
সংগৃহীত ছবি
যুক্তরাষ্ট্রে হ্যালোইন উৎসব ঘিরে বিভিন্ন স্থানে গুলিবর্ষণ ও সহিংসতার ঘটনায় অন্তত ২৪ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ৯৪ জন। ক্যালিফোর্নিয়া থেকে ডেলাওয়ার পর্যন্ত নৈশক্লাব, পোশাকের দোকান, স্টেডিয়াম ও বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার আশপাশে এসব ঘটনা ঘটে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস, এনবিসি ও বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের তথ্য অনুযায়ী, ৩১ অক্টোবর থেকে ১ নভেম্বরের মধ্যে দেশটির বিভিন্ন এলাকায় এসব সহিংসতার ঘটনা ঘটে।
টেক্সাসের ডালাস শহরের ডিপ এলাম এলাকায় রোববার ভোরে তিনটি পৃথক গুলিবর্ষণের ঘটনায় চারজন নিহত ও ১৫ জন আহত হয়েছেন। পুলিশ জানায়, রাত ১২টা ২০ মিনিট থেকে ১টা ৩৫ মিনিটের মধ্যে এলম স্ট্রিট, মেইন স্ট্রিট ও সাউথ ক্রাউডাস স্ট্রিটে এসব ঘটনা ঘটে। এলাকাটি বার, রেস্তোরাঁ ও নৈশক্লাবের জন্য পরিচিত। হ্যালোইন উপলক্ষে সেখানে বিপুলসংখ্যক মানুষের সমাগম হয়েছিল।
ফ্লোরিডার জ্যাকসনভিলেও দুটি পৃথক গুলির ঘটনায় ১৩ জন গুলিবিদ্ধ হন। এর মধ্যে দুজন নিহত হয়েছেন। একটি পার্টিতে গুলির ঘটনায় ২০ বছর বয়সী এক তরুণ নিহত হন। আহত ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরীর অবস্থা স্থিতিশীল থাকলেও অন্য একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মিসিসিপির জ্যাকসনের একটি নৈশক্লাবে গুলিতে দুজন নিহত ও চারজন আহত হয়েছেন। নর্থ ক্যালিফোর্নিয়ার একটি পোশাকের দোকানে বন্দুকধারীর গুলিতে চার সন্তানের জননী এক অন্তঃসত্ত্বা নারী নিহত হন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ছয়জন।
এ ছাড়া আলাবামার বার্মিংহামে লেজিয়ন ফিল্ডের বাইরে গুলিতে একজন নিহত ও আটজন আহত হন। ইলিনয়ের ব্লুমিংটনে ইলিনয় ওয়েসলিয়ান ইউনিভার্সিটির ক্যাম্পাসের কাছে গুলিতে ১৯ বছর বয়সী এক তরুণী নিহত হন। আহত হন আরও সাতজন।
ডেলাওয়ারের নিউয়ার্কে ইউনিভার্সিটি অব ডেলাওয়ারের কাছে গুলিতে ছয়জন আহত হয়েছেন। আরকানসাসের ফায়েটভিলেও গুলিবর্ষণে আহত হয়েছেন ছয়জন। এ ছাড়া ওকলাহোমা সিটি ও ইন্ডিয়ানার ব্লুমিংটনসহ বিভিন্ন স্থানে সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। কয়েকটি ঘটনায় হামলার উদ্দেশ্য ও জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় জানতে তদন্ত চলছে।
ডালাসের পুলিশপ্রধান ড্যানিয়েল কোমো জানান, হ্যালোইন উপলক্ষে আগেই অতিরিক্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। গুলির খবর পেয়ে কাছাকাছি থাকা পুলিশ সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান।
বন্দুক সহিংসতা নিয়ে কাজ করা বিশেষজ্ঞদের মতে, উৎসবের সময় বড় জনসমাগম, মদ্যপান ও আগ্নেয়াস্ত্রের সহজলভ্যতা সহিংসতার ঝুঁকি বাড়াতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের ব্যুরো অব জাস্টিস স্ট্যাটিস্টিকসের সাবেক পরিচালক ও ইউনিভার্সিটি অব মায়ামির অপরাধবিজ্ঞানী অ্যালেক্সিস পিকেরো বলেন, ‘পুলিশ প্রতিটি বারে থাকতে পারে না। প্রতিটি গাড়ি পার্কিংয়ের জায়গাতেও থাকতে পারে না।’