
বাঁশখালীতে রাতের আঁধারে ছাত্রদল পরিচয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধার মার্কেট দখল
চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে রাতের আঁধারে ছাত্রদল নেতা পরিচয়ে এক বীর মুক্তিযোদ্ধার মার্কেট দখল করা হয়েছে। পরে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও জনতার সহায়তায় পুনরায় দখলমুক্ত করা হয়। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত খোরশেদ ও বোরহান নামে দুইজনকে ঘটনাস্থল থেকে গ্রেপ্তার করেছে বাঁশখালী থানা পুলিশ।
এ ঘটনায় মঙ্গলবার মার্কেটের তত্ত্বাবধায়ক (কেয়ারটেকার) মিজানুর রহমান কাজল বাদী হয়ে ছাত্রদল নেতা পরিচয় দেওয়া স্থানীয় রিফাত ও গিয়াস উদ্দিনসহ ৬ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা বেশ কয়েকজনকে আসামি করে বাঁশখালী থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার গভীর রাতে বাঁশখালী উপজেলার পুঁইছড়ি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা সুলতানুল গণি চৌধুরী ওরফে লেদু মিয়ার দুই তলাবিশিষ্ট মার্কেটের দোকান ও বোর্ডিং জোরপূর্বক দখল করে টিনের ঘেরা দেয় রশিদ আহমদ ও তাঁর লোকজন। এ ঘটনার পর থেকে উভয় পক্ষের মধ্যে চরম উত্তেজনা ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা তৈরি হয়। এতে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দেয়।
এদিকে মামলা দায়ের হলে গত মঙ্গলবার দুপুরে বাঁশখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. রবিউল হকের নেতৃত্বে অভিযান পরিচালনা করে জড়িত দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে দখলদারদের উচ্ছেদ করে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও প্রকৃত ব্যবসায়ীদের হাতে দোকানপাট ফিরিয়ে দেওয়া হয়। দখলমুক্ত হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় স্বস্তি নেমে আসে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ছাত্রদল নেতা পরিচয়ে স্থানীয় রিফাত ও গিয়াস উদ্দিনের নেতৃত্বে গত শুক্রবার উপজেলার প্রেমবাজারে বীর মুক্তিযোদ্ধার মার্কেট ঘেরাও করে দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ভবনটি দখল করে নেয়। কয়েকদিন তারা ভবনটি দখলে রাখে। পরে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা মার্কেটটি উদ্ধার করে।
তবে এ ঘটনায় জড়িত গিয়াস উদ্দিন নিজেকে ছাত্রদল নেতা পরিচয় দিলেও তাঁর ফেসবুক আইডিতে বিএনপি-বিরোধী একাধিক কুরুচিপূর্ণ স্ট্যাটাস দেখা যায়। গিয়াস উদ্দিনের ফেসবুক আইডিতে দেখা যায়, তিনি রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম ব্যঙ্গ করে স্ট্যাটাস দেন এবং মির্জা আব্বাসকে নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করেন। বিভিন্ন সময়ে বিএনপির সিনিয়র নেতাদের নামে তাঁর বেশ কয়েকটি ফেসবুক পোস্টের স্ক্রিনশট ফেসবুকে ভাইরাল হয়।
মার্কেটের কেয়ারটেকার ও মামলার বাদী মিজানুর রহমান কাজল বলেন, ‘অভিযুক্ত গিয়াস উদ্দিন বীর মুক্তিযোদ্ধার কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। তাঁর দাবি অনুযায়ী টাকা না দেওয়ায় গত শুক্রবার রাতে লোকজন নিয়ে এসে মার্কেটটি দখল করে নেন। মার্কেটে থাকা আটটি দোকানের প্রায় ৫০ লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যাওয়া হয়। এ ঘটনায় ৬ জনকে আসামি করে চাঁদাবাজি মামলা করা হয়। পরে ব্যবসায়ীরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে ভবনটি উদ্ধার করেন।’
এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা গিয়াস উদ্দিনকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তাঁর মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।
এ বিষয়ে বাঁশখালী থানার ওসি মো. রবিউল হক বলেন, ‘দোকানপাট দখল ও টিনের বেড়া নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে জড়িত দুইজনকে তাৎক্ষণিক গ্রেপ্তার করা হয়। বর্তমানে ওই এলাকায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।’
স্বদেশ প্রতিদিন/এফএইচ