
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের চাকরির বাজারের উপযোগী করে গড়ে তুলতে আগামী বছরের জানুয়ারি থেকে তিনটি বিশেষ দক্ষতা উন্নয়নমূলক কোর্স চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বিষয়ভিত্তিক শিক্ষার পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, চাকরির উপযোগী দক্ষতা এবং পেশাগত নৈতিকতা ও আচরণ বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে এসব কোর্সে।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ব্রিজিং অ্যাকাডেমিয়া অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি ফর সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট: রিসার্চ এক্সিলেন্স, ইনোভেশন অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়ালাইজেশন’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এ তথ্য জানান বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন।
তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে শুধু বিষয়ভিত্তিক জ্ঞান অর্জন করলেই চাকরির বাজারে সফলতা নিশ্চিত হয় না। একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তি, চাকরির প্রস্তুতি, যোগাযোগ দক্ষতা, পেশাগত আচরণ ও নৈতিকতার মতো বিষয়েও শিক্ষার্থীদের দক্ষ হতে হবে। এ লক্ষ্যেই বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে তিনটি বিশেষ কোর্স চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইউজিসির হায়ার এডুকেশন অ্যাক্সেলারেশন অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশন (হিট) প্রকল্পের অধীনে কোর্সগুলো চালু করা হবে।
কোর্স তিনটি হলো—আইসিটি অ্যান্ড এআই (তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা), এমপ্লয়েবিলিটি স্কিল (চাকরির উপযোগী দক্ষতা) এবং এথিকস অ্যান্ড প্রফেশনালিজম (নৈতিকতা ও পেশাদারত্ব)। এসব কোর্স শিক্ষার্থীদের একাডেমিক জ্ঞানের পাশাপাশি আধুনিক কর্মক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনে সহায়তা করবে বলে জানান তিনি।
অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন বলেন, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে শিক্ষা খাতের আধুনিকায়নের পাশাপাশি তৃতীয় ভাষা শিক্ষা, শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে সহযোগিতা এবং শিক্ষার আন্তর্জাতিকীকরণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তৃতীয় ভাষা শেখার সুযোগ তৈরি হলে শিক্ষার্থীদের দেশীয় ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা বাড়বে। একই সঙ্গে বিদেশি প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন দেশের মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ সহজ হবে এবং আন্তর্জাতিক শিক্ষা ও কর্মক্ষেত্রে সুযোগ সম্প্রসারিত হবে।
তরুণদের কর্মসংস্থান ও দক্ষতা বৃদ্ধিতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের সঙ্গে কর্মসংস্থান, উদ্যোক্তা সৃষ্টি, প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং শিল্পখাতের চাহিদার সমন্বয় ঘটানো জরুরি।
তিনি জানান, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে প্রযুক্তি খাতে প্রতিবছর দুই লাখ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি স্টার্টআপ ও তরুণ উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করতে ৫০০ কোটি টাকার স্টার্টআপ ফান্ডের প্রস্তাব করা হয়েছে। একই অর্থবছরে শিক্ষা খাতে ১ লাখ ৩৬ হাজার ৬০৬ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ২ শতাংশ। আগামী পাঁচ বছরে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
ইউজিসি সদস্য বলেন, তরুণদের শুধু চাকরিপ্রার্থী হিসেবে নয়, চাকরি সৃষ্টিকারী হিসেবেও গড়ে তুলতে হবে। এ জন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ইনোভেশন হাব, ইনকিউবেশন সেন্টার, স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম এবং শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কার্যকর যোগাযোগ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তরুণ উদ্যোক্তাদের সহায়তায় বাংলাদেশ ব্যাংকের উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক সম্প্রতি ‘ইউডিওয়াইওজি—উপজেলা-ড্রিভেন ইয়ুথ অপরচুনিটি ফর গ্রোথ’ কর্মসূচি চালু করেছে। এর আওতায় উপজেলা পর্যায় থেকে সম্ভাবনাময় তরুণ উদ্যোক্তাদের চিহ্নিত করে অর্থায়ন, প্রশিক্ষণ, পরামর্শ ও বাজার সংযোগের সুযোগ দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।
তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, কর্মসূচির আওতায় নির্বাচিত উদ্যোক্তারা ব্যবসায়িক প্রয়োজন অনুযায়ী সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থায়ন পেতে পারেন। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা ব্যাংকঋণ এবং সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা অনুদান হিসেবে দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। জামানত ছাড়াই অর্থায়নের পাশাপাশি উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ, পরামর্শ ও বাজার সংযোগেও সহায়তা দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের এমনভাবে গড়ে তুলতে হবে, যাতে তাঁরা পরিবর্তনশীল বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নতুন দক্ষতা অর্জন করতে পারেন, নিজেদের কর্মসংস্থান তৈরি করতে পারেন এবং অন্যদের জন্যও কাজের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারেন।
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসিওরেন্স সেলের (আইকিউএসি) আয়োজনে অনুষ্ঠিত সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন। এতে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকত আলী। সেমিনারে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষক, শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন।
স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি