
বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের জাতীয়করণের দাবি বর্তমান সরকারের আমলেই বাস্তবায়িত হতে পারে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি বলেন, ‘আজ হোক, কাল হোক বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের জাতীয়করণ হবেই।’
বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোট আয়োজিত এক সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
দীর্ঘদিন ধরে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা জাতীয়করণের দাবি জানিয়ে আসছেন। তাদের দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে মীর শাহে আলম বলেন, শিক্ষকদের পদমর্যাদা ও জীবনমান উন্নয়নের স্বার্থে তিনি এ দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করছেন। বর্তমান সরকারের আমলেই শিক্ষক-কর্মচারীদের জাতীয়করণের দাবি বাস্তবায়িত হতে পারে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
মীর শাহে আলম বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে শিক্ষকদের বেতন-ভাতা, পেনশন ও মান-মর্যাদা বৃদ্ধিতে বিভিন্ন সময়ে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় বর্তমান সরকারের আমলেও শিক্ষক-কর্মচারীদের জাতীয়করণের দাবি বাস্তবায়নের আশা রয়েছে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের উদ্যোগের কথা জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাদে ৫ দশমিক ৫ কিলোওয়াট ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল স্থাপনের জন্য আর্থিক সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানগুলোর বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণের পাশাপাশি ছুটির দিন ও অতিরিক্ত সময়ে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে বিক্রি করে মাসে ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় করা সম্ভব হবে।
বর্তমান সরকারের আমলে শিক্ষা বাজেট তিন গুণ এবং স্বাস্থ্য বাজেট দ্বিগুণ করা হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। শিক্ষকদের সামাজিক মর্যাদার কথা তুলে ধরে মীর শাহে আলম বলেন, শিক্ষক এমন একটি পেশা, যার মাধ্যমে অন্য সব পেশার মানুষ তৈরি হয়। সমাজের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে শিক্ষকদের মর্যাদা ক্ষুণ্ন করে এমন অপপ্রচারের বিরুদ্ধে সবাইকে একসঙ্গে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।
সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের বয়স সাত মাস। দীর্ঘ আন্দোলনের পর অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার দায়িত্ব নিয়েছে এবং শিক্ষা খাত পুনরুজ্জীবিত করতে কাজ করছে। আর্থিক সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও ২০২২ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত অবসরে যাওয়া প্রায় এক লাখ শিক্ষক-শিক্ষিকার ভাতা দেওয়ার জন্য ইতোমধ্যে ২ হাজার কোটি টাকার বিশেষ তহবিল গঠন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
জাতীয়করণের দাবির বিষয়ে শিক্ষকদের উদ্দেশে মীর শাহে আলম বলেন, এ জন্য বছরে অতিরিক্ত ৭০০ থেকে ৮০০ কোটি টাকা প্রয়োজন হতে পারে। শিক্ষকদের বড় পরিসরে জাতীয় সমাবেশ করে মানবিক ও গণতান্ত্রিক উপায়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে তাদের দাবি তুলে ধরার পরামর্শ দেন তিনি।
বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়েও কথা বলেন মীর শাহে আলম। তিনি বলেন, যতদিন পর্যন্ত বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পূর্ণাঙ্গ জাতীয়করণ না হচ্ছে, ততদিন শিক্ষকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণে আইনি বা নীতিগত কোনো বাধা নেই।
সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা ছিল বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর। এ ছাড়া সংসদ সদস্য ও শিক্ষক নেতা অধ্যক্ষ মো. সেলিম ভূঁইয়া, শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের মহাসচিব চৌধুরী মুগীস উদ্দিন মাহমুদ এবং বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির মহাসচিব মো. জাকির হোসেনসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
স্বদেশ প্রতিদিন/এফএইচ