
শরীয়তপুর জেলা যুবদলের দপ্তর সম্পাদক পদে আশিক মাদবরকে মনোনীত করাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। আশিক আগে ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কমিটির দপ্তর ও যোগাযোগ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন—এ তথ্য তুলে ধরে তাঁর নাম প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন শরীয়তপুর সদর উপজেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি মো. আক্তার হোসেন মাঝি।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সন্ধ্যায় যুবদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নয়ন এমপির অনুমতিক্রমে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভূঁইয়ার স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে আশিক মাদবরকে শরীয়তপুর জেলা যুবদলের দপ্তর সম্পাদক হিসেবে মনোনীত করার কথা জানানো হয়। এর প্রতিবাদে শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সকালে সংবাদ সম্মেলন করে তাঁর নাম প্রত্যাহারের দাবি জানান আক্তার হোসেন মাঝি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০২২ সালে ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের শরীয়তপুর জেলা শাখার সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন আশিক মাদবর। এর আগে তিনি সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ২০২৪ সেশনে কেন্দ্রীয় কমিটির কার্যনির্বাহী সদস্য এবং ২০২৫ সেশনে কেন্দ্রীয় কমিটির স্কুল ও কলেজ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। সর্বশেষ ২০২৬ সেশনে কেন্দ্রীয় কমিটির দপ্তর ও যোগাযোগ সম্পাদক ছিলেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
তবে ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের শরীয়তপুর জেলা শাখার সভাপতি ইমন সরদার জানিয়েছেন, ২০২৬ সালের মার্চ মাস থেকে আশিক মাদবরকে সংগঠন থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
আশিক মাদবরের ফেসবুক প্রোফাইলেও ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততার বিভিন্ন ছবি ও ভিডিও রয়েছে। বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন জেলায় কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক হিসেবে অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার ছবিও তাঁর প্রোফাইলে দেখা গেছে।
সংবাদ সম্মেলনে আক্তার হোসেন মাঝি বলেন, ‘গত মাসে জেলা যুবদলের পাঁচ সদস্যের কমিটি হয়েছে। সেখানে আমাদের মতো ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করা হয়নি। ভেবেছিলাম পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে ত্যাগীরা মূল্যায়ন পাবেন। কিন্তু আজ দেখলাম, দলের গুরুত্বপূর্ণ একটি পদে এমন একজনের নাম এসেছে, যিনি ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কমিটির দপ্তর ও যোগাযোগ সম্পাদক ছিলেন। দলের এত ত্যাগী নেতাকর্মী থাকতে কীভাবে অন্য দলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকা একজনের নাম কমিটিতে আসে? এটা আমরা তৃণমূলের নেতাকর্মীরা মেনে নিতে পারি না। অনতিবিলম্বে তাঁর নাম কমিটি থেকে প্রত্যাহার করতে হবে।’
এ বিষয়ে আশিক মাদবর বলেন, ‘একটা সময় ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গে ছিলাম, পরে অব্যাহতি নিয়েছি। জুলাই যোদ্ধা হিসেবে দল আমাকে সম্মানিত করেছে। আমি সেই সম্মান রাখতে চাই, ইনশাআল্লাহ।’
অন্যদিকে, শরীয়তপুর জেলা যুবদলের সভাপতি জামাল উদ্দিন বিদ্যুৎ বলেন, ‘ছেলেটি শিক্ষিত ও ভদ্র। তার যোগ্যতা বিবেচনা করেই কেন্দ্র থেকে তাকে দপ্তর সম্পাদক পদ দেওয়া হয়েছে। তবে তিনি অন্য কোনো দলের রাজনীতির সঙ্গে ছিলেন, এমন তথ্য আমি শুনিনি।’
আশিক মাদবরকে পদ দেওয়ার বিষয়ে যুবদলের স্থানীয় নেতাদের একাংশের আপত্তি এবং তাঁর অতীত রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্কের মধ্যে জেলা কমিটির এ সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনা চলছে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি