প্রকাশ: সোমবার, ১২ মে, ২০২৫, ২:২৯ পিএম আপডেট: ১২.০৫.২০২৫ ৩:০৬ PM

উস্কানিমূলক বক্তব্য ও শিক্ষক হেনস্তার অভিযোগে আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করেছে কুয়েট প্রশাসন।
আজ সোমবার (১২ ই মে) দুপুর সাড়ে ১১ টায় ছাত্র কল্যাণ পরিচালক প্রফেসর ডঃ ইলিয়াস স্বাক্ষরিত এক নোটিশে আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়া শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে শিক্ষক লাঞ্ছনা, জোরপূর্বক হলে প্রবেশ, তালা ভাঙা ইত্যাদি অভিযোগ আনা হয়। এরপর তারা কেন আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছে, ৫দফা দাবির জন্য জোর করেছে, ভিসির নামে অশ্লীল স্লোগান দিয়েছ? এবং কেন তাদের শাস্তি দেয়া হবে না তার জন্য আগামী তিন দিনের মধ্যে এই কারণ দর্শানোর জন্য বলা হয়েছে।
এ বিষয়ে সহকারী ছাত্র কল্যাণ পরিচালক প্রফেসর আজমত উল্লাহ বলেন, যেসব শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, তাদেরকে কারণ দর্শানোর জন্য ১৫ মে পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে। তবে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, তা পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
অভিযোগকৃত এক শিক্ষার্থী বলেন, আমাদের উপর হামলার প্রতিবাদে আমরা বিচারের দাবি জানিয়েছি। বরং আমাদেরকেই শাস্তি দেওয়ার জন্য নোটিশ দেওয়া হচ্ছে। আমরা কোন শিক্ষককে লাঞ্চিত করিনি। ১৮ তারিখে যখন একের পর এক শিক্ষার্থী আহত হচ্ছিলো তখন দায়িত্বশীল ভিসির পক্ষ থেকে বলা আমরা ব্যর্থ হয়নি শুধু ২ ঘন্টা দেরি হয়েছে। এর প্রেক্ষিতে শিক্ষার্থী ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানালে স্যারের নিরাপত্তার জন্য আমরা স্যারকে এক রুমে নিয়ে যাই এবং ভেতর থেকে আটকে দিতে বলি। পরবর্তীতে এ বিষয়ে স্যারদের কাছে আমরা অফিসিয়ালি ক্ষমাও চেয়েছি।
তিনি আরও বলেন, যারা হামলা চালিয়ে ১৫০ জনের বেশি শিক্ষার্থীকে আহত করেছে, তাদের বিরুদ্ধে কোনো বিবৃতি দেওয়া হয়নি। অথচ যারা আহত হয়েছে এবং ন্যায়বিচার চায়, তারাই আজ প্রশাসনের চোখে অপরাধী।
উল্লেখ্য, গত ১৮ ফেব্রুয়ারি কুয়েট শিক্ষার্থীদের ওপর স্থানীয়দের হামলায় ১৫০-এর অধিক শিক্ষার্থী আহত হন। এ ঘটনার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের পদত্যাগসহ ৬ দফা দাবি উত্থাপন করেন। শিক্ষার্থীদের লাগাতার আন্দোলনের মুখে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার উপাচার্যকে অপসারণ করে।পরবর্তীতে শিক্ষার্থীরা ক্লাসে ফেরার আগ্রহ প্রকাশ করলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্লাস চালু কিংবা একাডেমিক কার্যক্রম শুরুর ব্যাপারে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
স্বদেশ প্রতিদিন/আইএমএস