প্রকাশ: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:১৪ পিএম

নেত্রকোনায় নিখোঁজের ছয় দিন পর নাজু আক্তার খাতুন (৩৪) নামে এক নারীর পুঁতে রাখা লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় তাঁর সাবেক স্বামী মো. নুরুল আমিনকে (৪০) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শুক্রবার রাতে নাজুর ছোট ভাই মো. শুভ বাদী হয়ে নুরুল আমিনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। শনিবার তাঁকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে নুরুল আমিন হত্যার পর লাশ গুম করার কথা স্বীকার করেছেন। নাজু আক্তার নেত্রকোনা পৌরসভার কাটলী গ্রামের মো. ইসলাম উদ্দিনের মেয়ে। আর নুরুল আমিনের বাড়ি নেত্রকোনা সদর উপজেলার নগুয়া কুশলগাঁও গ্রামে।
পুলিশ জানায়, গত ১৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৭টার দিকে নাজু আক্তার নিখোঁজ হন। বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও সন্ধান না পেয়ে তাঁর ভাই শুভ মঙ্গলবার নেত্রকোনা মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরে তদন্তের একপর্যায়ে নুরুল আমিনকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করা হয়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, জিজ্ঞাসাবাদে নুরুল আমিন জানিয়েছেন, ১৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় কীটনাশক কিনতে জেলা শহরে যাওয়ার পর নাজু তাঁকে ফোন করেন। পরে বড়বাজার এলাকায় তাঁদের দেখা হয়। এ সময় নাজু তাঁর মুঠোফোন নিয়ে নিলে দুজনের মধ্যে হাতাহাতি হয়।
এরপর ভরণপোষণের ৬ হাজার টাকা দেওয়ার কথা বলে নাজুকে সঙ্গে নিয়ে প্রথমে রিকশায় রাজুর বাজার এবং পরে মোটরসাইকেলে মৌগাতী ইউনিয়নের খাটপোড়া ব্রিজসংলগ্ন এলাকায় যান নুরুল আমিন।
পুলিশের দাবি, রাত সাড়ে ১০টার দিকে সেখানে টাকা দেওয়া নিয়ে আবারও তাঁদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে নুরুল আমিন নাজুর বুকে আঘাত করেন বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন। পরে তাঁকে পাশের শ্মশানঘাটে নিয়ে ওড়না দিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় বলে তাঁর জবানবন্দির বরাত দিয়ে জানিয়েছে পুলিশ।
এরপর লাশ কাঁধে করে বাড়ির পাশের ঢুকিয়ালী নদীর পাড়ে নিয়ে কোদাল দিয়ে গর্ত করে মাটিচাপা দেওয়ার কথা পুলিশকে জানান নুরুল আমিন। পরে তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সেখান থেকে নাজু আক্তারের লাশ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানায়, প্রায় ১৪ বছর আগে নুরুল আমিন ও নাজু আক্তারের বিয়ে হয়। তাঁদের দুই সন্তান রয়েছে। পারিবারিক কলহের জেরে একাধিকবার তাঁদের বিচ্ছেদ হলেও পরে আবার একসঙ্গে বসবাস করেন। নাজুর করা ভরণপোষণ ও ধর্ষণের একটি মামলাও তদন্তাধীন রয়েছে।
নেত্রকোনা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল খায়ের বলেন, নাজু আক্তারের সাবেক স্বামীকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
স্বদেশ প্রতিদিন/এস পি