প্রকাশ: রবিবার, ৮ জুন, ২০২৫, ৪:৫৬ পিএম

সংগৃহীত ছবি
ঢাকা ও আশপাশের এলাকার কোরবানির পশুর চামড়ার একটি বড় অংশ ক্রয়-বিক্রয় হয় আমিনবাজারে। কিন্তু এবার আমিনবাজারে কোরবানির পশুর চামড়ার সরবারহ কম। এখানে বড় আকারের গরুর চামড়া বিক্রি হচ্ছে ৮৫০ থেকে ৯০০ টাকায়। ছাগল ও ভেড়ার চামড়ার তেমন চাহিদা নেই বলা যায়।
আজ রবিবার (৮ জুন) দুপুর পর্যন্ত আমিনবাজারে কোনো আড়তদারকে ছাগল ও ভেড়ার চামড়া কিনতে দেখা যায়নি। ফলে বাধ্য হয়েই বাজার সংলগ্ন সড়ক ও ফুটপাতে এসব চামড়া ফেলে যাচ্ছেন মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। এদিন দুপুর ১২টার দিকে মাত্র একজন ক্রেতাকে গরুর চামড়া কিনতে দেখা যায়।
ছাগলের চামড়া (৬ পিস) এনে বিপাকে পড়া মাকসুদ আলম বলেন, “এখন কী করবো বুঝছি না। ছাগলের চামড়া কেউ নিচ্ছে না। ছাগলের চামড়ার দাম নেই। এতোদূর থেকে ছাগলের চামড়া এনে বিপদে পড়েছি।”
শহিদুল হক নামের এক আড়তদার বলেন, “আজ চামড়া আসছে কম। এক পিস, ২ পিস এমন করে। সকাল থেকে মাত্র ২০ পিস চামড়া কিনেছি। দাম গতকালের মতোই ৮৫০ থেকে ৯০০ টাকা। গতকাল ঈদের দিন ৬০০ পিসের বেশি চামড়া সংগ্রহ করেছি।”
তিনি আরো বলেন, “ছাগলের চামড়ার ভালো দাম ট্যানারি দিতে চায় না বলে এই চামড়া কেউ কিনছেন না।”
বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান মো. শাহাদাত উল্লাহ বলেন, “২০১৭ সালে হাজারীবাগ থেকে যখন ট্যানারিগুলো সাভারে স্থানান্তর হয়, তখন ছাগলের চামড়া নিয়ে যারা কাজ করে তারা স্থানান্তর হতে পারেননি। এমন অসংখ্য ট্যানারি সাভারে যেতে পারেনি। এখন যে ট্যানারিগুলো আছে সেগুলোর ছাগলের চামড়া প্রক্রিয়াজাত করার সক্ষমতা নেই। বাকি যেগুলো আছে ওই ট্যানারিগুলার অবস্থা খুবই খারাপ, ওরা দীর্ঘদিন লোকসানে আছে। অনেকগুলো প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। ছাগলের চামড়া প্রক্রিয়াজাত করার মতো বড় কোনো ট্যানারি নেই।”
“তিনি বলেন, মেইনটেন্যান্সে অনেক খরচ আছে। ছাগলের চামড়ায় বেশি কাট (চামড়া ছড়ানোর সময় কেটে যায়) হয়ে যায়। ছাগলের চামড়া আকারে ছোট, এ কারণে একটা দুইটা কাট থাকলে ন্যায্যমূল্য থাকে না। তখন প্রক্রিয়াজাত খরচও উঠে আসে না। এ জন্য ছাগলের চামড়ার প্রতি অনেকেই আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন।