রবিবার ● ২৫ অক্টোবর ২০২৬
   
শিরোনাম:
● বিচ্ছেদের পরও প্রাক্তনের প্রোফাইলে কেন চোখ যায়?      ● ভ্রমণে হোটেল বুকিংয়ের আগে যে বিষয়গুলো জরুরি      ● ১ নভেম্বর খুলছে সেন্টমার্টিন, বাড়ছে পর্যটক সংখ্যা      ● ২১৭ বোতল ভারতীয় মদসহ গ্রেপ্তার ৫      ● বান্দরবানে প্রবারণা পূর্ণিমা উপলক্ষে মিনি ম্যারাথন      ● ছাত্রীকে ধর্ষণ, ইমামের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড      ● যে দ্বীপে ৬৯ দিন সূর্য ডোবে না      ● সরকারি স্টোরে ভাড়াটিয়া, ৬ বছর বিদ্যুৎ বিল দিচ্ছে সরকার      ● ডিসেম্বরে হাসিনার ফেরার গুঞ্জন, যা বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী      ● চুয়াডাঙ্গায় দুঃস্থ ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মাঝে অনুদানের চেক বিতরণ      ● অবশেষে পুলিশের নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে নিজ বাড়িতে মানিক পশারীর লাশ দাফন      ● দুবাইয়ে প্রবাসীর ৯৬ লাখ টাকা চুরি, অর্থের ভাগ নেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার ইউপি চেয়ারম্যান      
সরকারি স্টোরে ভাড়াটিয়া, ৬ বছর বিদ্যুৎ বিল দিচ্ছে সরকার
প্রতিনিধি, কিশোরগঞ্জ
প্রকাশ: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:১৮ পিএম

সরকারি দপ্তরের স্টোর একটি প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার কেন্দ্র। সরকারি অর্থে কেনা যন্ত্রপাতি, আসবাবপত্র, নির্মাণসামগ্রীসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম যথাযথভাবে সংরক্ষণ, ব্যবহার ও হিসাব সংরক্ষণের দায়িত্ব স্টোরের ওপর ন্যস্ত। এসব সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা যেমন সরকারি অর্থের অপচয় রোধে জরুরি, তেমনি স্টোরের জায়গা ও সুযোগ-সুবিধার ব্যক্তিগত ব্যবহার কিংবা দায়িত্ব পালনে অনিয়ম সরকারি সম্পদের সুরক্ষা ও জবাবদিহি নিয়েও তুলতে পারে প্রশ্ন!

তা জেনেও কিশোরগঞ্জ জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের স্টোর কিপার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) শাহাদাৎ হোসেন স্টোরকে ব্যক্তিগত সম্পদ হিসেবে দীর্ঘদিন যাবৎ ব্যবহার করে আসছেন। পাশাপাশি দীর্ঘ ছয় বছর যাবৎ সরকারি চাকরিজীবীর পাঁচ সদস্যের একটি পরিবারকে ভাড়ায় থাকতে দিয়েছেন তিনি। যদিও সরকারি মালামাল সংরক্ষণের জন্য নির্ধারিত এবং ‘বিনা অনুমতিতে প্রবেশ নিষেধ’ লেখা থাকলেও সেখানে বহিরাগত পরিবারের বসবাস চলছে বছরের পর বছর।

সবচেয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে বিদ্যুৎ বিল নিয়ে! পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য অনুযায়ী, তাঁদের দৈনন্দিন ব্যবহারের বিদ্যুতের বিল পরিশোধ করতে হয় না। সংশ্লিষ্ট নথিপত্র অনুযায়ী, বিদ্যুৎ বিল সরকারের তহবিল থেকে পরিশোধ করা হচ্ছে। ফলে সরকারি স্থাপনায় বহিরাগত ভাড়াটিয়াকে ব্যক্তিগতভাবে থাকার সুযোগ দেওয়ার পাশাপাশি আবাসিক কাজে ব্যবহৃত বিদ্যুতের ব্যয়ও সরকারি কোষাগার থেকে দেওয়া যায় কি না, তা নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন।

ভাড়াটিয়া পরিবারটি বিনামূল্যে সরকারি বিদ্যুৎ ব্যবহারের সুযোগে তিনটি রুমে ব্যবহৃত লাইট, ফ্যান, ফ্রিজ, কাপড় ইস্ত্রি করার জন্য আয়রন ব্যবহার করা ছাড়াও তিন বেলা রান্নার জন্যও ব্যবহার করতেন বৈদ্যুতিক চুলা।

ভাড়াটিয়ার ভাষ্য অনুযায়ী, স্টোর কিপার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) শাহাদাৎ হোসেনের শ্বশুরবাড়ির দিকের আত্মীয় হওয়ায় পরিবারটিকে সেখানে থাকার সুযোগ দিয়েছেন তিনি। এ জন্য তাঁদের কাছ থেকে নেওয়া হতো না কোনো ভাড়া। একই সঙ্গে তাঁদের ব্যবহৃত বিদ্যুৎ বিলও পরিশোধ করতে হতো না।

স্টোর কিপার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) শাহাদাৎ হোসেন বলেন, তাঁরা আমার শ্বশুরবাড়ির দিক দিয়ে আত্মীয়, তাই তাঁদের থাকতে দিয়েছি। তাঁদের কাছ থেকে কোনো ভাড়া নেওয়া হয় না। তাঁরা সরকারি বিদ্যুৎই ব্যবহার করছেন, তাই তাঁদের কোনো বিদ্যুৎ বিলও দিতে হচ্ছে না।

বিদ্যুৎ বিল প্রসঙ্গে শাহাদাৎ হোসেন বলেন, আগেও যারা সেখানে থাকতেন, তাঁরাও বিদ্যুৎ বিল দিতেন না, তাই আমিও দিচ্ছি না।

প্রশ্ন থেকে যায়, ভাড়াটিয়া পরিবারে একজন সরকারি চাকরিজীবী থাকা সত্ত্বেও কেন পরিবারটি অন্যের দয়ায় বসবাস করবেন!

সরকারি স্টোরে পরিবারটির বসবাসের বিষয়টি নির্বাহী প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান জানেন বলে দাবি করেছেন ওই পরিবারের সদস্যরা। একই দাবি করেছেন স্টোর কিপার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) শাহাদাৎ হোসেনও। তাঁর শ্বশুরবাড়ির দিকের আত্মীয় হওয়ায় পরিবারটিকে সেখানে থাকার সুযোগ দিয়েছেন বলে স্বীকার করে শাহাদাৎ হোসেন বলেন, ‘নির্বাহী প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান স্যারও বিষয়টি জানেন।’

অন্যদিকে, নির্বাহী প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান বলেছেন, স্টোরে লোকজন বসবাস করেন, তা তিনি দেখেছেন, তবে কারা সেখানে থাকেন, সে বিষয়ে তিনি জানেন না। সরকারি বিদ্যুৎ ব্যবহারের কোনো সুযোগ নেই উল্লেখ করে তিনি বিষয়টি তদন্ত করে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন।

পরিবারের সদস্য ও স্টোর কিপারের বক্তব্যের সঙ্গে নির্বাহী প্রকৌশলীর বক্তব্যে এই অমিলের কারণে প্রশ্ন উঠেছে, সরকারি স্টোরে দীর্ঘ ছয় বছর ধরে পরিবারটির বসবাসের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কতটা জানত। একই সঙ্গে, আবাসিক ব্যবহারের অনুমোদন না থাকা সত্ত্বেও কীভাবে সেখানে বসবাস চলেছে এবং পরিবারের ব্যবহৃত বিদ্যুতের বিল সরকারি তহবিল থেকে পরিশোধ করা হয়েছে, তা তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন।

উল্লেখ্য, এর আগেও অভিযোগের ভিত্তিতে স্টোর কিপারের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত করা হয়েছিল। কিন্তু তদন্তে কী পেয়েছিল, জানতে চাওয়া হলে এড়িয়ে যান নির্বাহী প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান।

সরকারি স্থাপনায় আবাসিকভাবে বসবাসের অনুমোদন, সরকারি সম্পদের ব্যবহার এবং বিদ্যুৎ বিল পরিশোধের হিসাব যাচাই করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। বিশেষ করে সরকারি তহবিল থেকে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করা হলে ওই বিদ্যুতের কতটুকু দাপ্তরিক কাজে এবং কতটুকু আবাসিক কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে, তা নির্ধারণ করা জরুরি বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।





স্বদেশ প্রতিদিন/এফএইচ






Loading...
Loading...
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ  
অনুসরণ করুন
     
সম্পাদক মণ্ডলীর সভাপতি : ড. এম এ কাইয়ুম, সম্পাদক ও প্রকাশক : মোঃ মজিবুর রহমান চৌধুরী
স্বদেশ গ্লোবাল মিডিয়া লিমিটেড -এর পক্ষে প্রকাশক কর্তৃক সিটি পাবলিশিং লি, আর কে মিশন রোড, ঢাকা-১২০৩ থেকে মুদ্রিত ও ১০, তাহের টাওয়ার, গুলশান সার্কেল-২ থেকে প্রকাশিত।
ফোন: ৯৮৫১৬২০, ৮৮৩২৬৪-৬, ফ্যাক্স: ৮৮০-২-৯৮৯৩২৯৫। ই-মেইল : [email protected], [email protected]
🔝
close