প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৬ মে, ২০২৫, ১২:৫৭ পিএম

এক সময় মানুষের মনের অনুভূতি, ভালোবাসা, অভিমান কিংবা প্রিয়জনের খোঁজখবর পৌঁছে দেওয়ার প্রধান মাধ্যম ছিল চিঠি। কলমের কালি আর কাগজের পাতায় ভেসে আসত মায়ের দোয়া, বাবার উপদেশ, কিংবা হৃদয়ের গহীন আবেগ। সেই চিঠির জন্য মানুষ প্রতিদিন অপেক্ষা করত, ডাকপিয়নের ঘণ্টা শোনামাত্রই বাড়তো হৃদস্পন্দন।
কিন্তু সময় বদলেছে। আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়ায় আজ হারিয়ে যেতে বসেছে সেই চিঠি বিনিময়ের সংস্কৃতি। এখন অনুভূতির আদান-প্রদান মোবাইল ফোন, ই-মেইল, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক কিংবা ইনবক্সে। যোগাযোগের গতি বেড়েছে বহুগুণ, তবে হারিয়ে গেছে হৃদয়ের গভীর স্পর্শ।
সারিয়াকান্দির এক প্রবীণ ব্যক্তি স্মৃতিচারণ করে বলেন, “সেই সময়ে সন্তানদের কাছে খবর পাঠাতে চিঠিই ভরসা ছিল। প্রতিটি শব্দ ছিল জীবনের মতো জীবন্ত। এখন সবকিছু যেন যান্ত্রিক।”
স্থানীয় ডাকঘর সূত্র জানায়, বিগত দশ বছরে ব্যক্তিগত চিঠিপত্রের সংখ্যা প্রায় শূন্যে নেমে এসেছে। বর্তমানে ডাক বিভাগের চিঠি আদান-প্রদানের বেশিরভাগই সীমাবদ্ধ সরকারি ও কর্পোরেট চিঠিপত্রে।
তরুণ প্রজন্মের কাছে চিঠি যেন এক অজানা ইতিহাস। কলেজছাত্র রকির বক্তব্য, 'আমি জীবনে কখনও হাতে লেখা চিঠি পাইনি, কাউকে লিখিওনি। সবকিছু মোবাইলেই হয়ে যায়।'
চিঠি এখন কেবল স্মৃতির অংশ, পুরাতন খামে মোড়ানো অনুভূতির দলিল। হারিয়ে যাওয়া এই চিঠির ঐতিহ্য আমাদের ইতিহাস, আমাদের আবেগ, আর একান্ত ব্যক্তিগত সম্পর্কের এক অমূল্য উপহার। আধুনিকতা যতই এগিয়ে যাক, চিঠির ঘ্রাণমাখা স্মৃতি হৃদয়ের এক কোণে আজও অমলিন।
স্বদেশ প্রতিদিন/কেএইচ