শুক্রবার ● ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
   
শিরোনাম:
● দেশকে অস্থিতিশীল করার সুযোগ দেয়া হবে না       ● নৈরাজ্য ও ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে মোংলায় বিএনপির বিক্ষোভ       ● আওয়ামী লী‌গের তিন নেতা গ্রেপ্তার      ● সাতক্ষীরায় জলবায়ু ন্যায়বিচার প্রকল্পের সমাপনী      ● সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার প্রতিবাদে বিক্ষোভ       ● আইনশৃঙ্খলা সভায় হট্টগোল, তর্কে জড়ালেন এমপি হান্নান      ● লাতিন আমেরিকার দুই দলকে হারাল জাপান-কোরিয়া      ● কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ততার সন্দেহে ৫১ কিশোর আটক      ● প্রথম ১৪ ওয়ানডেতেই ইতিহাস গড়লেন ম্যাথু ব্রিটজকে      ● ২৫ সেপ্টেম্বরের মুর্তজা কিজিলবাশের কনসার্ট স্থগিত      ● অঙ্কন-নন্দিতার দ্বৈত কণ্ঠে আজ প্রকাশিত হচ্ছে ‘মথুরা’      ● ফোটন সার্ভিস সেন্টারের উদ্বোধন      
মোজো হালাল হলে পেপসি ও কোকাকোলা হারাম কেন?
নাজমুল হক
প্রকাশ: বুধবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৫, ৪:২৭ পিএম আপডেট: ২৩.০৪.২০২৫ ৪:৫৯ PM

ফিলিস্তিনে হামলা বাড়লে দেশে Mojo’র দাম বাড়ে। ৭০ টাকার ২ লিটার মজো কাল কিনলাম ১১০ টাকায়। যদ্দুরজানি মোজোর সেটআপ জার্মানের। মার্কিনীদের পর ইসরায়লকে মদদ দেয়া ২য় দেশ ফ্রান্স ও জার্মান। যাইহোক আমি মনে করি ইসরায়েলের পণ্য বয়কট করে মোজো খাওয়াটা মন্দের...ভালো। তবে মানুষের সিমপ্যাথিকে পুঁজি করে  মজোর ডাকাতিটা খারাপ...

আমরা যদি বিশ্বকে একটি সোসাইটি হিসেবে চিন্তাকরি, তাহলে ডাক্তারের দেশ হলো জার্মান, ফ্রান্স, মালয়শিয়া বা ভারত। ইঞ্জিনিয়ারের দেশ চীন, রাশিয়া, জাপান বা কোরিয়া। বিজ্ঞানী বা গবেষকদের দেশ ইসরায়েল, আমেরিকা, স্পেন বা ডেনমার্ক। শিক্ষা বা শিক্ষকদের দেশ সুইজারল্যান্ড, ফিনল্যান্ড বা বেলজিয়াম। আর এ সোসাইটির পোশাক তৈরি বা দর্জির ভূমিকায় (গার্মেন্ট) আছি আমরা... এই সোসাইটির সবচেয়ে গ্যাঞ্জামের দেশ হলো ইসরায়েল।

ইসরায়েল সম্পর্কে ৩টি প্রশ্নের উত্তর আমি সব সময় খোঁজছি...চাইলে আপনারাও মতামত দিতে পারেন...

প্রশ্ন ১: Mojo জায়েজ হলে..অনেক ফিলিস্তিনিদের প্রিয় পানীয় কোকাকলা বা পেপসি জায়েজ না কেন.?

প্রশ্ন-২: ইসরায়েলের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের এতো তীব্র আসক্তি বা অন্ধ সমর্থন কেন...?

প্রশ্ন-৩: চাকরির কারনেই কি...ফিলিস্তিনিদের মুক্তি আটকে  আছে...?

প্রশ্ন-১:Mojo জায়েজ হলে (ফিলিস্তিন কোকাকোলা ফ্যক্টরির তথ্যমতে) অনেক ফিলিস্তিনির প্রিয় পানীয় কোক...সেইটা আমাদের জন্য জায়েজ নয় কেন...?

দেশের মানুষের মধ্যে একটি প্রবল ধারণা প্রচলিত যে, কোল্ড ড্রিংক কোকাকলা ও পেপসি ইসরায়েলের পণ্য...PEPSI মানে (Pay Each Penny Save Israel) অর্থাৎ ‘ইসরায়েল বাঁচাতে ব্যয় করুন প্রতিটি পয়সা’। বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে এ-সংক্রান্ত অগণিত পোস্ট দেখাযায়। যাচাইবাছাইকারী বিভিন্ন ফ্যাক্টচেক বিশ্লেষণ ও কয়েক দফা যাচাই-বাছাই করে যে তথ্য পাওয়া যায় তা কিন্তু সম্পূর্ণ ভিন্ন। ফার্মাসিস্ট কে.ডি ব্র্যাডহ্যাম ১৮৯৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ক্যারোলাইনার নিউ বার্ন এলাকায় ক্যারামেল, লেমন ওয়েল, নাটমেগ ও অন্যান্য প্রাকৃতিক উপাদান মিশিয়ে তৈরি করেন এক ধরনের পানীয়। নিজের নামনুসারে এর নাম দেন ব্র্যাডস ড্রিংক। পরবর্তীতে নাম বদলে করে রাখেন পেপসি। আমাদের পাকস্থলীতে হজমের জন্য ‘পেপসিন’ নামক এক প্রকার এনজাইম নিঃসৃত হয়। ব্র্যাডহ্যামের তৈরি পানীয়টিও হজমের জন্য খুব সহায়ক ছিলো। পেপসিনের মতো কাজের ফলে এবং আফ্রিকান কোলা বাদাম ব্যবহারের কারণে এর নামকরণ করা হয় ‘পেপসি-কোলা’। এবার আসা যাক ইসরায়েল প্রসঙ্গে। এদের আনুষ্ঠানিক দখলদারিত্ব শুরু হয় ১৯৪৮ সালে। তাদের প্রতিষ্ঠার অন্তত ৫৫ বছর আগে পেপসির নামকরণ হয়। 

এবার কোকাকলা প্রসঙ্গে বলি, ১৮৮৬ সালে ফার্মাসিস্ট জন স্টিথ পেমবার্টন কোকা-কোলা তৈরি করেন । যখন এটি চালু করা হয়েছিল, তখন এর মধ্যে কোকা পাতার উদ্দীপক কোকেন ও কোলাবাদামের উদ্দীপক ক্যাফিন ছিল যা একসাথে টনিক হিসেবে কাজ করেছিলো। কোকা ও কোলা হল নামের উৎস, এবং এর ফলে কোকা-কোলা ‘স্বাস্থ্যকর টনিক’ হিসেবে প্রচারিত হয়। পেমবার্টন মার্কিন গৃহযুদ্ধে গুরুতর আহত হয়েছিলো এবং ব্যথানাশক মরফিনে আসক্ত হয়ে পড়েছিলেো। সে সময়ে, ওপিওয়েড আসক্তির ঔষধ হিসেবে কোকেন প্রচার করা হচ্ছিল, তাই তিনি তার আসক্তি নিয়ন্ত্রণের প্রচেষ্টায় পেটেন্ট ঔষধ হিসেবে পানীয়টি তৈরি করে। ১৮৮৬ সালের জুলাই মাসে, জর্জিয়ার কলম্বাসের ফার্মাসিস্ট জন স্টিথ পেমবার্টন মূল কোকা-কোলা পানীয় আবিষ্কার করেন, যা মাথাব্যথা উপশমে সহায়ক হিসেবে বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছিল, যা মূলত ওষুধের দোকানে বিক্রির জন্য রাখা হয়েছিল। পেমবার্টন অনেক মিশ্রণ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তার লক্ষ্যে পৌঁছেছিলো। কিন্তু নতুন পণ্যটি তখনও নামহীন ছিলো। পেমবার্টনের হিসাবরক্ষক, ফ্র্যাঙ্ক রবিনসনকে পণ্যটির নামকরণ ও লোগো তৈরি করেন। রবিনসন কোকাকোলা নামটি বেছে নিয়েছিলেন এর দুটি প্রধান উপাদান কোকা পাতা এবং কোলা বাদাম থেকে। ইসরায়েল প্রতিষ্ঠার অন্তত ৬৫ বছর আগে কোকাকলার নামকরণ হয়। 

কোকাকোলাকে ইসরায়েলি পণ্য বলার পর..কোক নতুন বিজ্ঞাপন দিয়ে প্রমাণ করতে চেষ্টা করছে যে তারা ‘ইসরায়েলি পণ্য’ না। শুধু তাই নয়, এ কোম্পানিটির নেগেটিভ প্রচারণার জন্য কোক স্টুডিও বন্ধ হয়ে যায়। এখন বাটা জুতা নিয়েও এমন নেগেটিভ প্রচারণা হচ্ছে।

কোকাকোলা, পেপসি, ম্যাগি, লেস, ক্লোজআপ, লাক্স সানসিল্ক, সার্ফ এক্সেল, হুইল, রিন, ডোব, বাটা, পন্ডস, ভেসলিন, ক্লিয়ার, জনসন, বাটা... জনরোষের শিকার হওয়া এ কোম্পানির কোনটি সরাসরি ইহুদিদের নয়। এমনকি মালিকানাসূত্রেও এদের সাথে ইসরায়েল রাষ্ট্রর বা ইহুদিদের সঙ্গে সম্পর্ক নেই। তবে তাদের মদদদাতা..আমেরিকা বা ইউরোপের কোম্পানি এগুলো

খুব খেয়াল করে দেখলাম ফেসবুকে ইসরায়েলের নামে...কম দামী উপাদান যেমন- চিপস, চকোলেট বা কোল্ডড্রিংক বয়কটের ডাক আসছে...দামী কোন পণ্য  যেমন আইফোন, DELLকম্পিউটার, CAT, GE অথবা সোশ্যাল মিডিয়াগুলোর নাম তেমন হাইলাইটস হচ্ছে না...অথচ হাজার হাজার পিছ চকোলেট, কোকাকলা বা চিপস ক্রয়ে যে লেনদেন হয়... ১টি গাড়ি, ট্রাক, এসি বা আইফোন কিনলে তারচেয়ে বেশি লেনদেন হয়।

বিশ্বখ্যাত ইহুদি মালিকানাধীন কোম্পানির অনেকেই আলোচনার বাহিরে ফেসবুক (জাকারবার্গের মা-বাবা দুজনই ইহুদি), গুগল (সহ প্রতিষ্ঠাতা সার্গি ব্রি মা-বাবা ইহুদি ও ল্যারি পেইজের মা ইহুদি), ডেল (প্রতিষ্ঠাতা মাইকেল ডেল ইহুদি)। ওরাকল প্রতিষ্ঠাতা ল্যারি সন ইহুদি, অ্যাপলের বর্তমান চেয়ারম্যান আর্থা লেভিনও ইহুদি। LOreal ফ্রান্সের প্রতিষ্ঠানটি ইহুদিদের কট্টর সমর্থক। Caterpillar Inc (CAT) লাখ লাখ নিরীহ ফিলিস্তিনী নাগরিকের উপর ইসরায়েলী সেনারা হামলা করছে এ কোম্পানীর বানানো সাজোয়া যান দিয়ে। শুধু ফিলিস্তিনীদের বাড়িঘর সহজে ধ্বংস করার জন্য তারা বিশেষভাবে তৈরি ক্রেন, বুলডোজার  সরবরাহ করে আসছে। বাংলাদেশে এ কোম্পনীর ট্রাক, বুল্ডোজার, ক্রেন পাওয়া যায়। এর তৈরি জুতাও পাওয়া যায় দেশে। GENERAL ELECTRIC (GE) গাজায় এপাচি হেলিকপ্টারগুলো থেকে ফিলিস্তিনীদের উপর হামলা চালাতে যে বিশেষ PROPULSION পদ্ধতি  ব্যবহার করে ইসরায়েলী সেনাবাহিনী GE বানিয়ে দিচ্ছে। এছাড়া তাদের সেনাবাহিনীর বিভিন্ন সামরিক বিমানের ইঞ্জিনের মূল সরবরাহকও এরা। অথচ GE’র এসি, গাড়ি, ক্যামেরা ছাড়া আরও কতকিছু নির্দ্বিধায় ব্যবহার করছি।  ম্যাকডোনাল্ডস, কেএফসি অথবা স্টারবাকস ইহুদিদের তৈরি  বিশ্বের সবচেয়ে বেশি প্রচলিত ও লাভজনক ফুড ও কফিশপ। গাজা যুদ্ধে সরাসরি প্রযুক্তিগত সহযোগিতা করছে ইহুদীবাদী সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠান মাইক্রোসফট। যে উপাদান গুলো সরাসরি ইসরায়েলর সাথে সম্পৃক্ত সেগুলো আমরা নির্দ্বিধায় ব্যবহার করছি। তাছাড়া Mojo জার্মান প্রযুক্তির ও RC জর্জিয়া (US) কলম্বাসের পণ্য...Mojo, RC জায়েজ হলে পেপসি বা কোকাকলার দোষ কি...?

লেখক: সাংবাদিক ও কলামিস্ট।

(মত-দ্বিমত ক্যাটাগরিতে প্রকাশিত লেখা লেখকের একান্ত মতামত। এর জন্য স্বদেশ প্রতিদিন দায়বদ্ধ নয়।)

স্বদেশ প্রতিদিন/ এমএম

আরও সংবাদ   বিষয়:  পেপসি   কোকাকোলা   মোজো   হারাম  






Loading...
Loading...
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ  
অনুসরণ করুন
     
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী
স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড -এর পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক সিটি পাবলিশিং লি, আর কে মিশন রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।
ফোন: ৯৮৫১৬২০, ৮৮৩২৬৪-৬, ফ্যাক্স: ৮৮০-২-৯৮৯৩২৯৫। ই-মেইল : [email protected], [email protected]
🔝
close
অনুসরণ করুন
     
সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী
স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড -এর পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক সিটি পাবলিশিং লি, আর কে মিশন রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।
ফোন: ৯৮৫১৬২০, ৮৮৩২৬৪-৬, ফ্যাক্স: ৮৮০-২-৯৮৯৩২৯৫। ই-মেইল : [email protected], [email protected]
🔝
close