প্রকাশ: শুক্রবার, ২১ মার্চ, ২০২৫, ১০:০৫ AM

বাংলাদেশে কাঁকড়ার ব্যবসার জন্য ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) থেকে ট্রেড লাইসেন্স নিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
লাইসেন্সটি ইস্যু করা হয়েছে ১১ মার্চ বিকেলে। লাইসেন্স অনুযায়ী, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের নাম ‘ট্রাম্প এসোসিয়েশন’। ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মালিকের নাম ডোনাল্ড ট্রাম্প। বাবার নাম ফ্রেড ট্রাম্প। মায়ের নাম ম্যারি অ্যান ম্যাকলিওড ট্রাম্প। বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মা–বাবার নামও তা–ই। এসব ছাপিয়ে আরও বিস্ময়কর বিষয় হলো, লাইসেন্সে মালিক হিসেবে রয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হাস্যোজ্জ্বল একটি ছবি।
লাইসেন্সে মালিকের ব্যক্তিগত তথ্য ও ঠিকানা—সবই দেওয়া হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরের। তবে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ঠিকানা ঢাকার আফতাবনগরে।
ভুয়া এই ট্রেড লাইসেন্স দিয়েছে ডিএনসিসির রাজস্ব বিভাগ, ডিএনসিসির অঞ্চল-১০-এর সাতারকুল এলাকা থেকে। ব্যবসার প্রকৃতি হিসেবে সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে অন্যান্য-একক। আর ব্যবসার ধরন কাঁকড়া, মাছ বিক্রেতা। ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ঠিকানা দেওয়া হয়েছে ডিএনসিসির আওতাধীন বাড্ডার আফতাবনগরের ২ নম্বর সেক্টরের এফ ব্লকের ৪ নম্বর রোডের ৪০/৪২ নম্বর বাড়ি।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের নামে ই-ট্রেড লাইসেন্সের এমন একটি অনলাইন কপি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ঘুরে বেড়াচ্ছে। অনেকেই হাসির ইমোজি দিয়ে এটি টাইম লাইন শেয়ারও করছেন। তবে এখন প্রশ্ন হলো -ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ঢাকায় কাঁকড়া ব্যবসার ই-ট্রেড লাইসেন্স কেন দিলো ডিএনসিসি?
বিষয়টি জানতে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ব্যবসা করার জন্য ট্রেড লাইসেন্স বাধ্যতামূলক, যেটা প্রদান করে সিটি কর্পোরেশন। আগের পদ্ধতিতে কোনো ট্রেড লাইসেন্স নিতে হলে, আবেদনকারীর আবেদনের পর সিটি কর্পোরেশনের রাজস্ব বিভাগের এক কর্মকর্তা মাঠপর্যায়ে গিয়ে আবেদনপত্রের যাচাই বাছাই করতো। যা করা হতো সরেজমিনে গিয়ে। এছাড়া ট্রেড লাইসেন্স পেতে আগে বিভিন্ন সংস্থা কিংবা অধিদপ্তর থেকে প্রয়োজনীয় অনুমতি বা ছাড়পত্রও নিতে হতো। তখন ট্রেড লাইসেন্স কেবল পাওয়া যেত বৈধ এবং সব কিছু ঠিক থাকলে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ডিএনসিসির রাজস্ব বিভাগের একাধিক কর্মকর্তা বলেন, কিছু দিন আগে ডিএনসিসির প্রশাসকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত রাজস্ব বিভাগের একটি সভায় ট্রেড লাইসেন্স সেবা দ্রুত ও সহজ করা নিয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়। সেখানে সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আবেদনকারী লাইসেন্সের জন্য আবেদন করে প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংযুক্ত করে টাকা জমা দিলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ই-ট্রেড লাইসেন্স ইস্যু হবে। আবেদনকারী নিজেই সেই লাইসেন্স প্রিন্ট দিয়ে ব্যবহার করতে পারছেন। যে কারণে এখন এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে অনেকে ভুয়া ট্রেড লাইসেন্স তৈরি করে নিচ্ছে। যে কারণে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নামেও ঢাকায় কাঁকড়া ব্যবসার ই-ট্রেডলাইসেন্স ইস্যু হয়েছে। এছাড়াও ভুয়া কাগজপত্র দিয়ে, কোনো রকমের যাচাই বাছাই ছাড়া এমন ই-ট্রেড লাইসেন্স করার সুযোগ বর্তমানে তৈরি হয়েছে। সেবা সহজ করতে গিয়েই এমন সুযোগকে ব্যবহার করছে অসাধুরা।
স্বদেশ প্রতিদিন/কেএইচ