
কুড়িগ্রামের উলিপুরে চলতি আমন মৌসুমে ধানের জমিতে অস্বাভাবিকভাবে পাতা হলুদ হয়ে শুকিয়ে যাওয়ার ঘটনা দেখা দিয়েছে। উপজেলার ১৩টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় এ সমস্যা ছড়িয়ে পড়ায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা। আক্রান্ত জমিতে ধানের পাতা পোড়া-পোড়া হয়ে শুকিয়ে যাচ্ছে। কোনো কোনো জমিতে পুরো ক্ষেতজুড়েই হলুদাভ রং দেখা দিয়েছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উলিপুরে ২৪ হাজার ৬৬০ হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে হাইব্রিড জাতের ১ হাজার ৫৭০ হেক্টর, উচ্চ ফলনশীল (উফশী) জাতের ২১ হাজার ৮৭৫ হেক্টর এবং স্থানীয় জাতের ১ হাজার ২১৫ হেক্টর জমিতে আমন ধান রোপণ করা হয়েছে।
সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, অনেক জমিতে ধানের পাতা প্রথমে হলুদ হয়ে যাচ্ছে। পরে পাতায় পোড়া-পোড়া ভাব সৃষ্টি হয়ে তা শুকিয়ে যাচ্ছে। আক্রান্ত জমির ধানগাছ স্বাভাবিকের তুলনায় দুর্বল হয়ে পড়েছে বলে জানান কৃষকরা।
উলিপুর পৌরসভার নারিকেলবাড়ী গ্রামের কৃষক হাফিজুর রহমান বলেন, আমাদের অনেক জমিতে এ সমস্যা দেখা দিয়েছে। এখনো কোনো ওষুধ প্রয়োগ করিনি। পুরো জমি না দেখে ক্ষতির পরিমাণ বলা যাচ্ছে না।
একই গ্রামের কৃষক সিরাজুল ইসলাম বলেন,আমার ৪০ শতাংশ জমির প্রায় অর্ধেক হলুদ হয়ে পুড়ে যাচ্ছে। বাজার থেকে বিভিন্ন ওষুধ এনে স্প্রে করেও কোনো কাজ হচ্ছে না। ফলন নিয়ে খুব দুশ্চিন্তায় আছি।
ধামশ্রেণী ইউনিয়নের কাশিয়াগাড়ী গ্রামের কৃষক লাল মিয়ার ২০ শতক এবং ধরণীবাড়ী ইউনিয়নের সাতকুড়ার পাড় গ্রামের কৃষক মজিদ মিয়ার ২৫ শতক জমিতেও একই ধরনের সমস্যা দেখা দিয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকেও ধানের পাতা হলুদ হয়ে শুকিয়ে যাওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
কৃষকদের অভিযোগ, জমিতে রোগ বা পোকার আক্রমণ দেখা দিলেও তা সঠিকভাবে শনাক্ত করতে না পারায় তারা আরও বিপাকে পড়েছেন। মাঠপর্যায়ের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা আক্রান্ত ধানকে ব্যাকটেরিয়াল লিফ ব্লাইট (বিএলবি) বা পাতা ঝলসানো রোগ হিসেবে চিহ্নিত করছেন। তবে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এটিকে বিএলবি নয়, মিলিবাগ বা ছাতরা পোকার আক্রমণ বলে জানিয়েছেন। ফলে রোগের প্রকৃতি নিয়ে কৃষকদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শহিদুল ইসলাম বলেন, এটি বিএলবি নয়, মিলিবাগ বা ছাতরা পোকার আক্রমণ। খরা ও জমিতে পানি না থাকায় এ সমস্যা দেখা দিয়েছে।
তিনি বলেন, আক্রান্ত গাছ তুলে ধ্বংস করতে হবে। পাশাপাশি জমিতে সেচ দেওয়ার এবং অনুমোদিত বালাইনাশক সঠিক মাত্রায় প্রয়োগের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
কৃষকদের আশঙ্কা, দ্রুত আক্রান্ত জমি পরিদর্শন করে সমস্যার সঠিক কারণ শনাক্ত এবং কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে আমন ধানের ফলন ব্যাহত হতে পারে। এতে চলতি মৌসুমে কৃষকরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ার আশঙ্কা করছেন।
স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি