
কিশোরগঞ্জের ভাটির রানীখ্যাত উপজেলা অষ্টগ্রামের হাওরে রোপা আমনের সবুজ পাতায় স্বপ্ন বুনছেন কৃষক। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের হাওরে এখন চারদিকে সবুজের সমারোহ, যেদিকে চোখ যায় শুধু সবুজ আর সবুজ।
সকালে সোনালি রোদে ধানের পাতায় শিশিরের ফোঁটায় আলোর ঝলকানি কৃষকের মনে দোলা দিয়ে যায়। দিবাস্বপ্নে বিভোর হয়ে কৃষক তাকিয়ে থাকেন জমির দিকে।
মাঠের পর মাঠ যেন সবুজের আলপনায় এঁকে দিচ্ছে কৃষকের আগামীর সোনালি স্বপ্ন। আর কিছুদিনের মধ্যে সোনালি ধানের শীষে ঝলমল করবে ফসলের মাঠ, পাকা ধানে ভরে উঠবে কৃষকের গোলা। আশা করা যাচ্ছে, এবার আমনের বাম্পার ফলন গতবারের সব রেকর্ড ভেঙে দেবে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এবার উপজেলার ৬টি ইউনিয়নে আমন ধান রোপণের অর্জিত লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১ হাজার ৮৭০ হেক্টর জমিতে। সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, উপজেলার পূর্ব অষ্টগ্রাম, সদর, আবদুল্লাহপুর, কলমা ও বাঙ্গালপাড়া ইউনিয়নের গ্রামগুলোতে আমন ধানের মাঠ সবুজে ছেয়ে গেছে। প্রয়োজনীয় বৃষ্টি ও আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ক্ষতিকর পোকা ফসলের তেমন ক্ষতি করতে পারেনি।
কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এ বছর তাঁরা ব্রি-৪৯, ব্রি-৭৫, ব্রি-৮৭, ব্রি-১০৩, বিআর-২২, বিনা-৭ ও বিনা-১৭ জাতের ধান রোপণ করেছেন। আমন মৌসুমের শুরুতে সেচের পানি কিনতে হয়নি বলে তাঁদের খরচও কম হয়েছে। এতে করে তাঁরা আর্থিকভাবে লাভবান হবেন। সঠিক সময়ে ফসল ঘরে তুলতে পারলে তাঁদের খাদ্যের চাহিদাও পূরণ হবে।
পূর্ব অষ্টগ্রামের প্রান্তিক কৃষক দিলীপ সূত্রধর বলেন, “এ বছর আমি ৩ বিঘা জমিতে আমন ধান চাষ করেছি। এমন সুন্দর ধানের চারা দেখে মন ভরে গেছে।”
একই গ্রামের আরেক কৃষক মামুন মিয়া বলেন, মাঠপর্যায়ে কৃষি বিভাগের লোকদের পরামর্শ নিয়ে তাঁরা উপকৃত হচ্ছেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) এমাজ উদ্দিন বলেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং তেমন প্রাকৃতিক দুর্যোগ না ঘটায় এ বছর উপজেলায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অধিক ফলন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আগাম সতর্কতা হিসেবে বাদামি গাছফড়িংয়ের আক্রমণের ব্যাপারে সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এফএইচ