প্রকাশ: বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:১৩ পিএম

দৌড়ানোর সময় প্রতিটি পদক্ষেপে হাঁটুতে শরীরের ওজনের প্রায় তিন থেকে পাঁচ গুণ পর্যন্ত চাপ পড়ে। এ কারণে অনেকের ধারণা, নিয়মিত বা দীর্ঘসময় দৌড়ালে হাঁটুর স্থায়ী ক্ষতি হতে পারে। তবে আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান ও বিভিন্ন গবেষণার তথ্য বলছে, সঠিক নিয়ম মেনে দৌড়ালে হাঁটুর ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা কম; বরং নিয়মিত দৌড় শরীর ও হাঁটুর জন্য উপকারী হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দৌড়ানোর ফলে হাঁটু যে চাপের মুখে পড়ে, শরীর ধীরে ধীরে সেই চাপের সঙ্গে মানিয়ে নেয়। নিয়মিত দৌড়ালে হাঁটুর চারপাশের পেশি শক্তিশালী হয়, হাড়ের ঘনত্ব বাড়তে পারে এবং কার্টিলেজ বা তরুণাস্থিও অস্থিসন্ধিকে সুরক্ষা দিতে সহায়তা করে। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, কর্মহীন বা অলস জীবনযাপনকারীদের তুলনায় শখের বশে নিয়মিত দৌড়ানো মানুষের হাঁটুতে আর্থ্রাইটিস বা ক্ষয়জনিত সমস্যার ঝুঁকি তুলনামূলক কম হতে পারে।
ম্যারাথন দৌড়বিদদের ক্ষেত্রেও শুধু দৌড়ের গতি বা দূরত্বকে হাঁটুর ক্ষয়ের প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হয় না। বরং বংশগত কারণ, আগের কোনো হাঁটুর আঘাত এবং অতিরিক্ত ওজনের মতো বিষয়গুলো আর্থ্রাইটিসের ঝুঁকিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
তবে সবার জন্য দৌড়ের নিয়ম এক নয়। যাদের আগে হাঁটুতে আঘাতের ইতিহাস রয়েছে, আর্থ্রাইটিস আছে কিংবা শরীরের ওজন বেশি, তাদের দৌড়ের দূরত্ব ও তীব্রতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন।
হাঁটু সুরক্ষিত রাখতে হঠাৎ করে দৌড়ের পরিমাণ বাড়ানো উচিত নয়। ধীরে ধীরে সক্ষমতা অনুযায়ী দূরত্ব ও তীব্রতা বাড়ানো ভালো। পাশাপাশি স্কোয়াট, লাঞ্জ ও প্ল্যাঙ্কের মতো ব্যায়ামের মাধ্যমে কোমর, হাঁটু ও পায়ের পেশি শক্তিশালী করা যেতে পারে।
দৌড়ানোর সময় পায়ের মাপ অনুযায়ী মানানসই ও পর্যাপ্ত কুশনযুক্ত জুতো ব্যবহার করাও গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত ব্যবহারে জুতোর কুশন ও গঠন নষ্ট হয়ে গেলে তা পরিবর্তন করা উচিত। কংক্রিটের শক্ত রাস্তার তুলনায় ঘাস, ট্র্যাক বা অ্যাসফাল্টের মতো তুলনামূলক আরামদায়ক জায়গায় দৌড়ানো যেতে পারে।
দৌড় শুরুর আগে কিছুক্ষণ হাঁটা বা হালকা ওয়ার্ম-আপ করে শরীর প্রস্তুত করে নেওয়া ভালো। আর দৌড়ানোর সময় হাঁটুতে ব্যথা অনুভূত হলে তা উপেক্ষা করে চালিয়ে না গিয়ে বিশ্রাম নেওয়া উচিত। দীর্ঘস্থায়ী বা তীব্র ব্যথা হলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি