প্রকাশ: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:১৪ পিএম

নরওয়ের আর্কটিক অঞ্চলের ছোট্ট দ্বীপ সোমারয়ে গ্রীষ্মকালে টানা ৬৯ দিন সূর্য অস্ত যায় না। মধ্যরাতেও আকাশে সূর্যের আলো থাকায় দিন-রাতের প্রচলিত পার্থক্য সেখানে অনেকটাই অস্পষ্ট হয়ে পড়ে। এই বৈশিষ্ট্যকে ঘিরে ২০১৯ সালে দ্বীপটিকে বিশ্বের প্রথম ‘সময়মুক্ত অঞ্চল’ হিসেবে গড়ে তোলার প্রচারণা শুরু হয়েছিল। তবে পরে জানা যায়, এটি ছিল মূলত পর্যটকদের আকৃষ্ট করার উদ্যোগ; দ্বীপের সব বাসিন্দাও এতে যুক্ত ছিলেন না।
বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রমসো শহর থেকে প্রায় ৫৬ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত সোমারয়ে প্রায় ৩০০ মানুষের বসবাস। প্রতিবছর ১৮ মে থেকে ২৬ জুলাই পর্যন্ত সেখানে সূর্য অস্ত যায় না। বিপরীতে, শীতকালে এমন সময় আসে, যখন সূর্য ওঠেই না। প্রকৃতির এই বৈশিষ্ট্য দ্বীপের মানুষের জীবনযাপনে ভিন্ন অনুভূতি তৈরি করলেও দোকান, হোটেল ও রেস্তোরাঁগুলো এখনো নির্ধারিত সময় মেনেই চলে।
২০১৯ সালের প্রচারণায় সেতুর রেলিংয়ে ঘড়ি ঝুলিয়ে সময়ের বাঁধন তুলে দেওয়ার প্রতীকী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। পরে পর্যটন উন্নয়ন সংস্থা ইনোভেশন নরওয়ের ভূমিকা সামনে আসার পর বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। স্থানীয়দের কেউ কেউ গ্রীষ্মে তুলনামূলক স্বাধীন ও ধীরগতির জীবনযাপনের কথা বললেও বাস্তবে স্কুল, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও দৈনন্দিন কাজের জন্য সময়ের হিসাব জরুরি। ফলে সোমারয়ের বিশেষত্ব সময়ের নিয়ম পুরোপুরি তুলে দেওয়া নয়; বরং প্রকৃতির ভিন্নতায় সময়কে অন্যভাবে অনুভব করার সুযোগ।
স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি