
বাংলাদেশ জাসদের স্থায়ী কমিটির সদস্য মুশতাক হোসেন মনে করেন, সংবিধানের প্রস্তাবনায় ‘বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম’ এবং তার বাংলা অনুবাদ সংযোজন করা উচিত নয়। তার ভাষ্য, ‘পবিত্র ধর্মগ্রন্থের বক্তব্যের সঙ্গে সংবিধানের তুলনা করা যায় না।’
শনিবার (১২ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের এলডি হলে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে অনুষ্ঠিত সংলাপে তিনি এই মন্তব্য করেন।
দলের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধানের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দল বৈঠকে অংশ নেয়। সেখানে স্থায়ী কমিটির সদস্য মুশতাক হোসেন বলেন, ‘সংবিধানের শুরুতে ‘বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম’ রাখা সমীচীন নয়। কারণ, ধর্মগ্রন্থের বক্তব্যকে একটি মানব-প্রণীত রাষ্ট্রীয় নথির সঙ্গে তুলনা করা ঠিক নয়। একই সঙ্গে সংবিধান থেকে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র ও বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ অপসারণের প্রস্তাবকে দলটি স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে।’
সংলাপে বাংলাদেশ জাসদ অভিযোগ করে, সংস্কার কমিশনের প্রস্তাবে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ ও ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানকে সমান গুরুত্ব দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে, যা মুক্তিযুদ্ধের মর্যাদাকে খাটো করে। দলটির মতে, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পাশাপাশি ১৯৯০-এর গণঅভ্যুত্থানও ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এবং সংবিধানে তা উল্লেখ করা প্রয়োজন।
জাসদ স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র ও ৭ মার্চের ভাষণ সংবিধানে সংযুক্ত থাকার পক্ষে মত দেয় এবং দেশের নাম ‘বাংলা’ করা সংক্রান্ত প্রস্তাবকে অপ্রয়োজনীয় বলে উল্লেখ করে। দলটি সংবিধানের ৫ম ও ৭ম সংশোধনী বাতিলের পক্ষে অবস্থান নেয়।
আদিবাসী সম্প্রদায়ের সাংবিধানিক স্বীকৃতির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে জাসদ বলে, ‘সংবিধানে বাঙালির পাশাপাশি অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীকেও ‘আদিবাসী’ অভিধাসহ অন্তর্ভুক্ত করা উচিত।’
নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার বয়সসীমা কমানোর প্রস্তাবের বিরোধিতা করে দলটি উল্লেখ করে, নির্বাচন কমিশনারদের মেয়াদ শেষে জাতীয় সংসদের মাধ্যমে শাস্তির বিধান নির্ধারণ করলে কমিশনারদের স্বাধীনভাবে কাজ করায় প্রতিবন্ধকতা তৈরি হবে।
অর্থবিলসহ অনাস্থা প্রস্তাবের ক্ষেত্রেও দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে ভোট দেওয়ার সুযোগ না রাখার পক্ষে মত দিয়েছে জাসদ। তারা মনে করে, এসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সংসদ সদস্যদের স্বাধীনভাবে মত প্রকাশের সুযোগ থাকা উচিত।
জাসদ মনে করে, শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণের প্রস্তাব বৈষম্য সৃষ্টি করবে এবং সাধারণ মানুষের রাজনৈতিক অংশগ্রহণকে বাধাগ্রস্ত করবে।
দলটি প্রশাসনিক কাঠামোতে পরিবর্তনের প্রসঙ্গে বলেছে, বাংলাদেশকে প্রদেশভিত্তিক বিভাজন সময়োপযোগী। সব ক্যাডারে সমতা আনার পক্ষে তারা মত দেয় এবং কোনো নির্দিষ্ট ক্যাডারকে ঔপনিবেশিক ধাঁচে গড়ে তোলার প্রয়াস পরিহারের আহ্বান জানায়। জেলা পরিষদ বহাল রাখার পক্ষে দলটি মত দিয়েছে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এমএম