প্রকাশ: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৩৪ পিএম

মিথ্যা পরিচয় দিয়ে দীর্ঘ দিন যাবত ব্যবসায়ীদের নিকট হতে নিয়মিত মাসোহারা গ্রহন ও ভয়ভীতি দেখিয়ে প্রভাব বিস্তার করার অভিযোগ উঠেছে লক্ষ্মীপুর পৌরসভার স্বাস্থ্য সহকারী আবদুল্লা হিল হাকিমের বিরুদ্ধে। তিনি পৌরসভার একজন স্বাস্থ্য সহকারী পদে করমরত থেকেও নিজেকে ‘স্যানেটারি ইন্সপেক্টর ও নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক’ পরিচয় দিয়ে বেড়াতেন।
সম্প্রতি তার বদলির আদেশে ‘স্বাস্থ্য সহকারী’ পদবি উল্লেখ থাকার পর বিষয়টি নিয়ে পৌর শহরের ব্যবসায়ী ও নাগরিকদের মধ্যে আলোচনা ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, আবদুল্লাহ হিল হাকিম নিজেকে স্যানেটারি ইন্সপেক্টর ও নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক পরিচয় দিয়ে গরুর মাংস, মুরগী, খাসির মাংসের দোকান, মাছের বাজার, দুধের বাজার, মিষ্টির দোকান, খাদ্যপণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান, হোটেল-রেস্তোরাঁসহ বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে নিয়মিত মাসোহারা আদায় করতেন। কেউ টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁর বিরুদ্ধে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের কিংবা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার ভয় দেখানো হতো বলেও অভিযোগ করেন ব্যবসায়ীরা।
এ ছাড়াও উক্ত পৌর কর্মচারী বিভিন্ন অভিযানের সময় নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের লোগো সংবলিত পোশাক পরিধান করে প্রসিকিউশন অফিসার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন।
গত ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তাকে রায়পুর পৌরসভায় বদলি করা হলে ওই বদলির আদেশে তাঁর পদবি ‘স্বাস্থ্য সহকারী’ হিসেবে উল্লেখ করা হয় এবং বদলির আদেশের কপি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তার আসল রুপ প্রকাশিত হয়।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, একজন স্বাস্থ্য সহকারী কীভাবে দীর্ঘদিন ধরে স্যানেটারি ইন্সপেক্টর ও নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক হিসেবে পরিচয় দিয়ে দায়িত্ব পালন করলেন? তিনি কোন কর্তৃপক্ষের অনুমোদনে ওই পদবি ব্যবহার করতেন- এ নিয়েও ব্যবসায়ীদের মাঝে দেখা দিয়েছে হাজার প্রশ্ন।
অপর দিকে রায়পুর পৌরসভায় স্বাস্থ্য সহকারী হিসেবে বদলি করা হলেও আবদুল্লাহ হিল হাকিম সেখানে এখনো যোগদান করেননি। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ২০০১ সালে আমি স্বাস্থ্য সহকারী পদে চাকরিতে যোগদান করলেও ২০১৮ সালে স্যানেটারি ইন্সপেক্টর পদে আমার পদন্নোতি হয়। কিন্তু ২০২১ সালে কে বা কারা আমার সার্ভিস বুকে কলম দিয়ে পদন্নোতি কেটে দেয়। পরবর্তীতে ২০২৫ সালে আমার পদন্নোতি পুনর্বহালের জন্য হাইকোর্টে রিট করি। রায়পুর পৌরসভায় যোগদান না করার জন্য যোগদানের উপর স্থগিতাদেশ চেয়ে আদালতে মামলা করেছেন বলেও তিনি জানান। পদন্নোতি স্থগিত হয়ে গেলে কেন তিনি স্যানেটারি ইন্সপেক্টর পরিচয়ে প্রভাব বিস্তার এবং নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শকের পোশাক পরিধান করতেন, জানতে চাইলে তিনি প্রসঙ্গ এড়িয়ে যান এবং সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য বারবার অনুরোধ জানান।
স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি