
“গুইমারা ছাত্র-যুবসমাজের গর্ব তিন বীর শহীদকে স্যালুট! জনগণের জন্য যারা জীবন দেন, তাদের স্মৃতি অম্লান”—এই স্লোগানকে সামনে রেখে শহীদ আক্রই, আথুই ও থৈইচিং-এর প্রতি আনুষ্ঠানিক সম্মান প্রদর্শন ও স্মরণসভা করেছে শহীদ স্মৃতি সংরক্ষণ সংসদ ও ছাত্র-জনতা সংগ্রাম পরিষদ। আজ সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬) গুইমারা রামেসু বাজার সংলগ্ন এলাকায় এ স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়।
স্মরণসভায় ছাত্র-জনতা সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি উষাতন চাকমার সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন শহীদ স্মৃতি সংরক্ষণ সংসদের সভাপতি রূপসি চাকমা (শহীদ জুনান চাকমার মা), লক্ষীছড়ি ১নং ইউপি চেয়ারম্যান প্রবীল কুমার চাকমা, লক্ষীছড়ি কার্বারী অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি রতন বিকাশ চাকমা, সুধুঅং মারমা, সাবেক মেম্বার, সিন্দুকছড়ি এবং দূল্যাতলী ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ত্রিলোন চাকমা।
এতে সংহতি জানিয়ে আরও বক্তব্য রাখেন হিল উইমেন্স ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি রেশমি মারমা।
স্মরণসভা শুরুর আগে একটি চৌকস টিম তিন বীর শহীদের প্রতিকৃতি স্থাপন করেন এবং অস্থায়ী স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করা হয়। শহীদ পরিবারের পক্ষ থেকে শহীদ আথৈইপ্রুর মা নুনুমা মারমা ও শহীদ আখ্র মা ক্রাথং মারমা শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করেন। শহীদ স্মৃতি সংরক্ষণ সংসদের পক্ষ থেকে রূপসি চাকমা (শহীদ জুনানের মা) ও শহীদ রুবেলের মা শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করেন।
এছাড়া ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ)-এর সংগঠক অংক্যচিং মারমা, পাহাড়ি ছাত্র পরিষদ (পিসিপি)-এর কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক অনিমেষ চাকমা, হিল উইমেন্স ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি রেশমি মারমা, গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক বরুণ চাকমা, ছাত্র-জনতা সংগ্রাম পরিষদের পক্ষ থেকে উষাতন চাকমা ও অগ্রণী শিশু-কিশোর কেন্দ্রের শিশু-কিশোররা অস্থায়ী স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করেন।
শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন শেষে শহীদদের স্মরণে সাইরেন বাজিয়ে ২ মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। নীরবতা পালন শেষে শপথ বাক্য পাঠ করান সাধারণ শিক্ষার্থী সুমনা মারমা। একই সঙ্গে স্মরণসভায় উপস্থিত ছাত্র-জনতা সবাই কালো ব্যাজ ধারণ করেন।
এতে বক্তারা অতি দ্রুত শহীদ জুনান, রুবেল, অনিক, ধনঞ্জয় ও রামেসু বাজারে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবি জানান। ২০২৫ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর গুইমারা রামেসু বাজারে অগ্নিসংযোগ ও গুলিতে আক্রই, অথুই ও থৈচিং মারমা শহীদ হওয়ার স্মৃতি তুলে ধরে এ ঘটনায় অনেকেই আহত হন বলে জানান।
বক্তারা আরও বলেন, নানান প্রতিকূলতার মধ্যে দিয়ে আমাদের পথ পাড়ি দিতে হচ্ছে। যখন কোনো অন্যায়, দমন-পীড়নের প্রতিবাদ করা হয়, তখন সন্ত্রাসী, বিচ্ছিন্নতাবাদী তকমা দিয়ে আন্দোলন দমনের চেষ্টা করা হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছিলেন যে পার্বত্য চট্টগ্রামে শতভাগ মানবাধিকার দেওয়া সম্ভব নয়। তার একটি উদাহরণ হচ্ছে গুইমারা রামেসু বাজারের ঘটনা।
এতে বক্তারা প্রতিটি ঘটনার ফিরিস্তি তুলে ধরে রামেসু বাজারের অগ্নিসংযোগ-হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করেন। পার্বত্য চট্টগ্রামের সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে খাগড়াছড়ির চিঙ্গিনালায় এক মারমা স্কুলছাত্রী ধর্ষণের সূত্র ধরে প্রতিবাদ করতে গিয়ে এ নৃশংস ঘটনা সংঘটিত হয় দাবি করে ঘটনার এক বছর অতিবাহিত হলেও ঘটনার সঙ্গে জড়িত কাউকেই এখনো গ্রেপ্তার করা হয়নি বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন বক্তারা।
স্মরণসভা থেকে আগামী ১৩ অক্টোবর ২০২৬, পার্বত্য চট্টগ্রামে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের প্রথম শহীদ ভরদ্বাজ মুনির শহীদ দিবসে কনভেনশন অনুষ্ঠান কর্মসূচি ঘোষণা দেওয়া হয়। ছাত্র-জনতা সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক উষাতন চাকমা এ কর্মসূচির ঘোষণা দেন এবং কনভেনশনে সবাইকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান।
স্মরণসভা শেষে সাংস্কৃতিক স্কোয়াডের একটি প্রতিবাদী নাট্যকলা প্রদর্শনের মাধ্যমে শহীদ আক্রই, আথুই ও থৈইচিং-এর শহীদ হওয়ার ঘটনাটি উপস্থাপন করা হয়। এবং শাসকশ্রেণির দালাল সন্তু লারমা ও ধর্ষকদের কুশপুত্তলিকা লাঠিপেটা করে তা পুড়িয়ে ফেলে অগ্রণী শিশু-কিশোর কেন্দ্র (এসিসি)।
স্বদেশ প্রতিদিন/এফএইচ