প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬, ৭:২৭ পিএম

ঠাকুরগাঁওয়ের ভূল্লী উপজেলায় বাড়ির পাশের একটি গাছ থেকে আদুরী রানী (২১) নামে এক কলেজছাত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকালে ভূল্লী উপজেলার ১ নম্বর বড়গাঁও ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের আরাজী কেশুরবাড়ী (আউতাই পাড়া) গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় এলাকায় শোক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
নিহত আদুরী রানী ওই গ্রামের সূর্য সাহা ও ভারতী সাহার মেয়ে। তিনি ঠাকুরগাঁও সরকারি কলেজের অনার্স প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সকাল আনুমানিক ৬টা ৩০ মিনিট থেকে ৭টার মধ্যে পরিবারের সদস্যদের অগোচরে বাড়ির উত্তর-পূর্ব পাশে প্রায় ২৫ গজ দূরে আব্দুর রহমানের ধানক্ষেতের সীমানায় থাকা একটি সড়কজিগার গাছের ডালে নিজের ব্যবহৃত ওড়না দিয়ে ফাঁস দেন আদুরী। পরে সকালে তাঁর ছোট ভাই আশিক ঘুম থেকে উঠে বাড়ির পেছনে গিয়ে তাঁকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পায়। তার চিৎকারে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা ছুটে এসে মরদেহ নিচে নামান।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত চার-পাঁচ বছর ধরে পার্শ্ববর্তী জালালী গ্রামের ক্ষিতীশ দেবনাথের ছেলে কিশোর দেবনাথের (২২) সঙ্গে আদুরীর প্রেমের সম্পর্ক ছিল। বিষয়টি ছেলের পরিবারের সদস্যরা জানতে পেরে তাঁকে অন্যত্র বিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন বলে জানা গেছে।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ২ নভেম্বর সন্ধ্যার পর বিয়ের উদ্দেশ্যে স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. মনিরুজ্জামান মঞ্জুর সঙ্গে ওই তরুণ-তরুণী ঠাকুরগাঁও আদালতে এফিডেভিট করতে যান। তবে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়ায় তাঁরা ফিরে আসেন। এরপর রাতে আদুরী খাবার না খেয়ে অসুস্থতার কথা জানিয়ে ছোট দুই বোনের সঙ্গে ঘুমিয়ে পড়েন।
পরদিন সকালে তাঁর ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পেয়ে পরিবারের সদস্যরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। প্রাথমিকভাবে প্রেমের সম্পর্ক ও বিয়ে নিয়ে পারিবারিক জটিলতাকে ঘটনার সম্ভাব্য প্রেক্ষাপট হিসেবে ধারণা করছেন স্বজন ও স্থানীয়রা। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ তদন্তসাপেক্ষ। খবর পেয়ে ভূল্লী থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধারসহ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে।
ভূল্লী থানার সেকেন্ড অফিসার রাশেদুল ইসলাম রাশেদ বলেন, পরিবারের কোনো আপত্তি না থাকায় মরদেহটি স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা রুজু করা হয়েছে।