প্রকাশ: শনিবার, ১০ মে, ২০২৫, ৮:৪৬ AM

আরও এক নির্ঘুম রাতের সাক্ষী হলো শাহবাগ। আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের দাবিতে রাতভর স্লোগানমুখর ছিল চত্বর। রাতভর শাহবাগে অবস্থান করেছে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সম্পৃক্ত বিভিন্ন দলসহ ইসলামী দলগুলো। বিএনপি ও বামদলগুলো এ কর্মসূচীতে অংশ না নিলেও উত্তপ্ত স্লোগানে জেগে ছিল শাহবাগ।
আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের দাবিতে শুক্রবার (৯ মে) রাতভর শাহবাগ ছিল জুলাই অভ্যুত্থানকারী শক্তির দখলে। কেউ জাতীয় পতাকা উড়িয়েছেন, আবার কেউ সুর তুলেছেন জুলাই-আগস্ট আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রচিত গানে। আন্দোলনের স্পিরিট ধরে রাখতে জায়ান্ট স্ক্রিনে প্রদর্শন করা হয়েছে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অকুতোভয় সংগ্রাম আর আন্দোলনের সময়কার ভয়াল ছবি।
জানা যায়, শাহবাগ মোড়ের পশ্চিম দিকে স্থাপিত জায়ান্ট এলইডি স্ক্রিনে রাত সাড়ে ১১টা থেকে শুরু হয় এ প্রদর্শনী। শেখ হাসিনার শাসনামলের অত্যাচার ও নির্যাতনের ডকুমেন্টারি প্রদর্শিত হয় সেখানে।
এলইডি স্ক্রিনে কখনও ভেসে ওঠে বিডিআর হত্যাকাণ্ড নিয়ে তৈরি ডকুমেন্টারি। কখনো দেখানো হয় শাপলা চত্বরে হেফাজতের সমাবেশে চালানো হত্যাযজ্ঞের চিত্র।
এদিকে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের দাবিতে শনিবার শাহবাগসহ সারা দেশে গণজমায়েতের ডাক দিয়েছে জুলাই আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্ররা। হাসনাত আবদুল্লাহ শুক্রবার রাতে শাহবাগে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
তিনি বলেন, আমাদের অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছি, ২৫ ঘণ্টা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাত ১০টা থেকে আমাদের অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেছি। আমরা জানি না এ কর্মসূচির শেষ কোথায়। যতক্ষণ না পর্যন্ত আওয়ামী লীগের নিষিদ্ধ করা হয়, ততক্ষণ পর্যন্ত আমাদের এই অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।
তিনি আরও বলেন, ইতোমধ্যে আমরা তিন দফা দাবি দিয়েছি। তিন দফার মধ্যে প্রথম দফা হচ্ছে, আওয়ামী লীগকে সন্ত্রাসী সংগঠন ঘোষণা করে লীগের যত সংগঠন সবগুলোকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে নিষিদ্ধ করতে হবে। দ্বিতীয় দফা হলো আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনে আওয়ামী লীগের দলগত বিচারের ব্যবস্থা করতে হবে। তৃতীয়, জুলাইয়ের ঘোষণাপত্র জারি করতে হবে।
শনিবারের কর্মসূচি নিয়ে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, তিন দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি শনিবার বিকাল ৩টার দিকে শাহবাগে গণজমায়েত ঘোষণা করা হচ্ছে। তার সঙ্গে সারা বাংলাদেশ আমাদের প্রত্যেকটা জুলাইয়ে যে যে পয়েন্টে আন্দোলন হয়েছে, সেই পয়েন্টে আমরা গণজমায়েত ঘোষণা করছি। এই লড়াই বাংলাদেশপন্থি বনাম ফ্যাসিবাদপন্থি লড়াই।
স্বদেশ প্রতিদিন/কেএইচ