প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৯ মে, ২০২৫, ৫:৩৩ পিএম

নোয়াখালীর হাতিয়ার নিঝুমদ্বীপে আমেনা বেগম (৫০) নামে খুন হওয়া এক মধ্য বয়সী নারীর লাশ নিয়ে বিপাকে পড়েছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (২৯ মে) বিকেলে হাতিয়া থানার ওসি এ কে এম আজমল হুদা এ কথা জানান।
তিনি বলেন, বুধবার (২৮ মে) রাতে উপজেলার নিঝুমদ্বীপে এই মধ্য বয়সীর নারীকে গলা কেটে হত্যা করে লাশ পুকুরে ফেলে দেয় অজ্ঞাতনামা কেউ। সেই দিন দিবাগত রাত সোয়া ২টায় নিঝুমদ্বীপ পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা মরদেহ উদ্ধার করে থানায় এনে রাখে।
এ ঘটনায় ওসি জানান, বৃহস্পতিবার (২৯ মে) সকালে মরদেহ ময়না তদন্তের জন্য ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর কথা ছিল। তবে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে নোয়াখালীতে বইছে বৃষ্টি ও ঝড়ো হাওয়া। এর ফলে দ্বিতীয় দিনের মত হাতিয়ার সাথে জেলা সদরসহ সারা দেশের নৌ চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে করে লাশ ময়না তদন্তের জন্য ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো যাচ্ছে না। নিরুপায় হয়ে থানায় কফিন করে বরফ দিয়ে রাখা হয়েছে লাশটি।
স্থানীয় সূত্রানুযায়ী, নিহতের স্বামী স্থানীয় নিঝুমদ্বীপ বাজারে শুঁটকির ব্যবসা করেন। তার দুই ছেলে ও চার মেয়ে। মেয়েদের বিয়ে হয়ে গিয়েছে এবং ছেলেরা জেলা শহর মাইজদীতে অধ্যয়নরত। একা বাড়িতে স্বামী-স্ত্রী দুজন বাস করতেন তারা।
বুধবার (২৮ মে) সন্ধ্যায় নিহতের স্বামী বাড়িতে এসে দেখেন তিনি নামাজ পড়ছেন। এরপর বাজারে চলে যান তিনি। সেই সময় ঘরে একাই ছিলেন আমেনা।
পরে রাত পৌনে ১০টায় তিনি বাড়ি ফিরে দেখেন ঘরের দরজা খোলা, ঘরে তার স্ত্রী নেই। ঘরের মাঝের কক্ষে রক্ত পড়ে আছে। তাৎক্ষণিক তিনি বিষয়টি স্থানীয় কয়েকজনকে মুঠোফোনে জানান। এরপর তার বাড়িতে খোঁজাখুজির একপর্যায়ে পুকুরে ভাসতে দেখা যায় আমেনার রক্তাক্ত মরদেহ।
ধারণা করা হচ্ছে, অজ্ঞাতনামা কেউ তাকে গলা কেটে হত্যা করে লাশ বসত ঘরের পাশের পুকুরে ফেলে রেখে যায়।
হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম আজমল হুদা বলেন, নিহতের স্বজনেরা থানায় রয়েছে। পুলিশ হত্যার রহস্য উদঘাটনে চেষ্টা চালাচ্ছে। বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের কারণে সাগর খুবই উত্তাল রয়েছে। ইতোমধ্যে উপকূলীয় এলাকায় ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত জারি করা হয়েছে। নৌ-চলাচল চালু হলে মরদেহ ময়না তদন্তের জন্য ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে।
স্বদেশ প্রতিদিন/আইজেপি