
চার মাসের দীর্ঘ প্রতীক্ষা শেষে অবশেষে যশপ্রীত বুমরাকে আবার মাঠে দেখা যাবে। চোটের কারণে অনেক দিন ধরে দলের বাইরে থাকা এই ভারতীয় পেস তারকা আজ রাতে ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে ফিরছেন আইপিএলে। আর তাঁর এই প্রত্যাবর্তন ঘিরে মুম্বাই ইন্ডিয়ানস শিবিরে যেমন উচ্ছ্বাস, তেমনি বেঙ্গালুরু শিবিরে উঁকি দিচ্ছে রণকৌশল ও প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলার পরিকল্পনা।
পিঠের চোটের কারণে চ্যাম্পিয়নস ট্রফি খেলতে পারেননি বুমরা। আইপিএলের শুরুতেও তাঁকে ছাড়াই মাঠে নামে মুম্বাই ইন্ডিয়ানস। প্রথম চার ম্যাচের মধ্যে তিনটিতে হেরে বসে তারা, যেখানে স্পষ্ট হয়ে ওঠে দলের অন্যতম স্তম্ভ বুমরার অনুপস্থিতির প্রভাব। তাঁকে নিয়ে সমর্থকদের মনে প্রশ্ন ছিল—কবে ফিরবেন, কবে সেই আগুনে স্পেল উপহার দেবেন?
শেষ পর্যন্ত সেই অপেক্ষার অবসান ঘটল। বেঙ্গালুরুর জাতীয় ক্রিকেট একাডেমিতে কয়েক মাস ধরে পুনর্বাসন শেষে পুরোপুরি ফিট হয়ে ফিরেছেন বুমরা। পরশু দিন তিনি মুম্বাই শিবিরে যোগ দেন, আর আজ ওয়াংখেড়েতে নিজের চেনা ভঙ্গিতে বল হাতে মাঠে নামবেন বলে আশা করা হচ্ছে। তাঁর প্রত্যাবর্তন নিয়ে মুম্বাই ইন্ডিয়ানস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘোষণা দেয়, ‘সিংহ ফিরে এসেছে এবং আবার এই জঙ্গলের রাজা হতে প্রস্তুত।’
তবে বুমরার এই রাজকীয় প্রত্যাবর্তনকে হালকাভাবে নিচ্ছে না বেঙ্গালুরু। বরং বুমরার বিপক্ষে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ক্রিকেট খেলবে বলেই জানিয়ে দিয়েছে তারা। অস্ট্রেলিয়ান পাওয়ার হিটার টিম ডেভিড ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে বলেন, আশা করি বুমরা প্রথম ওভার করবে, আর আমাদের ওপেনাররা প্রথম বলেই চার বা ছক্কা মেরে তাঁকে স্বাগত জানাবে—এটাই আমাদের বার্তা।
মজার ব্যাপার হলো, এই টিম ডেভিডই আবার বুমরার সাবেক সতীর্থ। তিনি ২০২১ সালে এবং ২০২২-২৪ সাল পর্যন্ত মুম্বাই ইন্ডিয়ানসে খেলেছেন। ফলে বুমরার বল সম্পর্কে তাঁর রয়েছে সরাসরি অভিজ্ঞতা। বুমরার প্রশংসাও করেছেন তিনি, সবাই জানে, সে বিশ্বের অন্যতম সেরা বোলার। তাঁকে আবার মাঠে দেখা দারুণ ব্যাপার। তবে আমরা তাঁর বিপক্ষে লড়তে প্রস্তুত।
বুমরার কুখ্যাত ইয়র্কার সামলানোর প্রস্তুতির কথা বলতে গিয়েও রসিকতা করেন ডেভিড, জানি, সে মারাত্মক ইয়র্কার করবে। আমি শুধু আমার পায়ের আঙুলগুলো বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করব (হাসি)।
এবারের আইপিএলে দারুণ ফর্মে আছেন ডেভিড। মাত্র দুই ম্যাচে ব্যাটিংয়ের সুযোগ পেয়েই ঝড় তুলেছেন—৮ বলে ২২* এবং ১৮ বলে ৩২ রান করেছেন। তাঁর দল বেঙ্গালুরু তিন ম্যাচে দুই জয়ে আছে পয়েন্ট টেবিলের তিন নম্বরে।
তবে ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে মুম্বাইয়ের বিপক্ষে বেঙ্গালুরুর পারফরম্যান্স খুব একটা আশাব্যঞ্জক নয়। এই মাঠে শেষ ছয় ম্যাচে টানা হেরেছে তারা, শেষ জয়টা এসেছিল ২০১৫ সালে। এক দশক পেরিয়ে যাওয়ার পর আজ রাতের ম্যাচেই কি তারা সেই ‘ওয়াংখেড়ে জুজু’ কাটিয়ে উঠবে?
অন্যদিকে, মুম্বাইয়ের জন্য এই ম্যাচ কেবল আরেকটি লিগ ম্যাচ নয়—এটা যেন রাজপুত্র বুমরার রাজ্যে প্রত্যাবর্তনের উৎসব। এই ম্যাচ দিয়েই নিজেদের ঘুরে দাঁড়ানোর বার্তাও দিতে চায় পাঁচবারের চ্যাম্পিয়নরা।
তাই আজকের ম্যাচে শুধু দুই দলের লড়াই নয়, একদিকে সেরা পেসারের প্রত্যাবর্তন, অন্যদিকে তাঁর বিপক্ষে দাঁড়িয়ে আক্রমণের বার্তা—সব মিলিয়ে ওয়াংখেড়ের আকাশে জমে উঠছে হাই ভোল্টেজ ক্রিকেট নাটক।
স্বদেশ প্রতিদিন/এনআর