
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে জেলা পরিষদ, ময়মনসিংহ উদ্যোগে পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দ ও হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় ও চেক বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে গফরগাঁও উপজেলা ও দক্ষিণ গফরগাঁও উপজেলার এলাকার ১টি মন্দির ও ২০টি সার্বজনীন পূজা মন্ডপের নেতৃবৃন্দের মাঝে আর্থিক সহায়তার চেক বিতরণ করা হয়েছে।
রোববার (১৮ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১১টায় গফরগাঁও উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে চেক বিতরণ করেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও ময়মনসিংহ জেলা পরিষদের প্রশাসক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স।
অনুষ্ঠানে গফরগাঁও উপজেলা ও দক্ষিণ গফরগাঁও উপজেলার এলাকার মন্দির ও পূজা মন্ডপগুলোতে শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপনের জন্য মোট ১ লাখ ৫ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়।
ময়মনসিংহ-১০ (গফরগাঁও-দক্ষিণ গফরগাঁও) আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামান বাচ্চু 'র সভাপতিত্বে এবং বিএনপি নেতা শেখ মোঃ ইসহাকের সঞ্চালনায় মতবিনিময় সভা ও চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন গফরগাঁও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ মাহফুজুর রহমান, দক্ষিণ গফরগাঁও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নুরুল হুদা মনিব, গফরগাঁও থানার ওসি মোঃ মনিরুজ্জামান সেখ, বিএনপি নেতা মোঃ ফজলুল হক, আব্দুস সালাম বেপারী, শাহ আব্দুল্লাহ আল মামুন, উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি দিলীপ কুমার রায়, সাধারণ সম্পাদক শ্রী অনিল রায়, গনমাধ্যম কর্মীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব, ময়মনসিংহ জেলা পরিষদের প্রশাসক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, এবারের দুর্গাপূজা বিএনপি সরকারের আমলের প্রথম পূজা। সরকার পূজার সার্বিক বিষয়ে বিশেষ নজর রাখছে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার সকল ধর্মের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে একসঙ্গে দেশ গঠনে কাজ করছে এবং সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। তিনি বলেন, “বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। আবহমানকাল থেকেই এখানে সব ধর্মের মানুষ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে নিজ নিজ ধর্মীয় উৎসব উদযাপন করে আসছে।”
দুর্গাপূজা যেন নির্বিঘ্নে ও আনন্দঘন পরিবেশে সম্পন্ন হতে পারে, সেজন্য সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করা হচ্ছে উল্লেখ করে অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামান বাচ্চু এমপি বলেন, প্রতিটি পূজা মন্দিরকে সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আমাদের সম্প্রীতি ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার বন্ধন অটুট রাখতে এবং সুযোগ-সন্ধানীরা যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে, সেজন্য সকলকে একসঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি হাজার বছরের ঐতিহ্য। সনাতন ধর্মাবলম্বীরা এ দেশের নাগরিক। প্রতিটি ক্ষেত্রে তাঁদের সম–অধিকার।
এ সহায়তা পাওয়ার পর উপজেলার পাঁচবাগ ইউনিয়নের আমাটিয়া গ্রামের শাঁখচূড়া- আমাটিয়া সার্বজনীন দুর্গাপূজা মন্ডপ পরিচালনা কমিটির সেক্রেটারি নিখিল চন্দ্র দাস বলেন, পূজা আয়োজনে প্রতিমা তৈরি থেকে শুরু করে অতিথিদের আপ্যায়নসহ বিভিন্ন কেনাকাটায় বেশ খরচ হয়ে থাকে। এই অনুদান অনেকটা সহায়ক হবে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি