প্রকাশ: সোমবার, ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫, ১:০৪ পিএম

কিশোরগঞ্জ জেলার ভৈরব উপজেলায় তিনটি ইউনিয়নে স্থাপন করা হয়েছে বারিড পাইপের (ভ’-গর্ভস্থ সেচ নালা) সেচ ব্যবস্থা, যা কৃষকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। এই আধুনিক সেচ ব্যবস্থার মাধ্যমে কৃষকরা কম খরচে, সাশ্রয়ীভাবে এবং পানির অপচয় ছাড়া ফসল উৎপাদন করতে পারবেন।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, পূর্বে তারা সেচের জন্য ড্রেন করে ডিপ টিউবওয়েলের মাধ্যমে পানি দিতেন। তবে পানির স্রোতের তীব্রতায় ড্রেনের মাটি ভেঙে জমির আকৃতি ছোট হয়ে যাওয়ায় শস্যের উৎপাদন কমে যেত। এ সমস্যার সমাধানে ফ্লাড রিকনষ্টাকশন ইমার্জেন্সি এসিসষ্টেন্স প্রজেক্ট (ফ্রিপ)-এর আওতায়, ৩ ইউনিয়নের দেড় শত বিঘা জমিতে স্থাপন করা হয়েছে বারিড পাইপ সেচ ব্যবস্থা।
এই সেচ ব্যবস্থায় ১৬ শ ফুট বারিড পাইপ মাটির নিচ দিয়ে স্থাপন করা হয়েছে, যা একেকটি সেচের মাধ্যমে ৫০ বিঘা জমিতে পানি সরবরাহ করতে সক্ষম। পাইপগুলো জমির নিচ দিয়ে যাওয়ায় জমির কোনো ক্ষতি হয় না এবং সেচের ব্যবস্থায় পানির অপচয়ও কমে যায়। একাধিক রাইজারের মাধ্যমে কৃষকরা তাদের জমিতে প্রয়োজন অনুযায়ী পানি দিতে সক্ষম হচ্ছেন।
ফ্রিপ প্রকল্পের মাধ্যমে এই সেচ ব্যবস্থায় সৌর বিদ্যুতের ব্যবস্থাও করা হচ্ছে, ফলে কৃষকরা ডিজেল বা বিদ্যুৎ ব্যবহার ছাড়াই সেচ সুবিধা পেয়ে উপকৃত হচ্ছেন। এই ব্যবস্থা চালু হওয়ার পর কৃষকদের উৎপাদন খরচ কমে যাবে এবং অনাবাদি জমিতে চাষাবাদও সম্ভব হবে।
এ বিষয়ে স্থানীয় কৃষক রফিকুল ইসলাম, সরিফ মিয়া, রবিউল সানি এবং রবিন মিয়া জানান, তারা এখন আর ড্রেন কেটে সেচের পানি ব্যবহার করেন না। সৌর বিদ্যুতের মাধ্যমে সেচ ব্যবস্থার সুবিধা পেয়ে তারা উপকৃত হচ্ছেন এবং জমির ক্ষতি ছাড়াই পানি ব্যবহার করতে পারছেন।
ভৈরব উপজেলা কৃষি অফিসার আকমলিয়া বগেম বলেন, "ফ্রিপ প্রকল্পের আওতায় বারিড পাইপের মাধ্যমে সেচ ব্যবস্থার স্থাপন কৃষকদের জন্য একটি আধুনিক ও সাশ্রয়ী সমাধান।"
তিনি আরও জানান, পর্যায়ক্রমে অন্যান্য ইউনিয়নেও বারিড পাইপ স্থাপন করা হবে যাতে ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি পায় এবং কৃষকরা লাভবান হতে পারে।
এই প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষকরা পানির অপচয় কমিয়ে এবং উৎপাদন খরচ সাশ্রয় করে তাদের ফসলের উৎপাদন বাড়াতে সক্ষম হবেন যা কৃষি উৎপাদনকে আরো টেকসই করে তুলবে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এমআর