প্রকাশ: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:২৩ পিএম

কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার জরইন গ্রামে কৃষিজমি ধ্বংস করে অবাধে মাটি ও বালু উত্তোলনের মহোৎসব চলছে। শক্তিশালী ড্রেজার মেশিন বসিয়ে অপরিকল্পিতভাবে গভীর খাদ তৈরি করায় হুমকির মুখে পড়েছে আশপাশের বিস্তীর্ণ তিন ফসলি জমি। এ নিয়ে স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। তবে ঘটনার সত্যতা ধামাচাপা দিতে স্থানীয় তহশিলদার বিভ্রান্তিকর তথ্য দিলেও প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায় থেকে বিষয়টি আমলে নিয়ে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দৃঢ় আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
সরেজমিনে ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জরইন গ্রামের অধিকাংশ মানুষ কৃষির ওপর নির্ভরশীল। ধান ও শাকসবজিসহ বিভিন্ন ফসলের উৎপাদনই তাঁদের জীবিকার একমাত্র সম্বল। কিন্তু বেশ কিছুদিন ধরে একটি অসাধু চক্র ব্যক্তিগত স্বার্থে কৃষিজমি সুরক্ষা ও ভূমি ব্যবহারসংক্রান্ত প্রচলিত আইন অমান্য করে শক্তিশালী ড্রেজার দিয়ে দিনরাত মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছে। এতে পার্শ্ববর্তী আবাদি জমি ভেঙে পড়ছে এবং ড্রেজারের পাইপ ও পানির তীব্র চাপে আশপাশের ফসল নষ্ট হচ্ছে। কৃষকেরা বাধা দিতে গেলে উল্টো তাঁদের ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা তাঁদের শেষ সম্বল আবাদি জমি রক্ষায় গত ১১ অক্টোবর বুড়িচং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানভীর হোসেন বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ পেয়ে ইউএনও বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে সরেজমিন তদন্তের জন্য পৌরসভার তহশিলদারকে নির্দেশ দেন।
তবে অভিযোগ উঠেছে, ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর তহশিলদার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে সম্পূর্ণ বিভ্রান্তিকর ও অসত্য তথ্য দেন। তিনি প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, এলাকায় কোনো ধরনের মাটি কাটা হচ্ছে না। এই প্রতিবেদন প্রকাশের পর স্থানীয় কৃষক ও গ্রামবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
পরবর্তীতে গ্রামবাসী পুনরায় ইউএনওর সঙ্গে যোগাযোগ করে মাঠের বাস্তব চিত্র ও প্রামাণ্য চিত্র তুলে ধরেন। স্থানীয়দের তথ্য যাচাই করে ইউএনও তহশিলদারের দেওয়া তথ্যের অসংগতি ও ভ্রান্তি সরাসরি শনাক্ত করেন।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইতিবাচক অবস্থান ব্যক্ত করে স্থানীয়দের আশ্বস্ত করেন যে, কৃষিজমি বিনষ্টকারী কিংবা ভুল তথ্য দিয়ে অপরাধ আড়াল করার অপচেষ্টা বরদাশত করা হবে না। তিনি দ্রুত সময়ের মধ্যে সরেজমিন অভিযান পরিচালনা করে ড্রেজার জব্দসহ জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি দেন।
প্রশাসনের এমন দৃঢ় আশ্বাসে স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরলেও নিজেদের অস্তিত্ব ও শেষ সম্বল আবাদি জমি রক্ষায় অবিলম্বে কার্যকর যৌথ অভিযানের জোর দাবি জানিয়েছেন জরইনবাসী।
স্বদেশ প্রতিদিন/এফএইচ