বিটেশ্বর বাজারের বেহাল সড়ক নিজ অর্থায়নে সংস্কার করছেন সিঙ্গাপুর প্রবাসী বাবুল খন্দকার

কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ বিটেশ্বর বাজারের বেহাল প্রধান সড়ক নিজ অর্থায়নে সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছেন সিঙ্গাপুরপ্রবাসী সমাজসেবক মো. বাবুল খন্দকার। দীর্ঘদিন ধরে বর্ষার পানি ও খানাখন্দে দুর্ভোগ পোহানো ব্যবসায়ী, ক্রেতা, শিক্ষার্থী ও পথচারীদের কথা বিবেচনায় নিয়ে মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দ্বিতীয় দফায় সড়কটির সংস্কারকাজ শুরু করেন তিনি।
বাজার কমিটির তত্ত্বাবধানে প্রায় ৩০০ ফুট দীর্ঘ সড়কটির সংস্কারে ব্যয় হচ্ছে প্রায় দুই লাখ টাকা। বালি ও কংক্রিট ব্যবহার করে সড়কটি মজবুত করতে ভারী রোলার দিয়ে কাজ চলছে। এর আগে ব্যবসায়ী ও বাজার কমিটির অনুরোধে একই সড়ক নিজ অর্থায়নে সংস্কার করেছিলেন বাবুল খন্দকার।
বিটেশ্বর বাজারটি দাউদকান্দি উপজেলার দক্ষিণাঞ্চলের কয়েকটি ইউনিয়নের মানুষের যোগাযোগ ও বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। প্রতিদিন ভোর থেকেই কৃষকদের উৎপাদিত ফসল, দুধ, শাকসবজি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের কেনাবেচায় ব্যস্ত থাকে বাজারটি। বাজারসংলগ্ন এসআর উচ্চ বিদ্যালয়, খানেবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরাও নিয়মিত এ সড়ক ব্যবহার করে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, পর্যাপ্ত পানি নিষ্কাশনব্যবস্থা না থাকায় বর্ষায় সড়কটিতে পানি জমে বড় বড় গর্ত ও খানাখন্দের সৃষ্টি হয়। এতে ব্যবসায়ী, ক্রেতা, শিক্ষার্থী ও সাধারণ পথচারীদের দুর্ভোগে পড়তে হয়। সংস্কারকাজ শেষ হলে এ দুর্ভোগ অনেকটাই কমবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।
বিটেশ্বর বাজার কমিটির সভাপতি-পুত্র ও ছাত্রদল নেতা মো. শাকিল আহমেদ চৌধুরী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির বেহাল অবস্থার কারণে ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ দুর্ভোগে ছিলেন। বাবুল খন্দকার আগেও সড়কটি সংস্কার করেছেন। এবারও তিনি নিজ অর্থায়নে এগিয়ে এসেছেন।
বাজারের ব্যবসায়ী ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিটেশ্বর বাজারের সড়ক সংস্কারের এ উদ্যোগ বাবুল খন্দকারের দীর্ঘদিনের জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডেরই ধারাবাহিকতা। সিঙ্গাপুরে বসবাস করেও তিনি নিজ এলাকার শিক্ষা, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, অবকাঠামো উন্নয়ন ও অসচ্ছল মানুষের সহায়তায় বিভিন্ন সময় এগিয়ে এসেছেন।
তাঁর আর্থিক সহযোগিতায় খানেবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শ্রেণিকক্ষের দেয়ালে শিক্ষামূলক গ্রাফিতি, সিসিটিভি ক্যামেরা, আলোর ব্যবস্থা, খেলাধুলার সামগ্রী ও সুসজ্জিত ওয়াশরুম স্থাপন করা হয়েছে। বিদ্যালয়ের মাঠও মাটি ভরাট করে খেলাধুলার উপযোগী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
নৈয়াইর ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসার প্রধান ফটক নির্মাণে প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকা ব্যয় করেছেন বাবুল খন্দকার। মাদ্রাসা সূত্রে জানা গেছে, নবম ও দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য দুটি ডিজিটাল মাল্টিমিডিয়া শ্রেণিকক্ষ নির্মাণেরও আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
এ ছাড়া স্থানীয় বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা, স্কুল-কলেজ ও এতিমখানায় সহযোগিতা, অসচ্ছল পরিবারের জন্য ঘর নির্মাণ, টিউবওয়েল ও স্যানিটারি ল্যাট্রিন স্থাপনে সহায়তা করেছেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। নোয়াদ্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠের জলাবদ্ধতা নিরসনে পাইপ স্থাপন এবং ২০২৫ সালের বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে দাউদকান্দিতে তিন শতাধিক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতেও তাঁর সম্পৃক্ততার কথা জানা গেছে।
জনকল্যাণমূলক এসব কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়েও অবস্থান জানিয়েছেন বাবুল খন্দকার। গত ১৯ সেপ্টেম্বর নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি আসন্ন বিটেশ্বর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে স্থানীয় মানুষের মতামত, পরামর্শ, দোয়া ও সমর্থন চান তিনি।
সিঙ্গাপুরে দীর্ঘ কর্মজীবন শেষে ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে অবসর নিয়ে স্থায়ীভাবে দেশে ফেরার সিদ্ধান্তের কথাও জানান বাবুল খন্দকার। তিনি বলেন, জীবনের বাকি সময়টুকু নিজের এলাকার মানুষের পাশে থেকে তাঁদের সেবায় নিয়োজিত থাকতে চান। নির্বাচিত হলে জনপ্রতিনিধি হিসেবে নয়, একজন ‘সেবক’ হিসেবে মানুষের পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
বাবুল খন্দকার বলেন, ‘মহান আল্লাহ আমাকে যথেষ্ট দিয়েছেন। জীবনের বাকি সময়টুকু নিজের এলাকার মানুষের পাশে থেকে, আপনাদের সেবায় নিয়োজিত থাকতে চাই।’
তাঁর প্রার্থিতা ঘোষণার পর বিটেশ্বর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এর আগে ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডের বাসিন্দারাও তাঁকে দেশে ফিরে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করার আহ্বান জানিয়েছিলেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
বিটেশ্বর বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক নবীর হোসেন ব্যাপারী বলেন, বাবুল খন্দকার দীর্ঘ বছর ধরে মানুষ, মসজিদ, মাদ্রাসা, স্কুল ও রাস্তাঘাটের কাজে সহযোগিতা করে আসছেন।
বাবুল খন্দকার বিটেশ্বর ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রবাসে থেকেও তিনি এলাকার সামাজিক ও দলীয় কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন।
দীর্ঘ প্রবাসজীবন শেষে স্থায়ীভাবে দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত, চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা এবং ধারাবাহিক জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড—সব মিলিয়ে বর্তমানে বিটেশ্বর ইউনিয়নে বাবুল খন্দকারকে নিয়ে নতুন করে আলোচনা চলছে। সর্বশেষ বিটেশ্বর বাজারের বেহাল সড়ক সংস্কারে নিজ অর্থায়নে এগিয়ে আসার মধ্য দিয়ে তাঁর সামাজিক কর্মকাণ্ডের আরেকটি দিক সামনে এসেছে। নির্বাচনে তাঁর চূড়ান্ত অংশগ্রহণ ও রাজনৈতিক অবস্থান দলীয় সিদ্ধান্ত এবং তাঁর নিজের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি