমানায় অবস্থিত। প্রায় ৪০-৫০ বছরের পুরানো এই বিশাল বট গাছটির কারণে এই স্থানটি সকল শ্রেণি- পেশার মানুষের মন কেড়ে নেয়। মানুষ একটি বটগাছকে কেন্দ্র করে এমন উৎসব মুখর পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারে তা না দেখলে বিশ্বাস করার উপায় নেই।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী মো. শাহ আলম বলেন, “এই সীমান্তবর্তী এলাকাটি ‘মহিষ চরার দোলা’ নামে পরিচিত। বছরের অন্যান্য সময় লোকসমাগম মোটামুটি খাকলেও ঈদ উপলক্ষে প্রতিদিন শত শত ছেলে-মেয়েরা প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য এখানে আসছেন।”
স্থানীয় যুবক মো. মশিউর রহমান বলেন, “কোন এক বন্যায় আশে পাশের সমস্ত এলাকা ডুবে গেলে পানির মধ্যে বটগাছটি দাঁড়িয়ে থাকে, যে কেউ সেই মনমুগ্ধকর দৃশ্য মোবাইলে ধারণ করে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করেন সেই থেকে এই বটগাছ এলাকাটি ভাইরাল হয়ে যায়।”
রাজারহাট উপজেলা সদর ইউনিয়নের নাটুয়ামহল গ্রামের তরুণ রাকিব বলেন, “মোবাইলে ভাইরাল বটগাছটি দেখে এর আসল সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য প্রায় ১৮ কিলোমিটার দূর থেকে কয়েকজন বন্ধু সহ চলে আসলাম, এখানকার পরিবেশ অত্যন্ত চমৎকার, যোগাযোগ ব্যবস্থাও ভালো। সহসা যেতে মন চাচ্ছেনা।”
উপজেলার নাজিমখান বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র সহকারি শিক্ষক মো. মমতাজ উদ্দিন বলেন, “প্রতিটা মানুষ একটু অবসর পেলেই প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে চায়। রাজারহাট উপজেলায় উল্লেখযোগ্য কোন বিনোদনের স্থান না থাকায় এই ভাইরাল বটগাছ এলাকাটিকেই সব শ্রেণি-পেশার মানুষ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ এবং বিনোদনের জন্য বেছে নিয়েছেন।”
স্বদেশ প্রতিদিন/আইএমএস