প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:১৯ পিএম

ডেঙ্গু ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীর চাপ বেড়েছে শরীয়তপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালে। নির্ধারিত শয্যার তুলনায় রোগীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় অনেককেই হাসপাতালের ফ্লোরে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন রোগী ও তাদের স্বজনরা।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুরে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, ডেঙ্গু ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীদের পাশাপাশি অন্যান্য রোগীদের চিকিৎসা চলছে। রোগীদের অতিরিক্ত চাপ থাকায় বিভিন্ন ওয়ার্ডে নির্ধারিত শয্যার বাইরে ফ্লোরেও রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে নতুন করে ৩ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৭ জন। বর্তমানে ডেঙ্গু আক্রান্ত ১৫ জন রোগী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
অন্যদিকে, একই সময়ে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছেন ১৮ জন। চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১৭ জন। বর্তমানে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন ৪৩ জন।
রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ, রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় অনেককে শয্যার পরিবর্তে ট্রেড না পেয়ে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে ফ্লোরে। হাসপাতালের ভিতরে অপরিষ্কার থাকার পাশাপাশি কোনো রোগী সময়মতো চিকিৎসাসেবা পাচ্ছেন না বলেও অভিযোগ তাদের। এতে চিকিৎসা নিতে এসে দুর্ভোগ আরও বেড়েছে বলে জানান তারা।
তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, ডেঙ্গু ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীদের নিয়মিত চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। রোগীর সংখ্যা স্বাভাবিকের তুলনায় বেড়ে যাওয়ায় বিভিন্ন ওয়ার্ডে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে।
শরীয়তপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোহাম্মদ আকরাম এলাহী ঢাকা মেইলকে বলেন, হাসপাতালে বর্তমানে রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। ১৫ জন ডেঙ্গু এবং ৪৩ জন ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগী ভর্তি রয়েছেন। সব মিলিয়ে বর্তমানে হাসপাতালে ৪১৬ জন রোগী চিকিৎসাধীন।
তিনি আরও বলেন, গত ছয় মাসে শরীয়তপুর সদর হাসপাতাল থেকে ২৩৭ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীকে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়েছে।
রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে চাপ তৈরি হলেও রোগীদের চিকিৎসাসেবা অব্যাহত রয়েছে বলে জানান হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
স্বদেশ প্রতিদিন/এফএইচ