
অত্যন্ত আলোচিত এক দুর্নীতির মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রীর শিল্প ও বিনিয়োগবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, বিএসইসি’র সাবেক চেয়ারম্যান শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলামসহ ৩০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
বুধবার (১৬ এপ্রিল) গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন দুদকের মহাপরিচালক মো. আখতার হোসেন। তিনি জানান, এনফোর্সমেন্ট ইউনিটের মাধ্যমে এই তদন্ত ও মামলার কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
দুদকের অভিযোগ, ক্ষমতার অপব্যবহার, প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে ৮৭ কোটি টাকার সম্পত্তিকে অস্বাভাবিকভাবে অতিমূল্যায়ন করে ‘শ্রীপুর টাউনশিপ লিমিটেড’ নামে সদ্য নিবন্ধিত একটি কোম্পানির মাধ্যমে বন্ড ইস্যু করে এক হাজার কোটি টাকা উত্তোলন করা হয়।
এই অর্থের মধ্যে ২০০ কোটি টাকার এফডিআর করা হয়, আর বাকি ৮০০ কোটি টাকা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের হিসাবে স্থানান্তর করা হয়—যার বেশিরভাগই গেছে বেক্সিমকো ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেডে। সেখান থেকে নগদ উত্তোলন ও সন্দেহজনক লেনদেনের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ ও মানি লন্ডারিং হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
দুদক বলছে, ‘এই অর্থ উত্তোলনের প্রক্রিয়ায় সিআইবি (ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরো) রিপোর্ট সংগ্রহ না করা, সম্পত্তির যথাযথ পরিদর্শন বা মূল্যায়ন না করাসহ একাধিক অনিয়ম ও নিয়মভঙ্গ হয়েছে। বিষয়টি দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন এবং দণ্ডবিধির একাধিক ধারা অনুযায়ী ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।’
এই মামলার মোট আসামি ৩০ জন, যাদের মধ্যে রয়েছেন শীর্ষ ব্যবসায়ী, ব্যাংক কর্মকর্তা, বিএসইসি ও ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন:- সালমান এফ রহমান, শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম, আহমেদ শায়ান ফজলুর রহমান, শাহ আলম সারোয়ার, তিলাত শাহরিন, মশিউজ্জামান, গীতাঙ্ক দেবদীপ দত্ত, আয়েশা সিদ্দিকা, সিলভিয়া চৌধুরী এবং আরও অনেকে, যারা বিএসইসি, আইএফআইসি ব্যাংক এবং সন্ধানী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট।
মামলাটির তদন্ত ইতমধ্যে শুরু হয়েছে। আইন অনুযায়ী অভিযুক্তদের জবাবদিহি করতে হবে এবং প্রমাণ পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন দুদকের কর্মকর্তারা।
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম