প্রকাশ: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৫৬ পিএম

পুলিশের নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর মামলার অন্যতম সাক্ষী মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর লাশ দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে। রবিবার রাত ২টার দিকে পিরোজপুর সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের চিতলিয়া গ্রামে মানিক পশারীর নিজ বাড়িতে মৃতদেহ দাফন সম্পন্ন করে পুলিশ।
এর আগে শনিবার দুপুর ১২টার পিরোজপুর সদর উপজেলা পরিষদ চত্বরে মুক্তিযোদ্ধা মানিকপশারীর মরদেহ আসলে জেলা জামায়াতের নেতাকর্মী ও স্থানীয়দের তোদের মুখে পড়ে মানিক পশারীর লাশ সহ স্বজনরা। পরে পুলিশের সহায়তায় লাশ সরিয়ে নেয়া হয় পুলিশ লাইনসে। সেখানে বিকেল ৫টার দিকে গার্ড অফ অনার শেষে লাশ ঘিরে রাখে পিরোজপুর সদর থানা পুলিশ।
পরে রাত ১টার দিকে সদর থানা পুলিশ জেলা জামায়াতে ইসলামীর নেতৃবৃন্দের সহায়তায় লাশ মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর বাড়িতে নিয়ে যায়। রাত ২টার দিকে দাফন কাজ শেষ হয়। এ সময় মানিক পশারীর স্ত্রী সন্তান সহ স্থানীয়রা উপস্থিত ছিলেন।
পিরোজপুর জেলা জামাতের সহকারী সেক্রেটারি আব্দুর রাজ্জাক বলেন, মানিক পশারীর লাশ দাফনে পিরোজপুর জেলা জামাতের নেতৃবৃন্দ এবং অঙ্গ সংগঠনের কোন নেতৃবৃন্দ কোন প্রকার বাঁধা সৃষ্টি করেনি। জামায়াতে ইসলামীর নেতৃবৃন্দ লাশের রাজনীতি করে না। তাই পিরোজপুর সদর থানা পুলিশকে পুরোপুরি সহায়তা করে লাশ দাফন কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে।
পিরোজপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: শরিফুল ইসলাম বলেন, পুলিশের নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর লাশ দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে। পরবর্তীতে কোন প্রকার অপ্রিতিকর ঘটনা না ঘটে সে জন্য কবরের পাশে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
এর আগে বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর বোন মোছাম্মৎ রিনা আক্তার বলেন, “আমার ভাই মারা গেছেন। প্রথমে আমরা তাঁকে দাফনের জন্য পিরোজপুরে নিয়ে আসি। কিন্তু দাফন করতে না পারায় আমরা বিপাকে পড়ি। এখন দাফনের প্রস্তুতি নিচ্ছি,নিজ বাড়িতেই কবর খুঁড়ছি।”
উল্লেখ্য, বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারী (৮৭) পিরোজপুর সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের চিতলিয়া গ্রামের ৭ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা। তিনি জামায়াত নেতা মাওলানা দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতা বিরোধী অপরাধের মামলার অন্যতম সাক্ষী ছিলেন। ২০২৪ সালে আগস্টে ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থানের পরে তিনি যশোরে ও গোপালগঞ্জে পলাতক ছিলেন। শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া এলাকায় মেয়ের শ^শুর বাড়িতে তাঁর মৃত্যু হয় বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন। দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকার পর তিনি সেখানে অবস্থান করছিলেন। ২ মাস ধরে অসুস্থ হয়ে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি