
জামায়াতে ইসলামী সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করলেও তাঁর সংসদ সদস্য পদ বহাল রয়েছে। অন্যদিকে বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি পদত্যাগ করেছেন।
দুই ঘটনার তুলনা করে অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেছেন, জামায়াত যা পারেনি, বিএনপি তা পেরেছে। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, গাজী নজরুল ইসলামকে জামায়াতে ইসলামী দল থেকে বহিষ্কার করেছে। তবে শুধু দল থেকে বহিষ্কারের কারণে তাঁর সংসদ সদস্য পদ শূন্য হয়নি। অন্যদিকে ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি পদত্যাগ করেছেন।
তিনি বলেন, ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির পদত্যাগের ফলে তাঁর সংসদ সদস্য পদ শূন্য হবে। সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী স্বেচ্ছায় পদত্যাগ সংসদ সদস্য পদ শূন্য হওয়ার একটি কারণ। অন্যদিকে কোনো সংসদ সদস্যকে শুধু দল থেকে বহিষ্কার করলে তাঁর সংসদ সদস্য পদ শূন্য হয় না।
রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, রাজনৈতিক দল ও রাষ্ট্র পরিচালনায় শৃঙ্খলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাজনৈতিক শৃঙ্খলা ছাড়া একটি দেশে সামগ্রিক শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করা কঠিন। রাষ্ট্রের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রায়ই অভিযোগ থাকে, তারা নিজেদের দলের লোকজনের কোনো অপরাধ আড়াল করেন কিংবা তাদের প্রশ্রয় দেন। মিষ্টির পদত্যাগের ঘটনায় সেই ধরনের প্রশ্রয় না দেওয়ার একটি বার্তা পাওয়া গেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘আপনি যত ভালো কাজই করেন না কেন, আপনার একটা খারাপ কাজ আপনার অনেক ভালো অর্জনকে ম্লান করে দিতে পারে।’
প্রধানমন্ত্রীর অবস্থান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমার ধারণা, প্রধানমন্ত্রী চাচ্ছেন না যে তাঁর এত অর্জনের মধ্যে কেউ কোনো কিছু দিয়ে ম্লান করার সুযোগ পাক। ইটস এ ভেরি ক্লিয়ার মেসেজ।’
অ্যাটর্নি জেনারেলের মতে, এ ঘটনা শুধু একটি দলের নেতাকর্মীদের জন্য নয়, সাধারণ নাগরিকদের জন্যও একটি বার্তা। রাষ্ট্রের ক্ষতি হয়—এমন কোনো কর্মকাণ্ডে কেউ জড়ালে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে সিদ্ধান্তের মুখোমুখি হতে হতে পারে।
এদিকে, অ্যাটর্নি জেনারেল জানিয়েছেন, স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করায় ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি বর্তমান সংসদের মেয়াদে সদস্য পদ হারালেও পরবর্তী সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে এ পদত্যাগ কোনো অযোগ্যতা তৈরি করবে না।
স্বদেশ প্রতিদিন/এফএইচ