
নগরবাসীর স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত করতে দখল হয়ে থাকা ফুটপাত পর্যায়ক্রমে দখলমুক্ত করার অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন। তিনি বলেন, দখলমুক্ত করা ফুটপাত কেউ আবার দখলের চেষ্টা করলে তাদের বিরুদ্ধেও উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে।
শনিবার (৩ অক্টোবর) রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযান চলাকালে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।
ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, নগরের বিভিন্ন চলাচলের পথ দখল করে মানুষের স্বাভাবিক চলাচলে বাধা সৃষ্টি করা হচ্ছে। কিছু ব্যবসায়ী ও হকার ফুটপাত দখল করে চকি-মাচা ও বিভিন্ন স্থাপনা বসিয়ে পথচারীদের চলাচলে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছেন।
সম্প্রতি ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের সবচেয়ে বেশি দখল হওয়া এলাকাগুলোর একটি ১০ নম্বর থেকে হোপ মার্কেট পর্যন্ত ফুটপাত দখলমুক্ত করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এ কাজে এলাকার সাধারণ মানুষ সহযোগিতা করেছেন।
ফুটপাত দখলমুক্ত করার পর সাধারণ মানুষের ইতিবাচক প্রতিক্রিয়ার কথাও উল্লেখ করেন শফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, অনেকে জানিয়েছেন, ১৩ থেকে ২০ বছর ধরে তারা ওইভাবে ঢাকার রাস্তায় হাঁটতে পারেননি। ফুটপাত দখলমুক্ত করার উদ্যোগকে তারা স্বাগত জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, যেসব এলাকায় ফুটপাত দখল করে রাখা হয়েছে, পর্যায়ক্রমে সেসব জায়গাতেও অভিযান পরিচালনা করা হবে। এ কার্যক্রম চলমান থাকবে। কেউ পুনরায় ফুটপাত দখলের চেষ্টা করলে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে।
দখলমুক্ত করা ফুটপাত যাতে আবার দখল না হয়, সে জন্য মনিটরিং টিম গঠন করা হয়েছে বলেও জানান ডিএনসিসি প্রশাসক। স্থানীয় জনগণ, সিটি কর্পোরেশন ও ট্রাফিক পুলিশের যৌথ উদ্যোগে গঠিত এই টিম প্রতিদিন সকাল, দুপুর, বিকাল ও সন্ধ্যায় ফুটপাত এলাকায় পর্যবেক্ষণ করছে। পাশাপাশি মাইকিং করে ফুটপাতে কাউকে বসতে না দেওয়ার বিষয়ে প্রচারণা চালানো হচ্ছে।
ডিএনসিসি প্রশাসক জানান, ফার্মগেটসহ বিভিন্ন এলাকায় এখনও কিছু ফুটপাত দখল রয়েছে। এসব এলাকায় আগেও একাধিকবার অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। কিছু জায়গা নিয়ন্ত্রণে এলেও পর্যায়ক্রমে অন্য এলাকাগুলোতেও দখলমুক্ত অভিযান পরিচালনা করা হবে।
ফুটপাত দখল নিয়ে রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ফুটপাত দখলমুক্ত করার উদ্যোগ সিটি কর্পোরেশনই নিচ্ছে। নিজেকে বিএনপির একজন কর্মী উল্লেখ করে তিনি বলেন, নিজের উদ্যোগে সহকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে ফুটপাত দখলমুক্ত করার কাজ করা হচ্ছে।
ফুটপাত দখলমুক্ত করতে কাউকে আগে জানানো প্রয়োজন আছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নগরবাসীর চলাচলের সুবিধা নিশ্চিত করতে যেখানে প্রয়োজন, সেখানে ফুটপাত দখলমুক্ত করা হবে।
দীর্ঘদিনের অবৈধ দখল, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে নিজ নিজ অবস্থান থেকে ঐক্যবদ্ধ থাকার জন্য রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের প্রতিও আহ্বান জানান তিনি।
এ সময় কিছু কুচক্রী মহল সিটি কর্পোরেশন ও সংশ্লিষ্টদের ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টা করছে বলেও মন্তব্য করেন ডিএনসিসি প্রশাসক। এ বিষয়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দলের ভেতরে ও বাইরে যারা দুষ্কৃতিকারী হিসেবে কাজ করছে, তাদেরও ছাড় দেওয়া হবে না।
সাংবাদিকদের সহযোগিতা কামনা করে তিনি বলেন, ফুটপাত দখলমুক্ত করার কার্যক্রম নিয়ে গণমাধ্যমে যেভাবে সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে, একইভাবে জনগণের প্রতিক্রিয়াও তুলে ধরতে হবে। জনগণের প্রতিক্রিয়া প্রকাশ হলে এ বিষয়ে মানুষের মধ্যে আরও সচেতনতা তৈরি হবে।
তিনি আরও বলেন, নগরবাসী সচেতন হলে এবং সিটি কর্পোরেশনকে সহযোগিতা করলে বিভিন্ন এলাকার ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা ও নগরের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা সহজ হবে।
মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের পরিচ্ছন্নতা অভিযানে ডিএনসিসির অঞ্চল-৫-এর সহকারী প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপক, আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা, ডেঙ্গু ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী, রেড ক্রিসেন্ট ও বিডি ক্লিনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া স্থানীয় বাসিন্দা, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী ও সাংবাদিকরাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি