
মাগুরা সদর উপজেলার প্রফুল্ল সিংহ আয়ুর্বেদিক মেডিকেল কলেজ অধ্যক্ষের দুর্নীতির কারণে ভবিষ্যতে কলেজ বিলীন হয়ে যাবে বলে মনে করেন একটি সচেতন মহলের লোকজন। সরকারি ছুটির দিন ও সাপ্তাহিক ছুটি ব্যতীত বছরের প্রতিদিন কলেজ খোলার কথা। কিন্তু তারা কখনো কলেজ খোলে না। পরীক্ষার সময় হলে ফরম ফিলাপ করার সময় খোলে এবং অতিরিক্ত টাকা নেয় ফরম ফিলাপে।
কমিটি এখনো আওয়ামী লীগের আমলের কমিটি চলছে। বহু বছর হলো একই কমিটি চলছে, যার মেয়াদ তিন বছর। ছাত্র-ছাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার কারণে অনেকেই পরীক্ষা দিতে পারে না। তার মধ্যে ঝিনাইদহ জেলার বামনআইল গ্রাম নিবাসী কানাই বিশ্বাসের কাছে থেকে অতিরিক্ত টাকা দাবি করায় তার পড়া বন্ধ হয়ে গেছে।
প্রভাষক মোহিত কুমার সাহা চাপ দিয়ে বিভিন্ন সময় টাকা উঠিয়ে প্রিন্সিপালকে দেয়। বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, মোহিত কুমার সাহা ও বাবুল টাকা ভাগ করে নেয়। ৭১ শতক জমিতে বর্গা ফসলের টাকা কলেজ ফান্ডে জমা দেয় না।
রবিবার সকাল ৮টা থেকে দুপুর ২টা অথবা সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা—এই ৮ ঘণ্টা বৃহস্পতিবার কলেজ খোলা থাকার কথা। কিন্তু সেটা নেই। ফরম ফিলাপের টাকা বোর্ডে পাঠানোর আগে চার থেকে পাঁচ মাস আগে নিজেদের কাছে রাখে এবং পরীক্ষার পরে জমা দেয় অল্প টাকা। ফেল করানোর ভয়ে ছাত্র-ছাত্রী মুখ খোলে না।
ডিএএমএস পাস করার পর বহু ছাত্র-ছাত্রীর প্রচুর টাকা দাবি এবং মেহেদী হোসেন খোকার একরোখা মনোভাব ও অধ্যক্ষের টাকার ধান্দার জন্য পুলিশ লাইনের ডাক্তার হাসান, ঝিনাইদহ জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার বারোবাজারের আসাদ, মাগুরা জেলার পুলিশ লাইন পাড়ার খিজির হাসান ও আরও অনেক ছাত্রসহ বহু ছাত্র-ছাত্রী আজও ইন্টার্নি সনদপত্র পায়নি। এছাড়াও বহু জেলায় ভুক্তভোগী আরও আছে।
মন্ত্রণালয় থেকে অডিট করতে এসে প্রিন্সিপাল অধ্যক্ষ বাবুল হোসেন থেকে প্রভাষক মোহিত কুমার সাহা, প্রভাষক মফিজুর কবির অবৈধ ঘোষণা, যার কারণে পাঁচ থেকে ছয় বছর পর্যন্ত বেতন বন্ধ আছে।
খুলনা বিভাগের একমাত্র আয়ুর্বেদিক কলেজ অধ্যক্ষের স্বেচ্ছাচারিতার কারণে এ কলেজ একসময় বিলীন হয়ে যাবে বলে সচেতন মহল মনে করেন। আজ ১২ বছর পর্যন্ত বাবুল হোসেন দায়িত্বে আছে। অদ্যাবধি ১২ বছর কোনো ছাত্র বৃত্তি, ইন্টার্নির বৃত্তির কোনো টাকা ছাত্র-ছাত্রীকে দেয় না।
তিন বছর আগে মাগুরা জেলা প্রশাসক ও অত্র কলেজের সভাপতি আবু নাসের বেগ ইন্টার্নি বৃত্তির অর্ডার দেন, কিন্তু সে বৃত্তি দেয় না। অথচ সরকার ছাত্র-ছাত্রীদের বৃত্তির টাকা দেয়, না দেখার কেউ নাই।
মাগুরা থেকে প্রকাশিত দৈনিক খেদমত পত্রিকায় ২০২২ সালে মাগুরা জেলা প্রশাসক ডিসি ড. আশরাফুল আলম থাকাকালীন সময়ে শিক্ষক ও কর্মচারী নিয়োগের পরীক্ষা নেওয়া হয়নি। যেখানে প্রভাষক পদে মাগুরা সদর উপজেলার পৌরসভার কাশীনাথপুর গ্রামের মো. ফারুক আহমেদ, শালিখা উপজেলার ধনেশ্বরগাতী ইউনিয়নের সিংড়া গ্রামের শেখর সরকার, মাগুরা শহরের জামরুলতলা গ্রামের এক মেয়েসহ বেশ কয়েকজন আবেদন করেছিল। কিন্তু এই শিক্ষক ও কর্মচারী নিয়োগ পরীক্ষা কখনো নেওয়া হয়নি।
বর্তমান শিক্ষক ও কর্মচারী সম্পূর্ণ অবৈধ উপায়ে চলছে। এছাড়াও প্রতি বছর বোর্ড কর্তৃক বার্ষিক কোয়ালিফাইং পরীক্ষার ৪ ইয়ারের শিক্ষার্থীরা হলসুপার ও শিক্ষকদের সহযোগিতায় সরাসরি বই খুলে ও ফটোকপি করে নকল করে দেখে লিখে পরীক্ষা দেয়। আর ম্যাজিস্ট্রেট পরীক্ষার হলরুমে ৩ ঘণ্টা থাকার কথা, অথচ ৫-১০ মিনিট বা কোনোদিন যায় না।
প্রভাষক সৈয়দ মেহেদী আক্তার খোকা, প্রভাষক মোহিত কুমার সাহা ও পিয়নের বয়স ৬০ বছর প্লাস, তারা এখনও পদে আছে।
প্রফুল্ল সিংহ আয়ুর্বেদিক মেডিকেল কলেজ, মাগুরার অধ্যক্ষ বাবুল হোসেন ও প্রভাষক মোহিত কুমার সাহা লাখ লাখ টাকা প্রতি বছর ছাত্র ও ছাত্রীদের কাছ থেকে অবৈধ উপায়ে আয় করে। তার প্রমাণ হিসেবে আপাতত দুই জনের তথ্য পাঠানো হয়েছে ঢাকায় বোর্ডে। বিস্তারিত ভিডিও ও অডিও কল রেকর্ড।
সবিনয় অনুরোধ, উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করে মাগুরা আয়ুর্বেদিক মেডিকেল কলেজকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করুন।
প্রভাষক মোহিত কুমার সাহার ঝিনাইদহ পাগলাকানাই এলাকার কাঁঠালবাগান গ্রামে আলিশান ২ তলা বাড়ি আছে। একসময় ঝিনাইদহ বাজারে আলু, পটল, তরকারির ব্যবসা করতো সে। কলেজের টাকা আত্মসাৎ করে দুই তলা বিল্ডিং করেছে।
ইতিমধ্যে গত ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ দুপুর ১২টার সময় মাগুরা সাংবাদিক ইউনিয়নের সহ-সভাপতি সাহেব আলী সরেজমিনে কলেজের বারান্দায় তালা মারা ও কলেজ বন্ধ দেখে। এছাড়াও ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ বাবুল হোসেনের ট্রাক, মাইক্রোবাস, পিক-আপ, প্রাইভেট কার ছিল, এগুলোর খোঁজ-খবর পাওয়া যায়।
ঝিনাইদহ জেলার সদর উপজেলার ফুরসন্ধি ইউনিয়নের বামনআইল গ্রামের কানাই বিশ্বাস জানান, ২০১৯ অথবা ২০২০ সালে প্রভাষক মোহিত কুমার সাহা ভর্তির সময় ৫ হাজার টাকা, পরীক্ষার ফরম ফিলাপের সময় ৩২ শত টাকা থেকে ৩৩ শত টাকা নিতো। প্রতি বছর ভর্তি হতে ২৪ শত টাকা থেকে ২৫ শত টাকা নিয়েছে। আর আমাকে কোনো রসিদ দেয়নি। আমার পিসি মার ছেলে অরুপ মজুমদারের কাছ থেকেও প্রচুর টাকা নিয়েছে মোহিত কুমার সাহা।
মাগুরা পুলিশ লাইন পাড়ার খিজির হাসান জানান, ২০২২ সালে ডিএএমএস পাস করে আজও ইন্টার্নি সনদপত্র পায়নি। তার কাছে অতিরিক্ত টাকা দাবি করে বিভিন্ন জিনিস ক্রয় করার কথা বলে প্রিন্সিপাল ও প্রভাষক মোহিত কুমার সাহা। তিনি মাগুরা জেলা প্রশাসকের সুদৃষ্টি কামনা করেন।
এ বিষয়ে কলেজের অধ্যক্ষ বাবুল হোসেনের সঙ্গে সাংবাদিকরা একাধিকবার সরাসরি বা মোবাইল ফোনে কল করে তার বক্তব্য নিতে পারেনি।
কলেজের সভাপতি ও মাগুরা জেলা প্রশাসক ডিসি মোতাকাব্বীর আহমেদ বলেন, প্রফুল্ল সিংহ আয়ুর্বেদিক মেডিকেল কলেজের আমি সভাপতি, বিষয়টা কয়েক দিন আগে জানলাম। তিনি সাংবাদিক ফারুক আহমেদকে লিখিত অভিযোগ দিতে বলেন এবং ব্যবস্থা নেবেন। এছাড়া পরীক্ষার সময় ৩ ঘণ্টা পরীক্ষার হলরুমে ম্যাজিস্ট্রেট থাকার প্রতিশ্রুতি দেন।
বাংলাদেশ বোর্ড অব ইউনানি ও আয়ুর্বেদিক সিস্টেম অব মেডিসিন, ইন্দিরা রোড, ফার্মগেট, ঢাকা চেয়ারম্যান মল্লিকা খাতুন, রেজিস্ট্রার মো. মিজানুর রহমান, বোর্ডের কন্ট্রোলার রুহুল আমীন, ডিজি হেলথ হাসান, বোর্ডের সদস্য আব্দুর রহমান, সদস্য আলমগীরের ওয়াটসঅ্যাপ নম্বরে আপাতত কয়েকটি প্রমাণ ডকুমেন্টস পাঠানো হয়েছে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এফএইচ