
বাগেরহাটের মোংলায় বকেয়া পাওনা টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে এক চাল ব্যবসায়ী ও তার ছেলের বিরুদ্ধে প্রতারণা, গালিগালাজ এবং ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে সাংবাদিক ও প্রেস ক্লাবের নেতার পরিচয় ব্যবহার করে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ করেছেন নৌ-ট্রান্সপোর্ট ব্যবসায়ী মো. ওবায়দুল ইসলাম।
পাওনা টাকা আদায় এবং নিরাপত্তার দাবিতে তিনি সহকারী পুলিশ সুপার (মোংলা সার্কেল), মোংলা প্রেস ক্লাব ও পৌর বিএনপির কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগে ওবায়দুল ইসলাম উল্লেখ করেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে খুলনা থেকে নৌপথে চালসহ বিভিন্ন পণ্য মোংলা বাজারের ব্যবসায়ীদের কাছে সরবরাহ করে আসছেন। ব্যবসায়িক সূত্রে মোংলা বাজারের চালের আড়তদার আতিকুল্লাহর সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
অভিযোগকারীর দাবি, পারিবারিক ও আর্থিক সংকটের কথা জানিয়ে আতিকুল্লাহ বিভিন্ন সময়ে তার মাধ্যমে খুলনা থেকে জামানত ছাড়াই চাল সংগ্রহ করেন। পরবর্তী সময়ে হিসাব পর্যালোচনা করে তিনি দেখতে পান, সরবরাহ করা চালের বিপরীতে আতিকুল্লাহর কাছে তার ৭ লাখ ৪১ হাজার টাকা পাওনা রয়েছে।
পাওনা চাইলেই নানা অজুহাত
ওবায়দুল ইসলামের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বকেয়া টাকা পরিশোধের জন্য তাগাদা দিলেও আতিকুল্লাহ নানা অজুহাতে সময় পার করতে থাকেন। সম্প্রতি আবারও টাকা চাইতে গেলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয় বলে দাবি তার।
অভিযোগে বলা হয়েছে, আতিকুল্লাহর ছেলে এম এম ফিরোজ পাওনা টাকা পরিশোধ না করে ওবায়দুলকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। একই সঙ্গে নিজেকে মোংলা প্রেস ক্লাবের নেতা ও সাংবাদিক হিসেবে পরিচয় দিয়ে ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগও রয়েছে। ওবায়দুলের দাবি, তাকে ভুয়া ও মানহানিকর সংবাদ প্রকাশ এবং মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছে।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী ওবায়দুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে পাওনা টাকা আটকে থাকায় তিনি আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এর মধ্যে হুমকি-ধামকির কারণে তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলেও জানান। তার ভাষ্য, সাংবাদিকতার পরিচয় ব্যবহার করে তাকে হয়রানি করা হচ্ছে। তিনি অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের পাশাপাশি বকেয়া ৭ লাখ ৪১ হাজার টাকা উদ্ধারের এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে মোংলা প্রেস ক্লাবের বর্তমান কার্যনির্বাহী পরিষদের অনেকেই মন্তব্য করেন, কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত অপরাধ বা পাওনা টাকা সংক্রান্ত বিরোধে প্রেস ক্লাবকে ব্যবহার করার সুযোগ নেই। কেউ যদি সংগঠনের নাম ব্যবহার করে কাউকে ভয়ভীতি দেখান বা সাংবাদিকতার পরিচয়ের অপব্যবহার করেন, তার দায় সংগঠন নেবে না। তবে অভিযোগের বিষয়টি নিরপেক্ষ তদন্ত করে দেখা উচিত কতটুকু সত্য।
এ বিষয়ে সহকারী পুলিশ সুপার (মোংলা সার্কেল) মো. রেফাতুল ইসলাম জানান, লিখিত অভিযোগ তারা পেয়েছেন। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হবে।
তিনি বলেন, আইনের দৃষ্টিতে সবাই সমান। পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধের ক্ষেত্রে কাউকে ভয় দেখানো কিংবা কোনো পরিচয় বা ক্ষমতার অপব্যবহারের সুযোগ নেই। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে অভিযোগে অভিযুক্তদের কাছ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্বদেশ প্রতিদিন/এফএইচ