
দেশের বিশিষ্ট ২৬ জন নাগরিক তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা জানিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মেয়ে শেখ হসিনার ঐতিহাসিক বাড়ি ধ্বংসের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা এই ঘটনাকে ‘নির্মম ধ্বংসযজ্ঞ’ হিসেবে আখ্যায়িত করে এর সুষ্ঠু তদন্ত এবং ঘটনার দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
শুক্রবার (৭ ফেব্রুয়ারি) এক যৌথ বিবৃতিতে তারা বলেন, ৫ ও ৬ ফেব্রুয়ারি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতিতে ক্রেন ও বুলডোজার ব্যবহার করে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক বাড়িটি ধ্বংস করা হয়। এর পাশাপাশি অন্যান্য স্থাপনায়ও আগুন দেওয়া হয়েছে, যা সভ্য সমাজের জন্য অত্যন্ত লজ্জাজনক ও দুঃখজনক।
বিবৃতির মাধ্যমে তারা প্রশ্ন তোলেন, "আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কেন এ ঘটনায় নিরব দর্শকের ভূমিকা পালন করলো? জনগণের অর্থে পরিচালিত এসব সংস্থা কীভাবে প্রকাশ্যে সংঘটিত অপরাধের সময় নিষ্ক্রিয় থাকতে পারে?" তারা অভিযোগ করেন, "এটি কি অপরাধীদের সহযোগিতা করার সমান নয়?"
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, "এই ধ্বংসযজ্ঞের জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাসহ সংশ্লিষ্টরা দায় এড়াতে পারেন না। এটি শুধু একটি ভবন ধ্বংসের ঘটনা নয়, বরং ইতিহাস ও সংস্কৃতির ওপর বর্বর আঘাত।"
বিবৃতিতে এও দাবি করা হয়েছে যে, এই ঘটনার পেছনে যারা জড়িত, তাদের চিহ্নিত করে এবং তরুণদের বিভ্রান্ত করে সহিংসতায় উৎসাহিত করা হয়েছে, তা তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে।
বিশিষ্টজনেরা আরও বলেন, "বিশ্বের প্রতিটি দেশে ঐতিহাসিক নিদর্শন সুরক্ষিত থাকে, তা সে যে শাসকেরই হোক না কেন। কিন্তু বাংলাদেশে উল্টো তা ধ্বংস করা হচ্ছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।"
বিবৃতিতে সরকারকে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা, স্বচ্ছ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানানো হয়েছে।
এই বিবৃতিতে সই করেছেন—সুলতানা কামাল, রাশেদা কে চৌধুরী, আনু মুহাম্মদ, খুশী কবির, পারভীন হাসান, ইফতেখারুজ্জামান, শামসুল হুদা, সারা হোসেন, সৈয়দ আবু নাসের বখতিয়ার আহমেদ, সুব্রত চৌধুরী, নুর খান, শাহনাজ হুদা, নোভা আহমেদ, জোবাইদা নাসরীন, মোহম্মদ সেলিম হোসেন, শাহ-ই-মবিন জিন্নাহ, জাকির হোসেন, রেজাউল করিম চৌধুরী, মনীন্দ্র কুমার নাথ, সাঈদ আহমেদ, মিনহাজুল হক চৌধুরী, আশরাফ আলী, শাহাদত আলম, রেজাউল হক, হানা শামস আহমেদ এবং মুক্তাশ্রী চাকমা।
স্বদেশ প্রতিদিন/এমআর